প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

কোটি টাকার বাগানে নেই একটি লিচুও

ডেস্ক রিপোর্ট : গাজীপুরের শ্রীপুরে কোটি টাকার লিচু বাগানগুলোতে ভর মৌসুমে একটি লিচুও নেই। চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রবল শিলাবৃষ্টিতে অন্যান্য গাছের সঙ্গে লিচু গাছের মুকুলসহ পাতা ঝড়ে গেছে। অনেক গাছ গোড়া থেকে উপড়ে গেছে।

হাজার হাজার মানুষ এবার লিচু নির্ভর জীবিকা নির্বাহ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। লিচুর মুকুল পরিপক্ক হওয়ার শুরুতেই শিলাবৃষ্টিতে গাজীপুরের শ্রীপুরের বাগান মালিকেরা এমন ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

বিশেষ করে শ্রীপুর পৌরসভা ও তেলিহাটী ইউনিয়নের বাগান মালিকেরা এমন ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন সবচেয়ে বেশি।

একই গ্রামের আলমাছ উদ্দিন জানান, প্রতিবছর কমপক্ষে ১২ লাখ টাকায় লিচু বাগান বিক্রি করতেন তিনি। মৌসুমের শুরুতে আকস্মিক শিলাবর্ষণে তার লিচু বাগানের একটি পাতাও গাছে ঝুলে থাকতে দেখা যায়নি। অনেক গাছ গোড়া থেকে উপড়ে গেছে।

তেলিহাটী ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী গ্রামের নাসির উদ্দিন জর্জ জানান, এমন অবস্থার শিকার হয়েছেন এলাকার সব বাগান মালিক। লিচু বিক্রি করে বছরের সিংহভাগ আয় করে থাকেন শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকার লিচু বাগান মালিকেরা। স্বজন ও প্রতিবেশীদের বিলিয়ে লিচুর এ মৌসুমে এলাকাবাসী উৎসব করতেন। কিন্তু এবার প্রত্যেকটি বাগান মালিককে কাঁদতে হয়েছে। নিজের পরিবারের জন্য একটি লিচুর ফলনও তারা গাছ থেকে পাননি। হাজার হাজার মানুষ এবার লিচু নির্ভর জীবিকা নির্বাহ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া গ্রামের এমদাদুল হক আকন্দ জানান, প্রতিবছর তিনি এক লাখ টাকার বেশি লিচু বাগান বিক্রি করতেন। এবার ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে লিচু বাগানে মুকুল দেখা দিয়েছিল। আর ঠিক এ সময়েই আকস্মিক শিলাবর্ষণে সব গাছের পাতা ঝড়ে গেছে। এর সঙ্গে লিচু গাছগুলোও পাতাবিহীন শুকনো গাছের মতো দাঁড়িয়েছিল।

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার লিচু ব্যবসায়ী সাখাওয়াত ফকির জানান, প্রতিবছর লিচুর মৌসুমে মুকুল অবস্থায় ব্যবসায়ীরা একত্রে শ্রীপুরে প্রায় কোটি টাকার বাগান কিনে রাখতেন। এবার যথাসময়ে এসে নাখোশ হয়ে ফিরে গেছেন। যে শ্রীপুরে কোটি কোটি টাকার লিচু উৎপাদন হতো সে শ্রীপুরের অনেক বাগানই এবার লিচুশূন্য।

কেওয়া গ্রামের লিচু বাগান মালিক রাশেদুল ইসলাম আকন্দ সবুজ জানান, যারা লাখ লাখ টাকার লিচু বিক্রি করতেন এবার তারা নিজেরাই লিচু কিনে খাচ্ছেন। তার বাগানে ওষুধ স্প্রে করার কয়েকদিন পরেই শিলাবৃষ্টি লিচু গাছের পাতা পর্যন্ত ঝড়িয়ে দিয়ে গেছে। এখন কোনো গাছে একটি লিচুও নেই। পাতা ঝড়েছে একবার কিন্তু বাগান মালিকদের চোখের জল এখনও ঝড়ছে। শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, শিলাবৃষ্টির কারণে শ্রীপুর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের নিচে লিচু ফলন হয়েছে। তবে বাগান মালিকদের দেয়া তথ্যমতে ৩০-৪০ শতাংশ। শ্রীপুরে ছোট বড় লিচু বাগানের সংখ্যা প্রায় ৩০০। এ অঞ্চলে ৭২৫ হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এস এম মূয়ীদুল হাসান জানান, লিচু গাছে কেবল মুকুল পরিপক্ক হচ্ছিল ঠিক সে সময়ই শিলাবৃষ্টির কবলে পড়ে লিচুবাগান। শ্রীপুরের উৎপাদিত লিচু স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হতো। এ অঞ্চলের লিচুর স্বাদ ও গন্ধ আলাদা। কিন্তু এবার শিলাবৃষ্টির কারণে বাগান মালিকেরা অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এই ক্ষতি এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে সাময়িকভাবে বড় আঘাত করেছে।

সূত্র : যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত