প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

আইন ভেঙে গৃহায়ন কর্মচারীদের গ্রাচ্যুইটি, সরকারের গচ্চা ২১ কোটি টাকা

বাংলা ট্রিবিউন : আইন ভেঙে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ১৬১ জন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ওয়ার্কচার্জড বা কার্যভিত্তিক কর্মচারীকে গ্রাচ্যুইটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মতামতকেও গুরুত্ব না দিয়ে কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নেই এ সুবিধা দেওয়া হবে। এতে সরকারের ২১ কোটি টাকা গচ্চা যাবে।

গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চাকরির বিধিমালায় বলা আছে, ‘এ বিধিমালা সংস্থাটির সব সার্বক্ষণিক কর্মচারীর জন্য প্রযোজ্য হবে। তবে সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ হতে প্রেষণে নিয়োজিত অথবা চুক্তিভিত্তিক বা খÐকালীন নিয়োজিত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তাদের চাকরির শর্তে এই বিধির কোনো কিছু প্রযোজ্য বলে স্পষ্ট উল্লেখ না থাকলে প্রযোজ্য হবে না।’ গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ওই ১৬১ জন কর্মচারীর চাকরির শর্তে এসবের কোনো কিছুই উল্লেখ নেই।

গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বলছেন, এই কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ী বা অস্থায়ী কোনো ক্যাটাগরিতেই পড়ে না। তারা উন্নয়ন খাতের আওতাভুক্ত। আর গৃহায়নের চাকরি বিধিমালায় কর্মচারীর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘কর্মচারী’ অর্থ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মচারী, অস্থায়ী বা স্থায়ী যা-ই হোক এবং যেকোনো কর্মকর্তাও এর অন্তর্ভুক্ত হবেন। এক্ষেত্রে কার্যভিত্তিক কর্মচারীরা এর আওতায় পড়েন না।

জানা গেছে, গত ১০ মার্চ অনুষ্ঠিত ১৯৭তম বোর্ড সভায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এই কর্মচারীদের গ্রাচ্যুইটি সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থার চেয়ারম্যান মো. রশিদুল ইসলাম। এই কর্মচারীদের প্রত্যেকের মূল বেতন ১০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে ১৬১ জন কর্মচারীর মোট মূল বেতনের বিপরীতে গ্রাচ্যুইটির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২১ কোটি টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, এই কর্মচারীরা তাদের চাকরি স্থায়ী করতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। আন্দোলনকে সফল করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে চাঁদা আদায় করেন এই কর্মচারীদের নেতারা। কিন্তু সরকার তাদের চাকরি স্থায়ী করেনি। পরে তাদের গ্রাচ্যুইটি আদায় করে দেওয়ার কথা বলা হয়। এজন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে এক লাখ টাকা করে প্রায় এক কোটি ৬১ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। বিনিময়ে ২১ কোটি টাকার গ্রাচ্যুইটি আদায় করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে কার্যভিত্তিক কর্মচারীদের গ্রাচ্যুইটি দেওয়ার সিদ্ধাকে আইন বহির্ভুত ও নজিরবিহীন বলে দাবি করেছেন গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, সরকারের রাজস্ব খাতে নিয়মিত কর্মচারীরাই কেবল পেনশন ও গ্রাচ্যুইটি পাওয়ার অধিকারী। তাছাড়া, এ খাতের প্রত্যেক কার্মচারীর মাসিক বেতন থেকে নির্ধারিত হারে প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা কেটে রাখা হয়। ওই টাকার সঙ্গে সরকারি অংশ যোগ করে গ্রাচ্যুইটি দেওয়া হয়। অথচ কার্যভিত্তিক কর্মচারীরা হচ্ছেন উন্নয়ন খাতের আওতাভুক্ত। সরকারি কিছু সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও পেনশন কিংবা অবসরকালীন কোনো ভাতা তারা পান না। এমনকি তাদের বেতন থেকে কখনো প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা কেটে রাখা হয় না। কাজেই তাদের গ্রাচ্যুইটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক ও রহস্য ঘেরা।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে একাধিকবার ফোন করা হলেও সংস্থার চেয়ারম্যান মো. রশিদুল ইসলাম ফোন ধরেননি। পরে বিষয়টি জানিয়ে তার মোবাইলে এসএমএস পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

সম্পাদনা: অশোকেশ রায়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত