প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্ধারিত সময়ে উৎপাদনে যাওয়া নিয়ে সংশয়

শাহীন চৌধুরী: দেশের সর্ববৃহৎ কয়লা ভিত্তিক পয়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিটের নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। চলতি বছর জুন মাসে প্রথম ইউনিটের উৎপাদনে যাবার কথা ছিল। জানা গেছে, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) এর গাফিলতির কারণে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজের ৯০ ভাগ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্র নির্মাণের এই পর্যায়ে এসে যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করার জন্য যে বিদ্যুৎ প্রয়োজন তার সরবরাহ লাইন নির্ধারিত সময়ে নির্মাণে ব্যর্থ হয়েছে পিজিসিবি। ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রর মতো বিশাল কর্মযজ্ঞ যেখানে নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হওয়ার পথে সেখানে একটি বিদ্যুতের লাইন নির্মাণ শেষ না হওয়ায় পিজিসিবি কার্যক্রমের গতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সব অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। ইউনিট-১ এবং ইউনিট-২ এর টারবাইন-জেনারেটর বসানোর কাজও শেষ হয়েছে। ইউনিট-১ এর বয়লার হাইড্রোটেস্ট শেষ হয়েছে, ইন্সুলেশনের কাজ শেষের দিকে। বয়লার-২ এর ইরেকশনের কাজ চলছে। চিমনি, জেটি, পানি সরবরাহ লাইনের কাজও শেষ হয়েছে। কোল ডোম, পানি শীতলীকরণ কেন্দ্র, পানি শোধনাগার, কনভেয়ার বেল্টের কাজও শেষের দিকে। মোট কথা, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কাজ একেবারে শেষের দিকে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (এনডব্লিউপিজিসিএল) এবং চীনের সিএমসি এর যৌথ ম‚লধনে স্থাপিত কোম্পানি বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি (বিসিপিসিএল) গঠন করা হয়। প্রথম ধাপে মোট ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটির ৬৬০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট থাকবে। চীনের এক্সিম ব্যাংকের ঋণ সহায়তায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা কয়লাতে কেন্দ্রটি চালানো হবে। ইতোমধ্যে কয়লা সরবরাহের জন্য চুক্তিও করেছে বিসিপিসিএল।

এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রাংশ পরীক্ষার জন্য পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রর ৫০ মেগাওয়াট লোডের একটি সরবরাহ লাইন নির্মাণের দায়িত্ব পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) এর। গত মার্চে এই সরবরাহ লাইনের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পিজিসিবি গত ১৭ ডিসেম্বরে একটি চিঠি দিয়ে মার্চের মধ্যে কমিশনিং বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি (বিসিপিসিএল) কে জানিয়েছিল। কিন্তু ম‚ল লাইন চালু না করতে পেরে বিকল্প একটি সাবস্টেশন দিয়ে সীমিত পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে পিজিসিবি। কিন্তু বিসিপিসিএল বলছে, এত অল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ দিয়ে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রর বড় কোনও যন্ত্র পরীক্ষা করা সম্ভব নয়।

জানা যায়, পিজিসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুম আল বেরুনী কিছু সমস্যার কথা উল্লেখ করে গত ১৭ ডিসেম্বর দেওয়া বিদ্যুৎ বিভাগকে দেওয়া চিঠিতে বলেন, চলতি বছর মার্চের মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির কমিশনিং পাওয়ার দেওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু, পিজিসিবি এখনও কমিশনিং পাওয়ারের ২৩০ কেভির লাইনটি চালু করতে পারেনি । ফলে বড় যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করতে পারছে না তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির এই পর্যায়ে যেসব প্রকৌশলীর দরকার হয় তারা চীন থেকে এসে বসে রয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে পিজিসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুম আল বেরুনী বলেন, ‘আমরা ৩৩ কেভির (কিলো ভোল্ট) একটি টেমপোরারি (অস্থায়ী) লাইন দিয়েছি। দেড় মাস আগে দিয়েছি। সেটা দিয়ে তারা তাদের ছোটোখাটো কাজ শুরু করেছে। আগামী জুনের মধ্যে আমরা ১৩২ কেভির মেইন লাইনটা করে দেবো। আর ৪০০ কেভির লাইনটি আমরা আগস্টের মধ্যে দিয়ে দেবো। তিনি বলেন, জমি নিয়ে কিছু ঝামেলা তো হয়েছিল। এখন জোরোসোরে কাজ চলছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে পারবো বলে আশা করছি।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ ভিাগের সিনিয়র সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, কাজের গতি বাড়াতে আমি নিজেই এখন প্রতি সপ্তাহে পিজিসিবির কাছ থেকে আপডেট নিচ্ছি। মে মাসের ১৫ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে মেইন যে ১৩২ কেভি লাইন সেটি দেওয়ার কথা ওদের। ওটা হয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে। আগস্ট মাসে মূল ৪০০ কেভির সংযোগ তারা দিতে পারবে বলে আমরা আশা করছি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত