প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যাদের মাত্র বিয়ে হয়েছে, এই লেখা তোমাদের জন্য

নাঈমা নার্গিস : বাংলাদেশি মেয়েটা মিষ্টি বানাতো। রাতের বেলা ওই মিষ্টি বানানোর সময় চুলার উপর বলক উঠতে থাকা সেই মিষ্টির শিরাতেই তার মুখটা চেপে ধরেছিলো তার জামাই। এরপর ছুরির পর ছুরি মেরে, ছুরির পর ছুরি মেরে, ছুরি মারতে মারতে খুন করে ফেললো দুই বাচ্চার মা মেয়েটাকে। মেয়েটা আমার এলাকাতেই থাকতো।

আমার বাসা থেকে তার বাসায় হেঁটে যেতে বড়জোড় কয়েক মিনিট লাগে। মেয়েটার নাম নিরুপমা। না, আমি নিরুপমার গল্প লিখতে বসিনি আজকে। এই স্ট্যাটাস খুব স্পেসিফিক কিছু মেয়েকে উদ্দেশ্য করে লেখা। যাদের মাত্র বিয়ে হয়েছে। এই স্ট্যাটাস তোমাদের জন্য লেখা। আমি জানি এই লেখা পড়ে অনেকেই অনেক রকম মন্তব্য করবেন। তাদের একপাশে রেখে আমি তোমাদের ¯্রফে একটা কথা বলতে চাই।  যদি তোমার মাত্র বিয়ে হয়ে থাকে, আর বিয়ের পরে টের পাও ছেলেটাকে যেমন ভেবেছিলে বা তোমার পরিবার যেমন ভেবেছিলো, ছেলেটা তেমন নয়। যেমন ধরো যদি দেখো ছেলেটার খুব সিরিয়াস পর্নো এডিকশান আছে বা অন্য রিলেশানশিপ আছে বা খুব খারাপ সঙ্গদোষ আছে বা তোমার গায়ে হাত তুলেছে একবারও বা অত্যন্ত শর্ট ট্যাম্পার্ড বা খুবই সন্দেহবাতিক, তোমাকে সারাক্ষণ স্টকিং করে বা এ রকম অনেক কিছু…, যদি দেখো এমন সিরিয়াস কিছু আছে যা নিয়ে সারাজীবন সংসার করার কথা তুমি ভাবতে পারো না, প্লিজ চুপ করে থেকো না। নিজের মাকে বলো, বোনকে বলো, মুরব্বিদেরকে বলো, তারা যদি তোমাকে বিয়ে দিয়ে থাকে তোমার জামাইকে সিধা বানানোর দায়িত্বও তাদের।

আমরা যারা বাংলাদেশি পরিবারে সমাজে বড় হয়েছি, আমাদের মেয়েদের মধ্যে অসম্ভব রকম ইমোশনাল কমপ্লেক্সিটি কাজ করে।  আমরা নিজেদের সমস্যার আগে সমাজের কথা ভাবী। পরিবারের সম্মানের কথা ভাবী! সমাজে নিজের ভাইবোন বাবা-মা’র ইজ্জতের কথা ভাবী! কতো হাজার রকমের ভাবনা ভাবতে আমরা নিজেদের হারিয়ে ফেলি। এটা বললে বাবা হার্ট অ্যাটাক করবে, মা হার্ট অ্যাটাক করবে! এমন কতো রকমের ইমোশনাল চিন্তাভাবনা যে কাজ করে আমাদের মধ্যে। এসব ভেবে ভেবে চুপ করে থাকার ফল বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিরুপমার মতো অমন খুন না হয়ে গেলেও বেঁচে থেকেও প্রতিটা মুহূর্তে বারবার খুন হতে থাকার মতো হয়ে যায় জীবন।

নিজের জন্য নিজে দাঁড়াতে শিখো। তুমি নিজের জন্য নিজে না দাঁড়ালে অন্য কেউ এসে কখনোই তোমার জন্য দাঁড়াবে না। আমি জানি কথাগুলো বলা সহজ, করা কঠিন। কিন্তু জীবনের শুরুতেই যদি নিজের জন্য দাঁড়ানোর কঠিন কাজটা করতে না পারো, সারাজীবন অন্যের সামনে নতজানু হয়েই থাকতে হবে তোমাকে।

একটা কথা মনে রেখো, তুমি তোমার স্পাউসের সঙ্গে সংসার করতে গিয়েছো, পঁচিশ-ত্রিশ বা পঁয়ত্রিশ বছরের বুড়োকে মানুষ করতে যাওনি। যারা তোমাকে এসে বলবে, ও একটু এমনই, তুমি গড়ে পিঠে নিও, তারা তোমাকে অতো বড় দামড়া বেটাকে বাচ্চার মতো পালার কথা বলে। তারা তোমাকে বউ হওয়ার আগেই মা হওয়ার কথা বলে। তাও আবার অসম্ভব একটা রোল, যে রোলে যেই বাচ্চাকে তুমি পালবে সেই বাচ্চাই আবার তোমার জামাই!

আর হ্যাঁ, ভুলেও ভু-লে-ও তাদের পরামর্শ মতো ‘সমস্যার সমাধান করতে বাচ্চা নিয়ে নেয়ার মতো মহাভুল করতে যেও না। পৃথিবীতে বাচ্চা কোনো সমস্যার সমাধান করতে আসে না। যারা তোমাকে একথা বলে, তারা খুব ভালো করেই জানে, একটা মেয়েকে যদি আটকে ফেলতে হয়, একমাত্র তার বাচ্চা দিয়েই আটকানো যায়।  তুমি একলা তোমার ভার বইতে পারবে এভাবে না হোক সেভাবে, কিন্তু বাচ্চা নিয়ে একলা সার্ভাইভ করা আমাদের সমাজ আর রাষ্ট্র শুধু অসম্ভব নয়, অবিশ্বাস্য রকম অসম্ভব করে রেখেছে। ভুলেও জামাইকে শোধরাতে বাচ্চা নিও না। ভুলেও না। এই দু’টো কথা বলতেই এই লেখা।

এক. চুপ করে থেকো না। দুই. ভুলেও জামাইকে শোধরাতে বা সম্পর্ক ঠিক করতে বাচ্চা নিও না। চারপাশের সবাই যদিও তোমাকে যতোই তুমি কিছু বলতে যাবা, ততোই চুপ করে থাকতে বলবে। বলবে সহ্য করে যাও, ঠিক হয়ে যাবে। পুরাই ভুয়া একটা কথা। আমি আমার চারপাশেই সাত-আটজনকে চিনি যাদের উপর তাদের জামাই হাত তুলে। এরপরও কিছু করার নেই। যেহেতু বাচ্চা হয়ে গেছে, আর তাদের বাবার পরিবার কোনোভাবেই তাদের সাপোর্ট দেবে না, তারা আটকা পড়েছে। বাংলাদেশ হোক বা অস্ট্রেলিয়া, একবার বাচ্চা হয়ে গেলে মেয়েগুলোর আর যাওয়ার কোনো জায়গা থাকে না। মানুষ এখন ভাব করে, আমরা যেন অনেক এগিয়ে গেছি, জামাইরা মেয়েদের গায়ে এখন হাত তুলে না, নির্যাতন করে না,  পুরাই ভুয়া ফালতু একটা কথা। এতো বড় ভুয়া কথা খুব কমই আছে।

এমন এমন লোককে আমি বউয়ের গায়ে হাত তুলতে শুনি, যাদের নরমালি কেউ কল্পনাই করবে না লোকটা এমন হতে পারে! আমার কাছে কোনো ইন্টেলেকচুয়াল সমাধান নেই। কিন্তু চারপাশে অনেক তো দেখেছি, চুপ করে থেকে কিছু হয় না। ¯্রফে শুধু নিজে নিজে সারাজীবন কষ্টই পাওয়া হয়। কখনো কখনো নিরুপমার মতো খুন হয়ে যাওয়া হয়। একটাই তো জীবন, এ জীবনে মানুষের মতো বাঁচতে চেষ্টা করো অন্তত! ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত