প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিদ্যাসাগরের মূর্তির মানহানিতে ক্ষোভে ফুঁসছেন ‘মূর্তি ম্যান’

শেখ নাঈমা জাবীন : তিনি ‘মূর্তি ম্যান’। কোথাও মূর্তি ভাঙার কথা শুনলেই ছুটে যান। গত বছর কেওড়াতলা শ্মশান সংলগ্ন উদ্যানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি ভাঙার পরে সেখানেও পৌঁছে গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ঘটনাতেও প্রবল ক্ষুব্ধ তিনি। আনন্দবাজার

মঙ্গলবার স্ত্রী বলেন, খবর দেখে কাল উনি এতই উত্তেজিত যে, ভাঙা হাতেই টেবিল চাপড়াচ্ছেন!’ ফোনের ও পার থেকে শোনা যায়, বৃদ্ধ চিৎকার করছেন, ‘ওরা কী করেছে জানো? বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছে! এত সাহস হয় কী করে?’
বরাহনগরের নৈনানপাড়া লেনের বাসিন্দা ওই বৃদ্ধের নাম মধুসূদন মাজি। আদতে হাওড়ার বাসিন্দা, রেলের প্রাক্তন কর্মী মধুসূদনবাবুকে অনেকেই চেনেন ‘মূর্তি ম্যান’ নামে। রাস্তায় ম‚র্তি দেখলেই দাঁড়িয়ে পড়েন তিনি। দেখে নেন আপাদমস্তক। শরীরের তুলনায় মূর্তির মাথার আকার বড় নয় তো! মূর্তিটি যাঁর, তাঁর নাম এবং জন্ম-র্মত্যুর তারিখ ঠিকঠাক লেখা রয়েছে তো! ভুলচুক কিছু দেখলেই রাজ্যপাল, রাজ্যের বিভিন্ন দফতর এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানদের কাছে প্রতিবাদপত্র পাঠিয়ে দেন তিনি।

মধুসূদনবাবু এ দিন বলেন, ‘ওরা বিদ্যাসাগরকে চেনে না, তা তো নয়। তবু ভেঙেছে। বুঝতে হবে, ইচ্ছে করেই ভেঙেছে। ওরা জানে না, কার গায়ে হাত দিয়েছে।’

মধুসূদনবাবুর স্ত্রী ছায়াদেবী বলছিলেন, ‘সকাল থেকেই জেদ ধরেছেন, বিদ্যাসাগর কলেজে যাবেন। মূর্তিটার কতটা ক্ষতি হয়েছে, কী ভাবে সংস্কার করা যায়, ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে দেখতে চান। অনেক কষ্টে আটকানো গিয়েছে।’
২০১২ সালে এই মদুসূদনবাবুই এক অনুষ্ঠানে রবীন্দ্র সদনে গিয়ে দেখেন, সেই চত্বরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় মূর্তি থাকলেও তাতে লেখা নেই, মূর্তিটি আদতে কার! এ নিয়ে সদনের তৎকালীন অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসারকে চিঠি দেন তিনি। সদন কর্তৃপক্ষ মূর্তির নীচে রবীন্দ্রনাথের নাম এবং জন্ম-মৃত্যুর তথ্য লিখলেও মৃত্যুর তারিখে ভুল ছিল। আবার চিঠি দেন মধুসূদনবাবু। ভুল দ্রæত সংশোধন হয় সেই চিঠি পেয়ে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত