প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্বীকারোক্তি থাকলেও নার্গিস হত্যায় খালাস ৫ আসামি

নুর নাহার : পুলিশের চার্জশিট, দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, এমনকি হত্যার বিবরণী সম্বলিত অডিও রেকর্ড থাকলেও খালাস পেয়েছেন নার্গিস হত্যা মামলার পাঁচ আসামি। বিষয়টিকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।

নার্গিসের পরিবারের অভিযোগ, টাকা ও প্রভাব খাটিয়ে রায় ঘুরিয়েছেন আসামিরা। অস্বচ্ছল এই পরিবারটি এখন বিচার চেয়ে উচ্চ আদালতসহ দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। সময় টিভি

দরিদ্র পরিবারের মেয়ে নার্গিস। ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন বিত্তশালী পরিবারের ছেলেকে। কিন্তু বিষয়টি মানেনি ছেলেটির পরিবার। বিয়ের দুইদিন পর নার্গিসকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে হত্যার পর বস্তায় ভরে ফেলে দেয়া হয় নদীতে।

এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি কওে হত্যা মামলাটি হয়। তাদের দুজন নার্গিসকে কিভাবে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জবানবন্দিতে আসামি মজিদ বলেছিলেন, ‘নার্গিসকে নিয়ে তৈয়ব বাড়ির ভেতরে ঢোকে। আমি তখন বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। একটু পর বাড়ির ভেতরে চিল্লাচিল্লি হচ্ছিলো। দেখলাম, তৈয়ব গলা টিপে ধরেছে নার্গিসের আর মধু পা ধরে আছে। কিছুক্ষণ পরে দেখি, বস্তায় ভরে গাঙ্গের দিকে নিয়ে গেলো।’

অন্য আসামি সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘নার্গিসকে হত্যার পর মধু ও তৈয়ব বস্তায় ভরে পানিতে ফেলে দেয়। তৈয়ব আমাদের হুমকি দেয়, এসব কথা যদি কাউকে বলিস, তাহলে তোদের জীবনও শেষ করে দেব।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে দেয়া আসামি মজিদ ও সাইদুলের এই স্বীকারোক্তিতেই নার্গিসকে হত্যার বিষয়টি পরিষ্কার। এমনকি এ হত্যায় আসামি তৈয়ব ও মধু সরাসরি জড়িত বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন তারা।
নার্গিসের পরিবারের অভিযোগ, এসব তথ্য-প্রমাণের কোনো কিছুই আমলে নেননি আদালত। ফলে পলাতক তৈয়বসহ পাঁচ আসামির সবাই খালাস পান।

নার্গিসের আইনজীবী মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘রায়টি আমার কাছে অস্বাভাবিক বলেই মনে হচ্ছে। হত্যা হয়েছে, এটি সত্যি, যেহেতু দুইজন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তারা বললেন যে, আমরা দেখেছি। এর ভিত্তিতেই সাজা দিতে পারতেন আদালত।’
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারি। অবিচারের শিকার হয়েছে ভিক্টিমপক্ষ।’

নিহত নার্গিসের ভাই বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। তাদের টাকা আছে। তারা যেখানে যেখানে দরকার, টাকা খাওয়াইয়া সবাইকে চুপ করিয়ে দিয়েছেন।’

২০০৮ সালে কুষ্টিয়ার মীরপুর উপজেলায় ঘটে আলোচিত ওই হত্যাকাণ্ড। পুলিশের চার্জশিটও বলছে, দরিদ্র পরিবারের মেয়ে নার্গিসকে মেনে নিতে পারেনি স্বামীর পরিবার। আর এ কারণেই তাকে হত্যা করা হয়। বর্তমানে মামলাটিতে আইনি সহায়তা দিচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের লিগ্যাল এইড কমিটি।

সম্পাদনা: অশোকেশ রায়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত