প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে জনসংখ্যা বাড়ানোর প্রবণতা, বাড়ছে অপরাধ

মুসবা তিন্নি : রাজধানী ঢাকার পান্থপথ। তিন বছরের ছোট্ট মেয়েটি বেলীফুল হাতে পথচারীদের দিকে ছুটছে। দক্ষ হকারের মতো শিশুসুলভ কণ্ঠেই ‘একটা ফুল নেবেন, ভাত খাবো’ বলছে।

এমনটি এখন অহরহ দেখা যাচ্ছে ঢাকার প্রায় সবখানেই। কিন্তু কখনো কি এমন ঘটনার ভেতরের দিকটা কেউ ভেবে দেখেছেন। হয়তো চিরাচরিত দারিদ্র্য আর অসহায়ত্বকেই আমরা দেখে থাকি।

একটু দূরেই তার মা রেখা বসে ছিলো বেলীফুলের ডালা নিয়ে। তিনি জানায়, তার মেয়েটির নাম পুতলি। শুধু তিন বছরের পুতলিই নয়, মায়ের সঙ্গে ছিলো দেড় বছরের ছোট্ট ছেলে শাকিলও। তারা সবাই সন্ধ্যেবেলা বেলীফুল বিক্রি করে বেড়াচ্ছে।

‘এত ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে কেন ফুল বিক্রি করছেন?’- রেখার খুব সাধারণ ও চিরাচরিত স্বাভাবিক উত্তর,‘প্যাটের দায়ে’।
মাত্র ৩৬/৩৭ বয়সী রেখার এই দুই সন্তান ছাড়াও আরো চারটি সন্তান রয়েছে, যারাও বয়সে খুব বড় না হলেও বিভিন্ন ক্ষুদে পেশায় কাজ করছে।

রেখা জানায়, তার স্বামী পঙ্গু ও অসুস্থ। তাই তাকেসহ তার ছোট ছোট বাচ্চাদেরই সংসারের দায়িত্ব পালনসহ স্বামীর চিকিৎসার টাকা আয়ে বাইরে বের হতে হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নানা ধরনের ছোট ছোট জিনিস বিক্রি করেন তারা, যখন যা সম্ভব হয়, আজ বেলীফুল করছে।

‘এতো কম বয়সে কেন ছয় সন্তান নিয়েছেন?’ অবলীলায় রেখা বলেন, ‘যত বাচ্চা তত আয়ের মানুষ।’
সবার বড় মেয়ের বয়স ১৩ বছর। বাকিরা পর পর ছেলে সন্তান, মেয়ে সন্তান মিলিয়ে।
‘বড় মেয়েটিও কি হকারি করে?’- রেখা বলেন, ‘না বড় মেয়েটাকে লেখাপড়া করাই।’

তবে সামনের এটিএম বুথের নিরাপত্তারক্ষী বলে উঠলো, ‘হ্যাঁ, তোর মেয়েকে কেমন লেখাপড়া করাস, তা ভালোই জানা আছে’। লোকটি বলেন, ‘বড় মেয়েকে দিয়ে রেখা দেহব্যবসা করায়। আর অন্য যে তিনটা সন্তান মোটামুটি বড় আছে, তারাও চুরি-ছিনতাইসহ ছোট ছোট অপরাধে জড়িত। এমনকি রেখা নিজেও সন্ধ্যার পর বিভিন্ন হকারি পণ্যের সাথে গাজা-ইয়াবাসহ নেশা জাতীয় দ্রব্য বিক্রি করে।

নিরাপত্তারক্ষীর এমন মন্তব্যে রেখা অকথ্য ভাষায় তাকে গালি দিয়ে সন্তানদের নিয়ে সেখান থেকে চলে গেলো।

নিম্ন আয়ের মানুষেরা এভাবেই বেশিরভাগ জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে সচেতন নয়। কারণ তারা অশিক্ষিত এবং নানা ক্ষুধায় পীড়িত। তারা অসচেতনভাবে আয় বাড়াতে সন্তান জন্ম দিচ্ছে এবং আয়ের জন্য নানা অপরাধে তাদের নিয়োজিত করছে।
তাদের দাবি, জীবন যেখানে বড়ই নির্মম-নিষ্ঠুর, সেখানে ন্যায়-অন্যায় মানাটা দুস্কর হয়ে যায়।
সম্পাদনা: অশোকেশ রায়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত