প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মা ও স্ত্রীকে মূল্যায়ন করুন, বললেন মাওলানা আব্দুল হাই সাইফুল্লাহ

ফাতেমা ইসলাম: সবার আগে আপনার বাড়িতে কে ওঠেন, মা ও স্ত্রী। সবার শেষে কে ঘুমান, আপনার আমার মা ও স্ত্রী। আগে খবর নেন, এগুলো মূল্যায়ন করেন। ইসলাম মূল্যায়নের কথা বলেছে, রমজান এগুলো শিক্ষা দিচ্ছে আপনাকে আমাকে। সকালে তারা সবার আগে উঠছেন খাবারগুলো গরম করছেন, রান্না করছে, সবাইকে ডাকছেন ওঠরে বাপ তাড়াতাড়ি ওঠো। সময় নেই আর। বাচ্চাদের খাবার সাজিয়ে দিয়েছে। আর আমরা খেয়ে ফুটানি করে মসজিদের চলে গেছি নামাজ পড়তে। এমনভাবেই নারীদের মূল্যায়নের কথা ব্যক্ত করেন মাওলানা আব্দুল হাই মোহাম্মাদ সাইফুল্লাহ তার ফেসবুক পাতায়।

ইসলাম যে নারীর সম্মান দিয়েছে তা ব্যক্ত করতে তিনি আরো বলেন, মা এবং স্ত্রী আমাদের খাবার খাওয়ান এবং গুছিয়ে রেখে তবেই নামাজ পড়তে যান। নামাজ পড়ে আবার অন্য সন্তানদের খাওয়াচ্ছে। আর আমরা তো ভিআইপি ঘুমে আছি। রমজানে আরামের মধ্যে আছি রাতে কিন্তু তারাবির নামাজ পড়েছি, আমরা বিরাট ফর্মে আছি। এরপর তারা দুপুরে সন্তানদের খাওয়াচ্ছে, ইফতার বানাচ্ছেন, ইফতার গুছিয়ে দিয়ে আমার আপনার সাথে ইফতার করছেন। আমরা ইফতার করে জামায়াতে চলে যাচ্ছি নামাজ পড়তে কিন্তুু তারা কী করছেন? ইফতারিগুলো গুছিয়ে রাখছেন কারণ আমরাতো পুরোপুরি ইফতারি করে যাই না, কিছু বাকি রেখে যাই। নামাজ পড়ে এসে আবার বাকিটা খাই। তারপর তারাবিতে যাই, তারাবি থেকে এসে আবার তৈরি খাবার পেয়ে যাচ্ছি। সেটা খেয়ে আমি আপনি আরাম করতে চলে যাচ্ছি মোবাইল নিয়ে ইন্টারনেটের জগতে, আবার টিভিও দেখছি।

আর সে রান্নার জিনিসপত্র গুছিয়ে আবার জোগাড় করছেন। খেয়াল করে দেখেন, আপনার আমার মা, স্ত্রী, বোন আপনার আমার জন্য কি করছেন এই মানুষগুলার জন্য আপনি কি দিয়েছেন, তাদের আপনি কি মনে করেছেন। তাদেরকে বিয়ে করে নিয়ে আসছি এজন্য এটা করতে বাধ্য তারা? তারা আমার আপনার জন্য করছে এটা। সুতরাং এই মানুষগওলোর জন্য সহানুভূতিশীল হতে হবে। এই মানুষগুলোকে ভালোবাসতে হবে, তাদেরকে উপহার দিতে হবে। তাদেরকে ধন্যবাদ দিতে হবে না হলে আল্লাহর কাছে ধরা খেতে হবে।

এ প্রসঙ্গে উদাহরণ স্বরুপ তিনি আরো বলেন, এক লোকের স্ত্রী তার কথা শোনে না শুধু ঝগড়া এবং চিল্লাচিল্লি করে। তাই লোকটি ওমর (রা) এর কাছে বিচার দিতে আসছে। ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে এবং শুনছে ভেতরে ওমর (রা) এর স্ত্রী তার সাথে চিৎকার করে কথা বলছেন। সে এটা দেখে নিজের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। কিন্তু ওমর (রা) ঘরের দরজা খুলে তাকে দেখে ফেলেন এবং তাকে ডেকে বলেন, কেনো এসেছিলে সে বলে আমার স্ত্রী আমার কথা শোনে না তাই আপনার কাছে বিচার চাইতে এসেছিলাম। কিন্তু আমি আমার বিচার পেয়ে গিয়েছি। যখন আপনার স্ত্রী আপনার সঙ্গে এমন করছে সেখানে আমারটা না হয় বাদ দিলাম।

তখন ওমর (রা) বলেন, শোন আমার স্ত্রী এগুলো করে আর আমি সেটা কেনো সহ্য করি জানো? কারণ সে আমার অতিরিক্ত ৪টা কাজ করে যেটা আল্লাহ তাকে দায়িত্ব দেননি। সে আমার বাড়ি-ঘর গুছিয়ে রাখে, আমার সন্তানদের দেখাশোনা করে, আমার জন্য রান্না করে এবং আমার কাপড় পরিষ্কার করে। আর এগুলোর একটিও আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব নয়, এগুলো সব তার জন্য নফল। স্ত্রী বিয়ে করে নিয়ে আসছি তার মানে এই নয় তাকে রান্না করার জন্য নিয়ে আসছি। তার জন্য চাকর রাখেন। লন্ড্রি সাপ্লাই করছে আমাদের জন্য। এগুলোর একটিও তার দায়িত্ব না কিন্তু তারপরেও সে করে, কারণ সে এহসান করছে আমাদের। কিন্তু তার মানে এমন না যে করবোই না এটা এহসান করে। আর এহসান করার জন্য আমি তাকে কিছু বলি না। কারণ এ কাজগুলো করতে গেলে একজন মানুষের মেজাজ এমনিতেই খিটখিটে হয়ে যায়। দেখি আমার স্ত্রীর কষ্ট হচ্ছে তখন আমি মশলা পর্যন্ত পিশে দেই। কিন্তু সে আমাকে কাজ করতে বাধা দেয় তারপরেও করি। এবং আমি করে জানি সে সময় মেজাজ ঠিক থাকে না। একদিন বাড়ি-ঘর সব গোছাবেন সব কাজ করবেন তারপর যখন ঘরের ছোট বাচ্চারা সেগুলো এলোমেলো করবে তখন দেখবেন মাথা খারাপ হয়ে যাবে আপনার। তখন মার লাগাতে মন চাইবে। এই কাজটাই স্ত্রী প্রতিদিন করছে, কতখানি ধৈর্য ধরবে সে। তার মেজাজতে খিটখিটি হবেই।

কিন্তু কেনো খিটখিটে হচ্ছে সেটাকি জানেন? কাজটা সে কতদিন ধরে করছে। বছরে একদিন তাকে ঘুরতে নিয়ে যান না, সে কাজ করেই যাচ্ছে। কতদিন পর্যন্ত সে করবে। এর নাম এহসান। স্বামী- স্ত্রীর মধ্যে যদি এহসান হয় উপহার বিনিময় হয় হাদিয়া বিনিময় হয় তাহলে এটার দ্বারা আপনি নেয়ামতটা পেয়ে যাবেন। হাদিয়া, উপহারের রীতিটা আমার আপনার মধ্যে থাকবে না? প্রিয় ভায়েরা এই উপহারগুলা আমাদের ভালোবাসা বৃদ্ধি করে। তাই তারাবিহ পড়ে ফেরার সময় ভালো একটা আইসক্রিম স্ত্রীর জন্য নিয়ে যাবেন। দেখবেন তারা ছোট্ট একটু উপহারে কতটা খুশি হয়। সারাদিন তারা কত কাজ করছে আমার আপনার জন্য ভেবে দেখেছেন একবার। সম্পাদনায় : কায়কোবাদ মিলন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত