প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উত্তরখানে মা-মেয়ে ও ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় এখনো রহস্য উদঘাটন হয়নি

মাসুদ আলম: রাজধানীর উত্তরখানের ময়নারটেক এলাকার একটি বাসায় মা ,ছেলে ও মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ এখনো কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় জাহানারার ভাই মনিরুল হক বাদি হয়ে মঙ্গলবার রাতে উত্তরখান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এতে কাউকে আসামি করা হয়নি। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

এদিকে মৃত্যুর শোক সইতে পারলেন না জাহানারার মা তাজমহল বেগম। বুধবার সকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। গত রোববার রাতে উত্তরখানের ওই বাসা থেকে মা জাহানারা বেগম, ছেলে কাজী মুহিব হাসান রসি ও মেয়ে তাসপিয়া সুলতানা মিমের মৃতদেহ উদ্ধারের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন জাহানারা মা তাজমহল বেগম। এ ঘটনায় পারিবারিক দ্ব›দ্ব ও সম্পদের বিরোধ এবং হতাশাসহ একাধিক বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত চলছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তাও স্পষ্ট করে বলতে পারছেনা তদন্ত কর্মকর্তরা। দুই সন্তানের ভবিষৎ নিয়ে দুর্চিন্তায় ছিল জাহানারা বেগম।

উত্তরখান থানার ওসি হেলাল উদ্দিন বলেন, একাধিক বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত চলছে। যে দুটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে তা নিয়েও তদন্ত চলছে। দ্রুত এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন হবে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত ৯ মে মুহিব হাসান তার ফেসবুক স্ট্যাটার্সে লেখেছেন এই সমাজে শিক্ষার দাম আছে,টাকা পয়সার দাম আছে, ভাল মানুষের দাম নাই। বিদায় সমাজ তোমার কাছে আর আসবোনা। অপর একটি স্ট্যাটার্সে লেখেন- আ”ছা ধরেন আপনি জেনে গেলেন আজ থেকে এক মাস পরে আপনি মরে যাবেন। তাহলে কি করবেন আপনি।

জাহানারার দুরসর্ম্পকের ফুফা নাসিরুল আলম নান্টু বলেন, ময়নাটেকের বাসাটির নিচতলায় চলতি মাসের ৪ তারিখে উঠেন তারা। ভাড়া বাসার পাশেই তাদের ৪ কাঠার একটি জায়গা আছে। সেখানে বাড়ি করার জন্যই তারা মূলত ঢাকায় এসেছিল। ওই জমিটি জাহানারা বাবার। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার জাহানার ও তার ছেলের সঙ্গে নান্টুর কথা হয়। শুক্রবার মোবাইল ফোনে কল দিলেও তারা রিসিভ করেনি। পরে শনিবার বিকেলে তাদের বাসার দরজায় নক করলেও কোনো ছাড়া শব্দ পাওয়া যায়নি। পরে রোববার ইফতারির পর আবার ওই বাসায় গেলে রুমের ভেতর পঁচা গন্ধ তার নাকে ভেসে আসে। এরপর জানালা দিয়ে দেখতে পায় খাটের ওপর মা- মেয়ে ও ড্রাইনিং রুমে ছেলে লাশ পড়ে আছে। পুলিশকে খবর দিলে দরজা ভেঙ্গে তাদের লাশ উদ্ধার করে। ভেতর থেকে দরজার সিটকারিও লাগানো ছিল। জাহানারা ই”ছা ছিল স্বামীর পেনশনের টাকা দিয়ে বাড়ির কাজ করবেন। বড় ছেলে এমবিএ পাশ করে বেকার আর মেয়েটি প্রতিবন্ধী ছিল। সন্তানদের ভবিষৎ নিয়েও তিনি অনিশ্চিয়তায় ছিল। জাহানারা বেগমের স্বামী ইকবাল হোসেনের মৃত্যুর পর তার পেনশনের টাকা দিয়ে কষ্টে সংসার চলছিল। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কিছু বলতে পারছেনা তিনি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ইকবালের ভাইদের সঙ্গে জাহানারার সর্ম্পক ভাল ছিল না। জমি জমা নিয়েও বিরোধ ছিল। দুই সন্তান নিয়েও হতাশ ছিল জাহানারা। তাই সন্তানদের ভবিষৎতের চিন্তা করে স্বামীর শেষ সম্বলটুকু দিয়ে বাড়ি নির্মাণে কথা ছিল তার। রশি বেকার থাকায় হতাশাগ্রস্ত ছিল।

র‌্যাব-১ এর সহকারি পুলিশ সুপার মো.কামরুজ্জামান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক জীবনে তারা হতাশ ছিল। জাহানারা ভাই ও তার শ^শুর বাড়ির লোকদের সঙ্গে কথা বললেও কোনো রহস্য পাওয়া যায়নি। একাধিক বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত চলছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত