প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এই উন্নয়ন লইয়া আমরা কী করিবো?

নকীব ফিরোজ : দেশে সত্যি সত্যিই উন্নয়নের জোয়ার বইছে। তবে সে উন্নয়ন কার উন্নয়ন? কোন খাতে? তাতে কে কতোটুকু লাভবান হচ্ছে? সে হিসাবটা করতে গেলেই গোমর ফাঁক হয়ে পড়ছে। প্রধানত অবকাঠামো খাতেই চলছে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। এতে প্রত্যক্ষভাবে অধিকতর (অনৈতিক) সুবিধা পাচ্ছে অল্প কিছু মানুষ। ১. ঠিকাদার : যথাযথভাবে কাজ না করে বরাদ্দের বড় অংশ পকেটস্থ করছে। ২. রাজনৈতিক নেতা : মন্ত্রী, এমপি, চেয়ারম্যান-মেম্বর। কারণ প্রতিটি কাজ পেতে/করতে গেলে তাদের কমিশন দিতে হবেই। ৩. ধনীক/ব্যবসায়ী গোষ্ঠী : এসব অবকাঠামো উন্নয়নের উপকরণ তারাই উৎপাদন করে, চড়ামূল্যে বিক্রি, সরবরাহ,পরিবহন সবকিছুই তারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে করছে। ৪. দুর্নীতিবাজ আমলা-পুলিশ/চাঁদাবাজ : জনগণের ভৃত্য দুর্নীতিবাজ আমলা, কামলা বড় অঙ্কের কমিশন পাচ্ছে। ছ্যাঁচড়া রাজনৈতিক কর্মী চাঁদা নিয়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে।
আর এই উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের সুবিশাল অঙ্কের টাকা জোগান দিচ্ছে কে? দিচ্ছে জনগণ। জনগণের ট্যাক্সের টাকাতেই চলছে এ উন্নয়ন! এই উন্নয়নের সুফল জনগণ কি কিছুই পাচ্ছে না? অবশ্যই পাচ্ছে। তবে তা অতি নগণ্য। ধরুন স্বাস্থ্য খাতে সরকার টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে, হাসপাতাল ভবন বানাচ্ছে। কিন্তু জনগণের চিকিৎসা সুবিধা কতোটুকু বেড়েছে? কতোটুকু উন্নত চিকিৎসা পাচ্ছে? নতুন নতুন আদালত/থানা/অফিস ভবন তৈরি হচ্ছে। জনগণ কি বিচার পাচ্ছে? নিরাপত্তা পাচ্ছে? সেবা পাচ্ছে?
যোগাযোগ অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু যোগাযোগ খাত সম্পূর্ণভাবে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত বলে জনগণের টাকায় তৈরি ক্ষেত্রে জনগণই কি জিম্মি নয়? শিক্ষা খাতের কথা আর বলার নয়। শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে চরমভাবে শোষণ চলছে। দলীয়করণ চরমে পৌঁছেছে। এশিয়ার ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্য একটিও নেই বাংলাদেশে!
এছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য ন্যূনতম আইনের শাসন অনুপস্থিত। বেকারত্ব বিস্ফোরণোন্মূখ। শ্রমিক বেতন পায় না। কৃষক পণ্যের মূল্য পায় না। প্রতিনিয়ত ধর্ষিত হচ্ছে নারী ও শিশু। সংখ্যালঘু নির্যাতন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী মৌলবাদীর আস্ফালন, জাতীয় সংস্কৃতিবিরোধী মনোভাব প্রসারে সহায়তা করছে সরকার। এই উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষ কতোটুকু পাচ্ছে তাহলে? তবে এটাও সত্য যে মুক্তিযুদ্ধোত্তর কোনো সরকারের কাছে এতোটুকুও কি পেয়েছে মানুষ? পায়নি। তবে বিকল্প কী? অধিকতর জনবান্ধব কোনো বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি কি দেশে আছে? নেই। তাহলে?
আমার মনে হয় শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলে সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করে দুর্নীতিবাজ, লুটেরাদের লাগাম টেনে ধরতে সরকারকে বাধ্য করা। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বাধ্য করা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করা। পশ্চাৎপদ অশুভ শক্তিকে কোণঠাসা করা। সুস্থ সাংস্কৃতিক আন্দোলন জোরদার করা। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দ্বিগুণ করা। এর কোনো বিকল্প নেই। তাই বলি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক, নাগরিক অধিকার সম্পন্ন, সব শ্রেণির মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতব্য সমাজ গঠনের জন্য যার যার অবস্থান থেকে সোচ্চার হন, সাধ্যানুযায়ী তৎপর হন। তা না হলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ঘোর অন্ধকারে ঢেকে যাবে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত