প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কেন ‘ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল’ বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ স্কুলগুলোর অন্যতম?

কামরুল হাসান মামুন : ‘ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে একটি স্কুল। স্কুলটির নামের সঙ্গে ‘ল্যাবরেটরি’ যুক্ত আছে কারণ এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি খ্যাতিমান ইনস্টিটিউট ‘ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ’ বা আইইআরের ল্যাবরেটরি হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলে। তাই সঙ্গত কারণেই এটি হওয়া উচিত ছিলো বাংলাদেশের একটি মডেল স্কুল এবং ঢাকার সেরা স্কুল। একসময় এটি খুবই ভালো স্কুল ছিলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই অনেক শিক্ষক পাওয়া যাবে যারা এই স্কুলের ছাত্র ছিলেন। কিন্তু এটি বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ স্কুলগুলোর অন্যতম। প্রশ্ন কেন? একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভালো-মন্দ নির্ভর করে এর শিক্ষকের মান এবং তাদের নিয়োগ ও প্রমোশন নীতির মানের উপর।

যখন থেকে এর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্ত্রী বা আত্মীয়-স্বজনের নিয়োগ শুরু হলো বলা যায় ঠিক তখন থেকেই এর মানের ধস নামে। এখন এই স্কুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষকের সন্তান পড়ে না। শিক্ষকদের সন্তান এখন পড়ে হয় উদয়ন স্কুলে না হয় ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। অথচ এটি একটি ভালো স্কুল হলে ক্যাম্পাসের ছেলেমেয়েদের অনেককেই স্কুলের জন্য জ্যাম পেরিয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে গিয়ে অন্যদের জন্য আরো জ্যামের কারণ হতো না। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ স্কুল হতে পারতো যার পূর্ণাঙ্গ স্কুল হওয়ার সব বৈশিষ্টই আছে কেবল ভালো শিক্ষক ব্যতীত।

একই প্রক্রিয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিম্নমুখী হচ্ছে। কারণ বর্তমানে (গত ২০ বছর যাবৎ) শিক্ষক নিয়োগে যেই পরিমাণ স্বজনপ্রীতি আর দলপ্রীতি চলেছে তা অভাবনীয়। তাছাড়া এর আরো কয়েকটি কারণ উল্লেখ করার মতো। আমাদের শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতিটি খুবই ঘুনে ধরা একটি পদ্ধতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে লেখা থাকে প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। তাহলে এটাকে বিশ্ববিদ্যালয় বলবেন কীভাবে? তবে যা লেখা থাকে না তা আরো ভয়াবহ। সেটি হলো বাংলাদেশি নাগরিক হলেই হবে না তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হতে হবে। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলেই হবে না। তাকে ওই বিভাগের ছাত্র হতে হবে। আবার ওই বিভাগের হলেও হবে না তাকে নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষকের অধীনে থিসিস করে কৃপা অর্জন করতে হবে। এতে করে কি হয়েছে? বিভাগগুলো একটি ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ যারা নিয়োগ পায় তারা জয়েন করেই দেখে বিভাগের প্রায় সকল সহকর্মী তার সরাসরি শিক্ষক। এমনটি পৃথিবীর আর কোথাও ভাবা যায়? অর্থাৎ তাকে স্যার স্যার করতে করতে মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়ে আসার উপক্রম। সে সবসময় তটস্ত থাকে বেয়াদব ট্যাগ খায় কিনা। কোনো বিষয়ে আপন ইচ্ছা নির্দ্বিধায় প্রকাশ করতে পারে না। এ রকম নিয়োগ পদ্ধতি পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাওয়া যাবে না। প্রথম কথা হলো বাই ডিফল্ট তারা তাদের নিজের গ্রাজুয়েটদের শিক্ষক হিসাবে নিতে অনাগ্রহী।

তারা চায় তাদের ছাত্ররা অনত্র ছড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বাড়াক। আর অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করারা এসে এখানে নতুন চিন্তা ইঞ্জেক্ট করুক। পদ্ধতি এমনই হওয়া উচিত। আরেকটি বিষয় হলো আমাদের নিয়োগ পদ্ধতির কোনো বিবর্তন নেই। বিবর্তন ব্যতীত উন্নতি হয় না, হবে না।

এটা আমরা প্রকৃতির কাছ থেকেই শিখতে পারি। আর কিছুটা পরিবর্তন যদি করিও সেটা এমন পরিবতন হয় যার মূল উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠানের উন্নতির লক্ষ্যে নয় বরং ব্যক্তির স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যে। তাই ভাবী আমরা কবে সভ্য হবো? কবে আন্তর্জাতিকমানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় বানাতে পারবো যেখান থেকে বিশ্বমানের ছাত্রছাত্রী বের হবে। যারা কুপম-ুকতায় ভুগবে না। বর্তমানে যারা এখান থেকে পাস করে বের হয় তাদের মান দেখলেই বোঝা যায় আমরা ভালো মানের মানুষ বানাতে পারছি না। সম্প্রতি যেই ছাত্রটি পাস করে বের হয়ে কোনো প্রফেশনে ঢুকলো সেই ছাত্রটি এখন তার শিক্ষককে প্রতিপক্ষ ভাবে। আমরা যদি সে রকম স্কলার হতাম তাহলে ছাত্রছাত্রীদের এমন শ্রদ্ধা ভালোবাসা অর্জন করতাম, যা কোনোদিন নিঃশেষ হতো না। শ্রদ্ধা-ভালোবাসা তো অর্জনের বিষয়। সেটা দানের বিষয় নয়। এই মানের শিক্ষক দিয়ে তা অর্জন কোনোদিন সম্ভব নয়। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত