প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিবিসির প্রতিবেদন
লোকসভা নির্বাচন কি বদলে দিতে পারবেন কংগ্রেসের ‘ব্রক্ষাস্ত্র’ প্রিয়াংকা গান্ধী?

লিহান লিমা: বুধবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনি এলাকায় র‌্যালি করেছেন কংগ্রেসের উত্তরপ্রদেশ-পূর্বের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াংকা গান্ধী। ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে যোগদানের পর উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় টানা সফর করেছেন প্রিয়াংকা। প্রিয়াংকার এই যোগদান ও সরব অবস্থান নির্বাচনে কংগ্রেসের ভাগ্য বদলে দেবে কি না এটাই এখন প্রশ্ন।

দুই দশক আগ থেকেই মা সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর কেন্দ্রে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন তিনি। ২০১৫ সালে দিল্লিতে কংগ্রেস অফিসের সামনে নেতাকর্মীরা ‘প্রিয়াংকাকে আনো, কংগ্রেস বাঁচাও’ স্লোগান দিয়েছিলেন। জানুয়ারিতে তার রাজনীতিতে আসার ঘোষণা শুনে বিশ্লেষকরা বলেছিলেন কংগ্রেসের ‘ব্রক্ষাস্ত্র’ তিনি। গত ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণ রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রিয়াংকার অভিষেকের সময় লখনৌতে কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা পেয়েছেন সাহস ও মনোবল। একই দৃশ্য দেখা গেছে রাহুল গান্ধীর কেন্দ্র আমেথিতে।

দাদী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে খেলছেন ছোট্ট প্রিয়াংকা

গত সপ্তাহে প্রতাপগড়ে এই ক্যারিশমাটিক নেত্রীকে স্থানীয় কংগ্রেসের নেতারা লাল গোলাপের পাপড়ি ও সোনার মুকুট পরিয়ে স্বাগত জানায়। নির্বাচনি প্রচারের পুরোটা সময় জুড়েই প্রিয়াংকা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন ও তার পরিবারের সমালোচনার উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়,স্বভাবসুলভ নেতৃত্ব, হাস্যেজ্জ্বল মুখশ্রী ও বাকপটুতার গুণে ভোটারদের কাছে সহজেই পৌঁছাতে পারেন প্রিয়াংকা।

২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মিথিলেশ কুমার যাদব বলেন, ‘তরুণরা পরিবর্তন চায়। প্রিয়াংকা তাই বলছেন।’ কংগ্রেসের মুখপাত্র অখিলেশ প্রতাব সিং বলেন, ‘রাহুলের হাতকে শক্তিশালী করবেন প্রিয়াংকা, সেই সঙ্গে দলের উদ্দীপনা যোগাবেন।’

একজন স্বভাবসিদ্ধ রাজনীতিবিদের মতোই প্রিয়াংকা খাঁটি হিন্দি ও ইংরেজিতে কথা বলেন। সমর্থকদের কাছে যান, তাদের কথা শোনেন, তাদের সঙ্গে হাত মেলান ও বুকে জড়িয়ে নেন। তার ছোট চুল ও সাদামাটা কটনের শাড়ি মনে করিয়ে দেয় ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে।

এমনকি পার্লামেন্টে সদস্যপদের জন্য না দাঁড়ালেও প্রিয়াংকা যেখানেই গিয়েছেন গণমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্র হয়েছেন। মন্দিরদর্শন ও তার ধর্মীয় প্রার্থনা লাইভ হয়েছে, তার রোড শো ও মন্তব্য গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিরজা চৌধুরি বলছেন, ‘প্রিয়াংকার অনেক কারিশমা রয়েছে, কিন্তু তার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গিয়েছে। তার আরো এক বছর আগে আসা উচিত ছিলো, যাতে তিনি মানুষকে সংঘবদ্ধ করতে পারতেন।

তিনি আরো বলেন, কিন্তু উত্তরপ্রদশে কংগ্রেসের নেতৃত্বে অভাবের এই সময়ে প্রিয়াংকার অবস্থান শূন্যস্থান পূরণ করবে কিন্তু তার কাছ থেকে দলকে বদলে দেয়ার আশা করাটা এই স্বল্প সময়ে অসম্ভব।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত