প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমাবদ্ধ তাই বিরাট অংশ বিদেশে যাওয়ার জন্যে আগ্রহী তরুনরা,বললেন ড. ইফতেখারুজ্জামান

কেএম নাহিদ :  ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন,  আমাদের দেশের মানুষদের বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা সবসময়ই ছিলো। সাধারণ মানুষের ধারণা- বিদেশে গেলে সহজে কর্মসংস্থান হবে। জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে। পারিবারিক অবস্থার উন্নতি হবে।

দ্বিতীয় বিষয় হলো, আমাদের দেশে জাতীয় প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, উন্নয়ন হচ্ছে। আসলে সুষম উন্নয়ন কতোটুকু হচ্ছে তা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে সেই প্রশ্নের যৌক্তিকতার প্রমাণ হচ্ছে এই তরুণদের বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধির ঘটনায়। বুধবার ডেইলি স্টারের অনলাইনের সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে  তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন,  শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমাবদ্ধ কিছু ক্ষেত্র ছাড়া খুব একটা হয়নি। ফলে যাদের পেশাগত দক্ষতা তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে তাদের একটি বিরাট অংশ বিদেশে যাওয়ার জন্যে আগ্রহী। যেহেতু একটা ধারণা রয়েছে যে বিদেশে গেলে কর্মসংস্থান হয়, সেই কারণে বৈধ-অবৈধ পথ বিবেচনা করা হয় না। বাইরে গেলে কর্মসংস্থান হবে, অবস্থার উন্নয়ন হবে- এই বিশ্বাসটি বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে খুব দৃঢ়। তাই মানবপাচারের বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নিলেও তা তেমন কাজে আসে না। যাত্রাপথের ঝুঁকিটিকে তারা কোনো গুরুত্ব দেন না। দেশে যেহেতু তারা নিজেদের কর্মসংস্থান করতে পারছেন না তাই তারা বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।

তিনি বলেন,  দেশে কর্মসংস্থানের অভাব রয়েছে বলেই তরুণরা বিদেশে যাচ্ছেন?- “হ্যাঁ, মূলত কর্মসংস্থান।  আর দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে, তারা মনে করেন বিদেশে সহজেই অর্থ রোজগার করা যায়। এটি একটি বদ্ধমূল ধারণা। গড়ে ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে একজন মানুষ বিদেশে যাচ্ছেন, সেই টাকা দেশে বিনিয়োগ করে এখানে যে তারা কোনো সুযোগ করতে পারবেন সেই দিকে তাদের কোনো ভাবনা নেই। কারণ, তারা মনে করেন যে বিদেশে গেলে সহজভাবে অর্থ উপার্জন করা যায়।

তিনি আরো বলেন, দেশে উন্নয়ন যেটা হচ্ছে সেটা কীসের বিনিময়ে হচ্ছে তা দেখতে হবে। এই বড় বড় প্রকল্পগুলোতে যে অর্থায়ন হচ্ছে সেগুলো যে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আয় থেকে হচ্ছে না- তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কেননা, আমাদের রাজস্ব আয় পৃথিবীর সর্বনিম্নের তালিকার মধ্যে পড়ে। তাই যারা বাংলাদেশে এসব বড় বড় প্রকল্পগুলোতে অর্থ বিনিয়োগ করছে তারা কী শর্তে বিনিয়োগ করছে- তা জানা প্রয়োজন।আমরা কি ‘ঋণ করে ঘি খাওয়ার’ কুফল অচিরেই ভোগ করতে যাচ্ছি?- “ঠিক সেটাই। কী শর্তে এই উন্নয়ন হচ্ছে তা আমাদের কাছে মোটেও পরিষ্কার নয়।

যেমন, চীন এখানে বিনিয়োগ করছে- তারা তো এখানে দান করতে আসেনি। তারা তো সেই বিনিয়োগ থেকে মুনাফা করবে। চীনের সঙ্গে কী চুক্তি হয়েছে তা সরকার প্রকাশ করেনি। কীসের বিনিময়ে এই বিনিয়োগ হচ্ছে- তা মূল্যায়ন করতে না পারলে এটি একটি অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করবে। এতে একসময় ধস নামবে বলে আমার মনে হয়।”  সম্পাদনা : জামাল উদ্দিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত