প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফরমালিন মেশানোর অভিযোগে শত শত মন ফল নষ্ট করার সিদ্ধান্ত ভুল ছিলো, বললেন কৃষিবিজ্ঞানী ড. মনিরুল

মঈন মোশাররফ : বাংলাদেশে ৫ বছর আগে ফরমালিনের বিরুদ্ধে ‘জেহাদ’ ঘোষণা করেছিলো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। নষ্ট করা হয়েছিলো শত শত মন ফল। কিন্তু এখন বিজ্ঞানীরা বলছেন, ফল-মূল, শাক-সবজি সংরক্ষণে ফরমালিনের কোনো ভূমিকা নেই। মাছের বেলায়ও তাই।

এ প্রসঙ্গে কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের পরিচালক কৃষিবিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম মঙ্গলবার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ওই সিদ্ধান্ত ভুল ছিলো। ফল-মূল এবং শাক-সবজি ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষণ করা যায় না। আর সংরক্ষণের কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি, যা হয়েছে তা ভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই নয়।

তিনি আরো বলেন, ফল মূল, শাক-সবজি এগুলো হলো ফাইবার। এখানে ফরমালিন দেয়ার কোনো সুযোগই নেই। কেউ যদি না বুঝে দেয়ও, তাহলেও কোনো কাজে আসবে না। সংরক্ষণে কোনো ভ‚মিকা রাখবে না। কারণ, এখানে কোনো প্রোটিন নেই। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে ধারণা যে, ফল-মূল, শাক-সবজিতে ফরমালিন দেয়া হয়। এটা দুর্ভাগ্যজনক।

ফরমালিন টেস্টের পদ্ধতি এবং কিট প্রশ্নে তিনি বলেন, ফরমালিন টেস্টের নামে যেসব কিট এখানে ব্যবহার করা হয়েছিলো, ওই কিটগুলো ঠিক ছিলো না । সেটা তখন বলায় ডিএমপি’র তখনকার কমিশনার আমাকে অ্যারেস্ট করতে চেয়েছিলেন । কিন্তু আদালতের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রে পরীক্ষা শেষে প্রমাণ হয়েছে ওই কীটগুলো ঠিক ছিলো না।

তার মতে, আমরা আসলে ফরমালিন আতঙ্কে ভুগছি। এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা তৈরি করে ফল-মূল, শাক সবজি। এখন আমরা আতঙ্কে তা খাওয়া ছেড়ে দিচ্ছি। এটা আমাদের অনেক বড় ক্ষতি করছে।

তিনি জানান, একটি আম যদি ফরমালিনে চুবানো হয়, তাহলে আমটা তোলার পর দ্রুত ফরমালিন উড়ে যাবে। আর পানিতে দিলে খুব দ্রুত এটা দ্রবীভ‚ত হয়ে যাবে । আসলে ফল-মূল, শাকসবজি সংরক্ষণে এর কোনো ভ‚মিকা নেই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত