প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিলেটে ট্রাভেল এজেন্সি ও স্টুডেন্ট কনসালটেন্টদের বিরুদ্ধে মানব পাচারের প্রমাণ পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত

নুর নাহার : অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে বাংলাদেশিদের নিহত হওয়ার ঘটনায় এবার সিলেটে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। কালো তালিকাভুক্ত বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি ও স্টুডেন্ট কনসালট্যান্ট ফার্মের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক গুলোরই নেই সিভিল এভিয়েশনের হালনাগাদ ছাড়পত্রও।- ডিবিসি নিউজ

মারুফ আহমেদ নামের এক ব্যক্তিকে গত বছর জুনে কানাডার স্টুডেন্ট ভিসা দেয়ার কথা বলে তাঁর সঙ্গে ৫ লাখ টাকার চুক্তি করে জিন্দাবাজারের একটি ভিসা প্রসেসিং ফার্ম। কয়েক মাস পর কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া অফার লেটার ধরিয়ে দেয়া হয় তাকে।

মারুফ আহমেদ জানান, ‘আমি তাদের সঙ্গে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হই। তারা আমাকে বলে, সেপ্টেম্বরের সেশন যেন ধরতে পারি সে জন্য তারা অফার লেটার নিয়ে আসবে। কিন্তু, পরবর্তীতে জানতে পারি তারা অথরাইজড এজেন্ট না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক যুবকের দুর্ভোগের কাহিনী আরও করুণ। তুরস্কে পাঠানোর কথা বলে চারবার পাঠানো হয় দুবাই, কাতার ও ইরানে। এরপর, সেখান থেকে নৌপথে তুরস্কে যাওয়ার পথে ইরানের পুলিশ আটক করে দেশে ফেরত পাঠায় তাকে।
তিনি জানান, ‘মোট চারবারের চেষ্টার পর তাকে দুবাই নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমার পাসপোর্ট তারা নিয়ে যায়। সেখান থেকে ১৪ ঘন্টা জার্নি করে ইরান পৌঁছাই। ইরান পৌঁছানোর পর পুলিশ আমাদের আটক করে। পরে, বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠায়।’এভাবে নানা প্রলোভনে মানবপাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে এদের মতো সর্বস্ব হারিয়েছে সিলেটের শত শত তরুণ।

অ্যাসোসিয়েশন অব ট্র্যাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ-আটাব নেতারা জানান, সিলেটের অধিকাংশ স্টুডেন্ট কনসালট্যান্সি ফার্ম অবৈধভাবে বিদেশে পাঠানোর কাজ করছে। মানবপাচারে জড়িত এ ধরনের ৭৪টি ট্র্যাভেল এজেন্সির তালিকা প্রশাসনের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। সিলেট অঞ্চল আটাব সভাপতি আব্দুল জব্বার জলিল বলেন, ‘স্টুডেন্ট কনসালটেন্সির যে অফিসগুলো ছিলো যাদের কাগজ ঠিক নেই তাদের সাজা দেয়া হয়েছে।

সোমবার কালো তালিকাভুক্ত ট্র্যাভেল এজেন্সি ও স্টুডেন্ট কনসালট্যান্সি ফার্মের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে পাঁচটি ভ্রাম্যমাণ আদালত। মানবপাচার রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানালেন জেলা প্রশাসক।
সিলেট জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘যারা দেশের বাইরে যেতে চান তারা লিগ্যাল প্রসিডিউর জানতে হবে, কোথায় যাচ্ছেন তা জানতে হবে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত