প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখবেন কী?

শাহীন কামাল : আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় উচ্চশিক্ষা স্তরে স্নাতক পাস কোর্স একটা গুরুত্বপূর্ন অংশ হিসেবে পরিগণিত। বিশেষ করে গত কয়েক বছর পূর্বেও ডিগ্রি পাস সনদধারী ব্যক্তিবর্গ চাকরি তথা রাষ্টের প্রয়োজনে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রেখেছে। সে সময়ে ইংরেজি নিয়ে ডিগ্রি পাশ করা একেকজনের পান্ডিত্য পুরো এলাকায় সর্বজন জ্ঞাত। সে পরিস্থিতি এখন আর নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চার বছর অনার্স পড়ার অবারিত সুযোগ আর সার্টিফিকেট তুলে আনার সহজলভ্যতার কারনে শিক্ষার্থীদের বড় অংশ পাস কোর্স থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। মূলত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কোনরকম বাচবিচার না করে যেথায় সেথায় অনার্স খোলার অনুমতি দেয়ায় পাস কোর্সে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের যথাযথ মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছি। ফলে প্রতিবছর ডিগ্রি ৩য় বর্ষ ফলাফলের সময় দেখা যায় প্রায় অর্ধেক সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়। এ বছরের ২৮ এপ্রিল ২০১৭ সনের ডিগ্রি ৩য় বর্ষের চুড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়। মোট ২ লাখ ২০ হাজার ৭৮৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে কৃতকার্য হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৬০০ জন। পাশের শতকরা হার মাত্র ৪৯। পূর্বেকার ইতিহাসের সাথে সংগতিপূর্ণ হলেও সাম্প্রদায়িককালে আমাদের পাবলিক পরীক্ষায় ফলাফল যেভাবে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে, সেখানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পাস কোর্সের ফলাফল হতাশাব্যাঞ্জক। অথচ কর্তৃপক্ষ একটু সচেতন হলেই এই অকৃতকার্যের হার কমিয়ে আনতে পারে।

ডিগ্রি পাস কোর্সে শিক্ষার্থীদের সামনে বড় বাধা আবশ্যিক ইংরেজি বিষয়। বিশ্বায়নের এই সময়ে আমরা কোনভাবেই ইংরেজি শেখাকে অস্বীকার করতে পারিনা। এরশাদ শাসন আমলে অতিভক্তি দেখাতে গিয়ে ইংরেজি শিক্ষাকে অপ্রয়োজনীয় মনে করে ডিগ্রি স্তর থেকে তুলে দেয়া হয়েছিলো। ফলস্রুতিতে যে পরিনতি ভোগতে হয়েছে জাতিকে তা সচেতনমহল মাত্রই জানেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিস্তরে ইংরেজি আবশ্যিক বিষয়ে একটা চমৎকার সিলেবাস প্রনয়ণ করেছে, যা শুধুমাত্র যুতসই ই নয়, শিক্ষার্থীদের কাছে সহায়কও। কিন্তু কারিকুলামে সামান্য পরিবর্তন আনলে অনেক বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব।

বর্তমান কারিকুলাম অনুযায়ী ডিগ্রি পাস কোর্সে ইংরেজি বিষয় রয়েছে ৩য় বর্ষে। প্রায়ই দেখা যায় শিক্ষার্থীদের বড় এক অংশ ১ম ও ২য় বর্ষ সমাপন করে ৩য় বর্ষে গিয়ে আটকে থাকে। এমন অনেকেই আছে যার ৩য় বর্ষে শুধুমাত্র ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্যের জন্য ২/৩ বছর চেষ্টা করতে হয়। কেউ কেউ এ স্তরে এসে শুধুমাত্র একটি বিষয়ের জন্য কোন সনদ ছাড়াই বিদায় নিতে হয়। যদি প্রচলিত কারিকুলামে ইংরেজি আবশ্যিক বিষয়কে ১ম বর্ষে নিয়ে আসা হয় তবে এহেন ঝামেলা অনেকাংশেই লাঘব সম্ভব। শিক্ষার্থী যদি ১ম বর্ষে ইংরেজিতে পাশ নাও করে তবে ২য় বর্ষে প্রমোশন পাবে এবং সেখানে আবার পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পাবে। ফলে তার বছর লস হওয়ার কথা নয়। ২য় বর্ষেও যদি একই ঘটনা ঘটে তবে সে ৩য় বর্ষে উঠে ইংরেজি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে। এক্ষেত্রে সে অতিরিক্ত দুইবার ইংরেজি বিষয় পরীক্ষার সুযোগ পাবে কিন্তু তার শিক্ষাজীবনে কোন অতিরিক্ত সময় ব্যয়ও হবে না।

বর্তমানে যেহেতু অপেক্ষাকৃত দুর্বল মানের শিক্ষার্থী স্নাতক পাস কোর্সে অধ্যয়ন করে, নানাবিধ কারনে এদের বড় সংখ্যক ১ম বর্ষের পরে ক্লাসে উপস্তিত হয়না। এসময়ে তারা অর্থনৈতিক নানা টানাপোড়েনের কারনে ছোটখাট ব্যবসা কিংবা চাকুরীতে জড়িয়ে পরে। ফলে ক্লাসরুম থেকে পর্যাপ্ত সুবিধা না পাওয়াও ইংরেজিতে ফেল করার কারন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ১ম বর্ষে যেহেতু শিক্ষার্থীরা ক্লাসে উপস্থিত থাকে, ফলে ইংরেজি বিষয় এসময়ে থাকলে শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক হবে। চার বছর মেয়াদী সম্মান কোর্সের শিক্ষার্থীদের জন্যও যে একই ইংরেজি বিষয় রয়েছে তা কিন্তু ২য় বর্ষে। ফলে অধিকতর যোগ্যতাসম্পন্ন সম্মান কোর্সের শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ২ বার ইংরেজি বিষয় পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু ডিগ্রি কোর্সের শিক্ষার্থীদের জন্য এমন কোন সুযোগই নেই।

কোর্স কারিকুলাম ঠিক রেখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র ইংরেজি আবশ্যিক বিষয়কে ১ম বর্ষে নিয়ে আসতে পারে। তাতে ইংরেজি শিক্ষার যে উদ্যেশ্য তা তো ব্যহত হবেই না বরং প্রতি বছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী ঝরে পরার সমুহ বিপদ থেকে রক্ষা পাবে।

লেখকঃ শিক্ষক, সাংবাদিক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত