প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

থানার ওসি হিসেবে বিসিএস পুলিশ ক্যাডারদের নিয়োগ চায় দুদক

আবুল বাশার নূরু:থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নিয়োগ চায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পাসপোর্টের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনও বাতিল চেয়েছে সংস্থাটি। দুদকের ২০১৮ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন ১২০টি মতো সুপারিশ আছে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে সব সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষা পিএসসির অধীনে নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।

সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে এই প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়। দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির হাতে প্রতিবেদন তুলে দেন।

দুদকের বার্ষিক এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি সেবা খাতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুর্নীতি, অনিয়ম আর ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। ২০১৭ সালের চেয়ে ২০১৮ সালে দুদকের মামলা ও চার্জশিটের সংখ্যা কমেছে জানিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সরকারি ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণে দুর্নীতি বাড়ছে।দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৯(১) ধারা অনুযায়ী, প্রতিবছর দুদকের আগের বছরের কাজের বার্ষিক প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে হস্তান্তরের বাধ্যবাধকতা আছে।

রাষ্ট্রপতির কাছে বার্ষিক প্রতিবেদন হস্তান্তরের পর দুদক চেয়ারম্যান বলেন, রাষ্ট্রপতি দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদককে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি অনুসরণ করতে বলেছেন। তিনি শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য করণীয় সবকিছু করতে পরামর্শ দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও দুর্নীতি নির্ম‚লে কমিশনকে পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড পেতে হলে স্বাস্থ্য এবং মানসম্মত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত কর্মীদের যদি কোনো দুর্নীতি বা অনিয়মের খবর আসে তাও যেন কমিশনের নজরে থাকে সে বিষয়েও রাষ্ট্রপতি পরামর্শ প্রদান করেছেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, যে বা যারা সরকারি সম্পত্তি যেমন রেলের জায়গা, সড়ক বিভাগের জায়গা, গণপ‚র্ত কিংবা খাস জমি, বন বিভাগের জমি, চান্দিনা ভিটা, ইত্যাদি জমি/সম্পদ অবৈধভাবে দখল করে বিলাসবহুল রিসোর্ট বানিয়েছেন কিংবা অন্য কোনোভাবে দখল করে রেখেছেন তাদের কমিশনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানাই এসব সম্পত্তি সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থায় ফিরিয়ে দিন, জনগণের সম্পদ জনগণকে ফিরিয়ে দিতেই হবে, নইলে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাত নিয়ে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট। ব্যাংক তার নিজস্ব বিধি-বিধান অনুসারে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করবে তাতে কমিশন কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না। ব্যাংকিং নিয়ম-কানুন মেনে ব্যবসায়ীরা ঋণ নেবেন এবং ব্যাংকাররা ঋণ দেবেন এতে দুদক কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না। তবে পরস্পর যোগসাজশে জাল-জালিয়াতি এবং প্রতারণা করে ব্যাংকের অর্থ লোপাটকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখা হবে। আমাদের বক্তব্য, যারা ব্যাংক থেকে অবৈধভাবে ঋণ নিয়েছেন বা ঋণ দিয়েছেন তারা জনগণের এ অর্থ সমন্বয় করুন নইলে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত