প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অপবিজ্ঞানেই ছিল নিউটনের আকর্ষণ

কেএম নাহিদ : স্যার আইজ্যাক নিউটনের নাম শোনেননি এরকম লোক বোধহয় সারা পৃথিবী খুঁজলেও পাওয়া যাবে না। পদার্থ বিজ্ঞানের বলবিদ্যা হোক বা মহাকর্ষ-অভিকর্ষ কিংবা আলোক বিজ্ঞান—সব কিছুতেই তার অবদান অনস্বীকার্য। অনেকে তো বলে থাকেন গণিতের কলনবিদ্যা বিষয়টিও তাঁরই সৃষ্টি, যদিও এ নিয়ে মতভেদ আছে। (বর্তমান)

কিন্তু, চিরকুমার এই বিজ্ঞানীর জীবনী পর্যালোচনা করলে মনে হতে পারে যে, বিজ্ঞান অপেক্ষা অপবিজ্ঞানেই তার আকর্ষণ ছিল বেশি। এরকমই একটি অপবৈজ্ঞানিক বিষয় হল অ্যালকেমি। লোকে মনে করত, এই অ্যালকেমি পদ্ধতি অনুসরণ করে যে কোনও বস্তুকেই সোনাতে পরিণত করা যায়। নিউটন প্রায় ১৬৯টা বই লিখেছিলেন এই অ্যালকেমি বিষয়ে। যদিও, তাঁর জীবদ্দশায় কোনও বইই প্রকাশ করতে দেওয়া হয়নি। কারণ সেই সময় ১৪০৪ সালে ইংল্যান্ডের আইন অনুযায়ী সোনা বা রুপো তৈরি করা ছিল গুরুতর অপরাধ। ১৬৮৯ খ্রিস্টাব্দে নিউটন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য হন এক বছরের জন্য। তাঁর এই এক বছরের সদস্য থাকাকালীন পার্লামেন্টে একটিই বাক্য বলেছিলেন বলে জানা যায়, সেটি হল একটি খোলা জানালাকে শুধু বন্ধ করে দিতে বলা।

নিউটনের জন্মের তারিখ নিয়ে মতভেদ আছে। অনেকে মনে করেন নিউটনের জন্ম ১৬৪২ সালের ২৫ ডিসেম্বর। আবার অনেকে মনে করেন ৪ জানুয়ারি ১৬৪৩। অদ্ভুতভাবে তারিখ দুটির গরমিল একজন মহাপুরুষকে মনে করায়, যিনি হলেন যিশু খ্রিস্ট স্বয়ং। যিশু খ্রিস্টের জন্ম তারিখ নিয়েও একই দ্বন্দ্ব রয়েছে। অর্থাৎ, ২৫ ডিসেম্বর না ৪ জানুয়ারি। আসলে এই প্রসঙ্গটা এল কারণ নিউটন নিজে ছিলেন বাইবেল অন্তপ্রাণ। তিনি অত্যন্ত গভীরভাবে এবং নিষ্ঠা সহকারে বাইবেল পাঠ করেছিলেন। শুধুমাত্র বাইবেল পড়ার জন্যই তিনি হিব্রু শিখেছিলেন। তাঁর এইরকম মনোযোগ সহকারে বাইবেল পাঠ করার ফলে তিনিই প্রথম বলেছিলেন যে যিশু খ্রিস্টকে ক্রুশ বিদ্ধ করা হয়েছিল ৩ এপ্রিল ৩৩ খ্রিস্টাব্দে।

নিউটন বেশ কিছু ভবিষ্যদ্বাণীও করেছিলেন নস্ট্রাদামুসের মতো। অদ্ভুতভাবে সেই সব ভবিষ্যদ্বাণী মিলেও গিয়েছে। এমনই একটি ভবিষ্যদ্বাণী ছিল ইজরায়েল নিয়ে। এই ইজরায়েলই হল যিশু খ্রিস্টের পবিত্র জন্মভূমি জেরুজালেম। মধ্যযুগে এই জেরুজালেম সহ গোটা ভূখণ্ডটা মুসলিমদের দখলে চলে যায়। নিউটন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, ইহুদিরা আবার মুসলিমদের ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে জেরুজালেমে ফিরে আসবে। বাস্তবে হয়েছেও তাই। বাইবেলের শেষ অধ্যায়ে বলা আছে, পৃথিবীতে এই মানব সভ্যতার বিলুপ্তি ঘটবে এক মহাজাগতিক ঘটনার দ্বারা যার নাম অ্যাপোক্যালিন্স। নিউটন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে এই অ্যাপোক্যালিন্স কিছুতেই ২০৬০ খ্রিস্টাব্দের আগে ঘটবে না। এখন দেখার বিষয় নিউটনের এই ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয় কি না!

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত