প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জলবায়ু পরিবর্তন, ঘূর্ণিঝড়, নদী ভাঙ্গন, খাদ্য ঘাটতি ও কর্মসংস্থানের অভাবে ঢাকামুখি উপকূলীয় জনস্রোত

মঈন মোশাররফ : বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী ১৯৯১ সালে রাজধানী ঢাকায় লোকসংখ্যা ছিলো ৬৮ লাখের সামান্য কিছু বেশি। কিন্তু ১৯৯১ থেকে ২০১৯, এই আট বছরে জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রস্পেক্টসের গত বছরের তথ্য অনুযায়ী এ সংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখ। সংস্থাটির পুর্বাভাস বলছে, ২০৩০ সালে এ সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ২ কোটি ৭৪ লাখে। অর্থাৎ আগামী ১০ বছরে আরও এক কোটি মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করবে।

মোহাম্মদপুর বেড়িবাধ এলাকায় বিভিন্ন বস্তিতে বসবাস করে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ তাদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, অধিকাংশ মানুষ আসছে উপকূলীয় অঞ্চল থেকে। এরা ভোলা, বরগুনা, নোয়াখালী, বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, লক্ষ্মীপুর, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা থেকে আসা। এখানকার নারীরা ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর এলাকায় গৃহকর্মীর কাজ করেন। আর পুরুষরা কেউ রিকশাচালক, কেউ ট্রাক শ্রমিক, রাজমিস্ত্রিসহ নানা পেশায় নিয়োজিত।

এ প্রসঙ্গে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আতিকুল ইসলাম সোমবার আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, ঢাকায় বসবাসরত বস্তিবাসির মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত। তারা নদী ভাঙ্গন, চর ভাঙ্গন, অর্থাৎ পানি সংক্রান্ত কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে পানির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থরা ছাড়াও অন্যান্য এলাকা থেকে কিছু লোক আসে। যেমন খরা জনিত কারণে আবার অল্প সময়ের জন্য, কিছু আসে রিকশা চালানোর জন্য। যারা পানির দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত, তাদের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের একটা সম্পর্ক আছে। এর মধ্যে দক্ষিণাঞ্চল একটু বেশী। সেখানে লবণাক্ততা অন্যতম কারণ। এর সবকিছুই জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

সমাধানের প্রশ্নে তিনি বলেন, এর সমাধান হচ্ছে পৃথিবীর সব উন্নত দেশকে দ্রুততার সঙ্গে তাদের গ্রীন হাউজ গ্যাস কমিয়ে জীবন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। তবে এটা সহজে হবে না। আর সমাধান যতদিন পর্যন্ত না হয় আমাদের খাপ খেয়ে চলতে হবে। খাপ খেয়ে চলার কতগুলো সীমাবদ্ধতা আছে। তবে তারা নিজের বাড়ি উঁচু করতে পারে। ভিন্ন ধরণের কৃষিকাজের চেষ্টা করতে পারে।

তিনি আরো বলেন, বেশিরভাগ মানুষ কৃষিজীবী ছিলো, বিধায় ভিন্ন জায়গায় কৃষি খাত বাড়াতে হবে । তারা কেউ কেউ পার্টটাইম কৃষিজীবী হবে। তারা ঢাকার বস্তিতে রইলো কিন্তু যখন হাওড় অঞ্চলে শ্রমিক দরকার তখন তারা সেখানে গিয়ে কাজ করবে । যেমন ফণীর পরে অতি দ্রুত ধান কাটার দরকার ছিলো।

তিনি জানান, এর সমাধানের প্রধান উপায় হচ্ছে, উন্নয়ন বাড়ানো। যার ফলে উন্নয়নের বিভিন্ন অঙ্গে তারা জড়িত হবে। এ বিষয়ে আমি একটা আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়েছিলাম সেটা সরকার গ্রহণ করেছিলো। গ্রাম অঞ্চলে শহরের সুবিধা পৌঁছে দেয়া। আওয়ামী লীগ সেটা গ্রহণ করেছে। তারা বলছে আমরা গ্রামকে শহর করবো। তবে ঢাকামুখি উপকূলীয় জনস্রোতের অন্যতম কারণ জলবায়ু পরিবর্তন, কর্মসংস্থানের অভাব, লবণাক্ততা, খাদ্য ঘাটতি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত