প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লোকসভা নির্বাচনের ষষ্ঠ ধাপে ৫৯ আসনে ভোট চলছে

আহমেদ শাহেদ : ভারতের তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের ষষ্ঠ ধাপে ভোট গ্রহণ চলছে। এ দফায় বিহার, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, দিল্লি, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের ৫৯ আসনে ভোট হচ্ছে। সপ্তদশ লোকসভার এ নির্বাচনে শেষ ধাপে ভোট হবে ১৯ মে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভারতে নির্বাচনী  প্রচারে ব্যক্তিগত কাদা ছোড়াছুড়ি বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনী প্রচারে ব্যক্তিগত আক্রমণ চালাচ্ছেন।  বিবিসি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকা।

এবারের নির্বাচনে মোদি ও মমতার মধ্যে বাকযুদ্ধ লেগেই আছে। রাহুলও কথার বাণে বিদ্ধ করে চলেছেন মোদিকে। অন্যদিকে মোদি অনেকটা অপ্রত্যাশিত ও অপ্রাসঙ্গিকভাবেই রাহুল গান্ধীর বাবা ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর তীব্র সমালোচনা করেছেন। প্রায় তিন দশক আগে আত্মঘাতী হামলায় নিহত রাজীব গান্ধীর অপ্রমাণিত দুর্নীতি নিয়ে সমালোচনা করেছেন মোদি। বিশ্নেষকরা বলছেন, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে মোদি যে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছিলেন; হালে তা কালিমালিপ্ত হয়েছে। ফ্রান্সের কাছ থেকে বহু-বিলিয়ন ডলারে রাফাল জঙ্গি বিমান কেনায় দুর্নীতি নিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতা মোদি। এ অবস্থায় জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে রাজীব গান্ধীর বিরুদ্ধে তোপ দাগতে শুরু করেছেন তিনি।

বিশ্নেষকদের মতে, পাঁচ বছর আগে জাতিকে আশার আলো দেখিয়ে ক্ষমতায় আসা মোদি বাস্তবে তেমন কোনো পরিবর্তন আনতে পারেননি। ফলে এবারের নির্বাচনে জয়লাভ মোদির জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।

মোদির জন্য সর্বশেষ দুঃসংবাদটি বয়ে এনেছে বিশ্বখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন। তাদের চলতি সংখ্যার প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে মোদির শাসনের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। মোদিকে বলা হয়েছে ‘ইন্ডিয়া’স ডিভাইডার ইন চিফ’ (ভারতে বিভেদের গুরু)। প্রতিবেদনটি নিয়ে ভারতে রাজনৈতিক ঝড় বইছে।

প্রচ্ছদে স্থান পেয়েছে মোদির দৃষ্টিতে বিষণ্ণতা, গলায় গেরুয়া চাদর। আর প্রতিবেদনে মোদির বিরুদ্ধে দেশে ‘বিষাক্ত ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ’ ছড়ানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে। লেখা হয়েছে, ‘পাঁচ বছর আগে ২০১৪ সালে উজ্জ্বল ভারত, শক্তিশালী ভারতের স্বপ্নের এক প্রতিভূ হিসেবে উঠে এসেছিলেন মোদি। এ যেন এক আস্থার দেবদূত, যার এক হাতে হিন্দুর পুনর্জাগরণ, অন্য হাতে দক্ষিণ কোরিয়া ধাঁচে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কর্মসূচি। এখন শুধুই এক ব্যর্থ রাজনীতিক হিসেবে ভোট চাইতে এসেছেন মোদি, যিনি অঙ্গীকার পূরণ করে দেখাতে পারেননি। নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক; সেই স্বপ্ন, সেই আস্থা আজ আর তার সঙ্গে নেই।’

টাইম লিখেছে, মোদি সরকারের পাঁচ বছরে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতা, উদার নীতি ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যম- ভারতীয় রাষ্ট্র গঠনের তিনটি প্রধান সুরকেই নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। জওহরলাল নেহরু-মোহনদাস গান্ধীর মতো দেশ গঠনে ব্রতী নেতাদের বিরুদ্ধে অনাস্থা তৈরি করা হয়েছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা তো বটেই; মুক্তমনা, অনগ্রসর শ্রেণি ও তফসিলিদের পর্যন্ত কোণঠাসা হতে হয়েছে। আক্রমণ নেমে এসেছে তাদের ওপর। সংখ্যাগুরু হিন্দুদের ধর্মীয় সংস্কৃতি সংখ্যালঘুদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং এর ফলে দাঙ্গা, গণপিটুনি, হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে করপোরেট হাউস বা সংবাদমাধ্যম; সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের প্রতি দেশজুড়ে ঘোর অনাস্থা তৈরি করা হয়েছে। নিবন্ধে বলা হয়েছে, ‘মোদির অর্থনৈতিক জাদু শুধু যে কাজ করেনি; তাই নয়, ভারতে বিষাক্ত ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের পরিবেশ ছড়াতে সাহায্য করেছেন তিনি।’

ভারতের সাধারণ নির্বাচনে এবার গত ১১ এপ্রিল ভোট গ্রহণ শুরু হয়। আগে পাঁচটি ধাপে মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে। ৫৪৩ আসনের এই নির্বাচনে আগামী ১৯ মে সপ্তম ও শেষ ধাপের ভোট হবে। ফল ঘোষণা করা হবে ২৩ মে। ৯০ কোটি ভোটারের দেশটিতে গত পাঁচ ধাপে গড়ে ৬৫ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পড়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত