প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঈশ্বরদীতে এবার লিচুর বাম্পার ফলন

নিউজ ডেস্ক : লিচুর রাজধানী হিসেবে দেশ-বিদেশে সু-পরিচিতি পেয়েছে ঈশ্বরদী। এক পৌরসভা আর সাত ইউনিয়নের সব স্থানে লিচু চাষ দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। এ কারণে প্রতি বছর চাষিরা আখসহ অন্য ফসল আবাদ কমিয়ে দিয়ে লিচু চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। এবারও ঈশ্বরদীতে ২০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ বেড়েছে। এবার এখানে লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে কোন কোন এলাকায় প্রচন্ড খরতাপে কিছু আঁটি লিচু ফেটে যাবার খবর পাওয়া যায়। তার পরও এবার লিচুর ভাল ফলনে চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। তারা এবারের ফলনে আশাবাদি এ জন্য যে,তারা এবার লিচু বিক্রি করে অতিরিক্ত লাভবান হবেন। এখন প্রতিটি বাগানে থোকায় থোকায় বাতাসে দোল খাচ্ছে থোকা থোকা হালকা লাল সবুজ রঙের আঁটি লিচু।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষিপদক প্রাপ্ত অভিজ্ঞ লিচু চাষি আব্দুল বারী ওরফে কপি বারী ,লিচু বাগান মালিক বরকত আলী , এ্যাড. হেদায়েত উল হক ও ব্যাপারী রহমত আলীসহ অনেকেই সাংবাদিকদের কাছে একই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেছেন,বর্ষণ কম হওয়ায় এবং আবহাওয়া ভাল থাকায় এবার ঈশ্বরদীতে লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। আমার তিনটি বাগান মিলে দেড়শ’র মত লিচু গাছ রয়েছে। প্রত্যেকটি গাছেই ভাল ফলন হয়েছে। এবার কমপক্ষে ৬/৭ লাখ টাকার লিচু বিক্রি করতে পারব বলে মনে হচ্ছে। এখানে উৎপাদিত লিচু ঢাকাসহ দেশের প্রায় সব জেলাতেই পাঠানো হয়। সকল এলাকায় এর চাহিদাও রয়েছে । সব চেয়ে আশার কথা হলো ঈশ্বরদীতে উৎপাদিত কিছু পরিমাণ লিচু, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ক্যানাডা, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেসব দেশেও ঈশ্বরদীতে উৎপাদিত লিচুর সুনাম রয়েছে।

ঈশ্বরদীর অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা রোকসানা কামরুন্নাহারের মতে, গত মওসুমে ঈশ্বরদীতে বিক্ষিপ্তভাবে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে লিচু আবাদ হয়েছিল। অতিবৃষ্টির কারণে আগাম কুশি বের হয়ে ফলনেরও ক্ষতি হয়েছিল। ফলে গত মওসুমে প্রায় ৩’শ কোটির স্থলে ১৬৫ কোটি টাকার মত লিচুর আবাদ কম হয়েছিল। এবার চাষিরা সেসব প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে কাটিয়ে ফলন বৃদ্ধিরও চেষ্টা করেছেন। সে কারণেই এবার এখানে কয়েক মওসুমের অতিরিক্ত পরিমাণ লিচু উৎপাদন হবে বলে চাষিরা আশা করছেন।

ঈশ্বরদীতে আবাদকৃত লিচুর মধ্যে আঁটি লিচু, চায়না-তিন চার, বেদানা, বোম্বাই লিচু উল্লেখযোগ্য।
এ মৌসুমে ঈশ্বরদী এলাকায় প্রাকৃতিক পরিবেশ ঠিক থাকলে, সার কীট নাশকের দাম সহজলভ্য এবং কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে বেশী লিচু উৎপাদন ও বাম্পার ফলনের মাধ্যমে লিচু চাষি, ব্যাপারি, লেবার ও আড়ৎদারদের অবস্থার পরিবর্তণ হবে বলে আশা করেন স্থানীয় লিচু চাষিরা। লিচু উৎপাদন বেশী হওয়ায় শিমুলতলাসহ লিচুর হাটগুলোর সাথে জড়িতরাও আর্থিক ভাবে লাভবান হবেন। সূত্র : জনকণ্ঠ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত