প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘দেখতে হলে ফিটফাট, চলে আসুন সদরঘাট’ বললেন, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান

হ্যাপি আক্তার : নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, ৪৭ বছর ধরে আমি পরিবহন সেক্টরে নেতৃত্ব দিচ্ছি। জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে এমন কোনো সরকার যায়নি, যে সরকারের সাথে আমার চুক্তি হয়নি। আমি যখন নৌপরিবহনমন্ত্রী হলাম তখন বলা হয়েছিলো যার হাতে সড়ক জিম্মি তাকে করা হলো নৌমন্ত্রী! আমি তখন বলেছিলাম আমি নৌ সেক্টরের উনয়নের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাবো। এরপর থেকে ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে আজ পর্যন্ত ৪ বছর ৯ মাস একটি লঞ্চ ডুবির ঘটনা ঘটেনি। যেখানে প্রতি বছরই কোনো না কোনো লঞ্চ ডুবির ঘটনায় অসংখ্য প্রাণ ঝরে যেত। বুধবার চ্যানেল-আই এর একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

শাজাহান খান বলেন, আমাকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকারের গঠন করা কমিটির চেয়ারম্যান করা হলো তখন অনেককেই বলতে শোনা গেলো, একজন বিতর্কিত মানুষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি শুধু তাদের এতোটুকু বলবো, এই বিতর্কিত মানুষটি যা তৈরী করে গেলো তা এখন মূল্যয়নের ভার আপনাদের ওপর। তিনি আরো বলেন, একটা সময় বলা হতো, ‘উপরে ফিটফাট, ভিতরে সদরঘাট’। সেই অবস্থা থেকে আমি সদরঘাটের পরিবর্তন এনেছি। এখন আমি বলি, ‘দেখতে হলে ফিটফাট, চলে আসুন সদরঘাট’।

শাজাহান খান বলেন, মন্ত্রী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্দেশ দিলেন লঞ্চঘাট, ফেরিঘাটের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার। এরপর সর্বপ্রথম আমি হাত দেই সদরঘাটে। সেখানে দেখতে পেলাম ইজারা প্রথার কারণে এখানে এত অরাজকতা, অনিয়ম। আমি প্রধানমন্ত্রীকে জানাই ইজারা প্রথা বাতিল করা ছাড়া সদরঘাটের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা অসম্ভব। তখন প্রধানমন্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন, সদরঘাট থেকে ইজারায় প্রতিবছর কত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়? আমি তাকে জানালাম, ২ কোটি টাকা জমা হয়। তিনি বললেন, মাত্র ২ কোটি টাকার জন্য মানুষের এতো ভোগান্তি? তাহলে সদরঘাটের ইজারা প্রথা বাতিল করো। এরপর সদরঘাটের ইজারা প্রথা বাতিল করার পাশাপাশি সেখান থেকে ৩০০ হকারকে উচ্ছেদ করা হয়। এই ৩’শ হকার আমার বিরুদ্ধে সদরঘাটে অবস্থান নেয়। সেই অবস্থা মোকাবেলা করে সদরঘাটের স্বাভাবিক অবস্থা আমি ফিরিয়ে এনেছি।

তিনি বলেন, নৌ সেক্টরে যদি আমরা শৃঙ্খলা ফেরাতে পারি, পরিবহন সেক্টরে কেন পারব না? সেই জায়গা থেকে নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটা কমিটি গঠন করা হয় সেই কমিটির দায়িত্ব দেয়া হয় আমাকে। তখন অনেককেই বলতে শোনা গেছে একজন বিতর্কিত লোককে দিয়ে কমিটি করা হচ্ছে। ‘এতটুকু বলতে পারি এই বিতর্কিত মানুষ যেটা তৈরি করেছে সেটা আগের যে কোনো প্রস্তাবনা থেকে আকাশ পাতাল পার্থক্য। আমরা নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১১১ সুপারিশ রেখেছি। সুপারিশ ১১১ হলেও মূলত ৭টি সুপারিশকে প্রধান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, আমরা সব থেকে গুরুত্ব দিয়েছি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান (বিআরটিএ) সক্ষমতা বৃদ্ধিতে। আমি যদি বিআরটিএ’র চেয়ারম্যানকে প্রশ্ন করি তিনি অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন না। জনগণকে আমি বলতে চাই, আপনারা কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেই ড্রাইভারের ফাঁসি দাবি করেন। ফাঁসি কোনো সমাধান নয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত