প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জলবায়ু হুমকির চেয়ে মানুষ সৃষ্ট হুমকি সুন্দরবনের বাঘ বিলুপ্তির কারণ বলে মনে করেন অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম

কেএম নাহিদ : যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের যৌথ গবেষণায় জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে ২০৭০ সাল নাগাদ কোনো বাঘ থাকবে না। তাদের এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয় সায়েন্স ডায়রেক্ট সাময়িকীতে। সর্বশেষ সরকারি জরিপে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১০৬টি । বাঘ এখন বিলুপ্তপ্রায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম বৃহস্পতিবার বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের সুন্দরবনই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা আমরা সব সময়ই দেখি। বাঘ শূন্য হবে- এটা ঘটতেই পারে, ৫০ বছর কেনো, আরো আগেও হতে পারে। আমার কাছে মনে হচ্ছে, জলবায়ুর যে হুমকি তার চেয়ে কিছু দৃশ্যমান হুমকি রয়ে গেছে। সেগুলো হলো বাঘ শিকার, বাঘের খাবার শিকার এবং বনভূমি জায়গা দখলের ভেতর দিয়ে আমরা নিজের অজান্তেই বাঘ নিশ্চিহ্ন করছি, তা বুঝতে পারছি না। আমাদের জলবায়ু হুমকির চেয়ে নিজেরা যে সমস্ত দৃশ্যমান হুমকি সৃষ্টি করি, তা পরিহার করতে হবে। আগে যেমন বাঘ বন থেকে বের হলে মানুষ পিটিয়ে মেরে ফেলত, তা কমেছে বনভূমির লোকদের সহায়তায়।’

ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমি অতোটা আতঙ্কিত নই। কারণ, সুন্দরবন যে জায়গায় রয়েছে, সেখানে কোনো বসতি নেই। এখন সুন্দরবন যে অবস্থানে আছে, সেখান থেকে একটি নৌকা নিয়েও যদি কেউ বনের ভেতর প্রবেশ করে, তা বনবিভাগের কর্মকর্তাদের চোখের আড়ালে যাবে না।’

‘মানুষ এখন অনেকটা সচেতন বাঘ টিকিয়ে রাখতে। বাঘের খাবার টিকিয়ে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে সুন্দরবনে হরিণ সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি বনের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার কথাও ভাবতে হবে। বনের মধ্যে মানুষের বিচরণ কমাতে হবে। পর্যটকদের জন্য বনকেন্দ্রিক তথ্যভান্ডার গড়ে তুলতে হবে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত