প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশে দৃশ্যমান সরকার রয়েছে, অদৃশ্য সরকারও রয়েছে, বললেন আনু মুহাম্মদ

মুসবা তিন্নি : বেতন-ভাতা ও বকেয়া টাকার দাবিতে রাষ্ট্রায়াত্ত পাটকলের শ্রমিকরা আন্দেলন করেছে এই প্রেক্ষাপটে দেশের পাটশিল্প ও পাটশ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার জন্যে করণীয় কী এ বিষয়ে কথা বলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আনু মুহাম্মদ – দ্য ডেইলি স্টার

আনু মুহাম্মদ বলেন, দেশে একটি দৃশ্যমান সরকার রয়েছে। কিন্তু, অদৃশ্য সরকারও রয়েছে। নীতিনির্ধারণের বিষয়ে দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সরকার নির্বিশেষে একই রকম থাকে। নীতিনির্ধারণের বিষয়টি আসে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে। দেশে উপযুক্ত শিল্পায়নের জন্যে যে দূরদৃষ্টি থাকতে হয় তা বাংলাদেশ সরকারের নেই। যার ফলে বিশ্বব্যাংকের চাপে পড়ে পাটকল ও পাটশিল্পবিরোধী বিভিন্ন নীতিমালা নিয়েছে। সংস্থাগুলোর ঋণের টাকা দিয়ে শিল্পকারখানা বন্ধ করা হয়েছে। কোথাও শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হয়েছে। ২০০২ সালে পাটকল বন্ধ হওয়ার পর আরও পাটকল বন্ধ হয়েছে ২০০৭-২০০৮ সালের দিকে। তারপর বর্তমান সরকারের সময় সেই ধারাবাহিকতার কোনো পরিবর্তন হয়নি।”

“এখন যে পাটকলগুলো রয়েছে সেগুলোতে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অস্থায়ী ভিত্তিতে (অ্যাডহক)। পাটকলগুলো বেসরকারিকরণের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থাটিকে ছোট করে ফেলা হয়েছে। এখন শ্রমিকদের মজুরি নেই বললেই চলে। তারপরও সেগুলো বকেয়া হিসেবে থাকছে। এরপরও আমরা দেখছি পাটকলগুলোতে লোকসান হচ্ছে। এর একটি মূল কারণ হলো যে সরকার পাটশিল্প বা পাটকলগুলোকে আধুনিকীকরণ ও বহুমুখীকরণের জন্যে কাজ করছে না।”

“আরেকটি কারণ হলো: পাট কেনার প্রক্রিয়াটি বিস্ময়করভাবে এতো বছরে ধরে একই রয়ে গেছে। অর্থাৎ পাট যখন বাজারে আসে সেসময় পাটের দাম কম থাকে। তখন পাট কেনার জন্যে টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায় না। যখন পাটের দাম বেড়ে যায় তখন বাজেট দেওয়া হয়। এ নিয়ে অনেক কথা বলার পরও কোনো পরিবর্তন হয়নি। তার মানে হলো- এটি ইচ্ছাকৃতভাবেই করা হচ্ছে। এর ফলে কিছু লোকের লাভ হয়, কিছু লোক দুর্নীতি করার সুযোগ পায়। এ কারণে পাটকলগুলোর খরচ অনেক বেশি বেড়ে যায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত