প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপির এমপিদের শপথে ক্ষুব্ধ ঐক্যফ্রন্ট

বাংলা ট্রিবিউন : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টবিএনপির নির্বাচিত এমপিদের সংসদে যোগ দেওয়ায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ক্ষুব্ধ। তবে এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চান না তারা। ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলছেন, গত চার মাস জোটের রাজনীতি আটকে ছিল শপথ নেওয়া-না নেওয়ার মধ্যে। এ নিয়ে গলার মধ্যে একটি কাঁটা বিঁধেছিল যা শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গিলে ফেলা হয়েছে। তাদের প্রশ্ন- বিএনপির শপথ নেওয়ার ইচ্ছা থাকলে এতদিন নাটক করার কী দরকার ছিল? আর কোনও কিছুর বিনিময়ে সমঝোতা হলে সেটাও জানতে চান তারা।

বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ ইস্যুতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রবের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চায় বাংলা ট্রিবিউন। তিনি বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলেও ২৯ তারিখ রাতেই ভোট ডাকাতি হয়। ফলে কয়েকজন শপথ নিলেই সংসদের বৈধতা হবে না। গণতান্ত্রিক শক্তি আরও ঐক্যবদ্ধ হবে এবং নতুন করে পুনর্গঠিত হবে।’

আ স ম রবের দাবি, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তখনও আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন এমপি পাকিস্তানের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছিল। ভারত থেকে পালিয়ে এসেও পাকিস্তানের সঙ্গে যোগদান করেছে কয়েকজন এমপি। এতে মুক্তিযুদ্ধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। দেশ স্বাধীনের পর ৫ জন এমপিকে দালাল আইনে গ্রেফতার করা হয়, ৪৬ জন এমপিকে দালালি করার জন্য আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বিএনপির হঠাৎ অবস্থান বদলকে সঠিক মনে করছেন না ঐক্যফ্রন্টের আরেক শরিক দল নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। মঙ্গলবার দুপুরে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, যদি সমঝোতা হয় তাহলে খোলাখুলি বলেন, কী সমঝোতা হয়েছে? মান্না বলেন, ‘লড়াই ছাড়া আমাদের ভিন্ন কোনও পথ নেই। আপসকামিতায়,সহযোগিতা-সহমর্মিতায়, সমঝোতায় আপনি জিততে পারবেন না। আগেই তো আপনার কাজ সেরে ফেলেছেন। খেলতে বসে দাবার চাল দিয়ে দিয়েছেন, এবার ওই পক্ষ চাল দেবে। আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে।’

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউন বলেন, ‘গত চার মাস আমাদের রাজনীতি সীমাবদ্ধ ছিল শপথ নেবো নাকি নেবো না এর মধ্যে। এই নিয়ে গলার মধ্যে একটি কাঁটা বিঁধেছিল। গণফোরাম থেকে নির্বাচিত দুই এমপিকে বলা হয়েছিল- শপথ নিতে হলে সবাই একসঙ্গে নেবো। কিন্তু তারা আগেই নিয়ে নেয়। ফলে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এখন বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার মধ্যে দিয়ে গলায় বিঁধে থাকা কাঁটা গিলে ফেলা হয়েছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে সুব্রত বলেন, এটাকে (শপথ গ্রহণ) এখন আমরা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিয়েছি। এই নিয়ে ঐক্যফ্রন্টে কোনও প্রভাব পড়বে না বলেও মনে করেন তিনি।

জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন বলেন, ‘যে বিএনপি ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে মিলে ভোট ডাকাতির নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করে নতুন নির্বাচন দাবি করলো, এখন সেই বিএনপি ওই সংসদে যোগ দিয়ে কীভাবে গণতন্ত্র ও নেত্রীর (খালেদা জিয়া) মুক্তির আন্দোলন জোরদার করবে তা বোধগম্য নয়।’
ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ডা. জাহেদ উর রহমান তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীরা এবার সদলবলে আওয়ামী লীগে যোগ দিক…আন্দোলনের অংশ হিসেবে।’

প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই ফল প্রত্যাখ্যান করে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি। সংসদে না যাওয়ার কথাও বারবার বলে আসছিলেন দলটির নেতারা। কিন্তু সোমবার (২৯ এপ্রিল) বিএনপির চার নেতা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। এরপর রাতে সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তে তারা শপথ গ্রহণ করেন। কিন্তু এর আগে ২৫ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান শপথ নিলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত