প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংসদে বিএনপি : তারেক রহমানের হঠাৎ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের নেপথ্যে

জিয়ারুল হক : বেশ অনেকটা আকষ্মিকভাবেই জাতীয় সংসদে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি।
সোমবার বিকেলে বিএনপির নির্বাচিতদের চার জন শপথ নেয়ার পর তারা বলেন যে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই তারা শপথ নিয়েছেন। বিবিসি বাংলা

এর পর রাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একা জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমানের নির্দেশে দলের নির্বাচিতদের শপথ নেয়ার বিষয় নিশ্চিত করেন।

মির্জা ফখরুল মনে করেন, আজকে যা হবে, কালকে ঠিক তা-ই হবে এমন কোন কথা নেই, ফলে অবস্থার প্রেক্ষাপটে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতেই পারে। তবে কৌশলগত কারণ সম্পর্কে তিনি কোন ব্যাখ্যা দেননি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির যে বৈঠকে নির্বাচিত এমপিদের শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তাতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে যোগ দিয়েছিলেন।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির অন্য একাধিক সিনিয়র নেতা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, বিএনপি থেকে নির্বাচিত মাত্র ছয় জনের মধ্যে দলটির মহাসচিব মি. আলমগীর ছাড়া পাঁচ জনই শপথ নিয়ে সংসদে যাওয়ার জন্য নেতৃত্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। তারা এমন শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন যে কোনভাবেই তাদের ঠেকানো সম্ভব ছিল না। ফলে সেখানে নেতৃত্বের ব্যর্থতার প্রশ্নে বিএনপির এই সিনিয়র নেতারা উল্লেখ করেছেন, ছয় জনের পাঁচজনই যখন দলের সিদ্ধান্তের বাইরে সংসদে যেতে পারেন, তখন তাদের দল থেকে বহিষ্কারের পর আইনগত লড়াইয়ে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে। কিন্তু তারা বিএনপির সদস্য হিসেবেই সংসদে থাকবেন। সেই প্রেক্ষাপটে তাদের ওপর বিএনপির দলীয় কোন নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। এটিকেই দলটির নেতৃত্ব ভিন্ন ধরণের সংকট হিসেবে দেখেছেন।

বিএনপির সিনিয়র কয়েকজন নেতা আরও জানিয়েছেন যে সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহল থেকেও একটা চাপ ছিল।
মির্জা ফখরুল যদিও বলেছেন যে তাদের নেত্রীর মুক্তির দাবির সাথে সংসদে যাওয়ার কোন সম্পর্ক নেই, তবে সংসদে যোগ দেয়া পাঁচজনের মধ্যে হারুনর রশীদ প্রথম দিনেই অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে তাদের সংসদে অংশ নেয়ার বিনিময়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়েছেন।
এই ইস্যুতে কোনো সমঝোতা হয়েছে কি-না, এমন একটা গুঞ্জনও উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

বিএনপির সিনিয়র নেতারা এই বিষয়ে উদ্ধৃত হতে একেবারেই আগ্রহী নন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সিনিয়র নেতা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন যে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে না চাইলে খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়, এটি তারা বিশ্বাস করেন। কিন্তু কোনো সমঝোতার মাধ্যমে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন, সেটাও তারা দেখাতে চান না।

অন্যদিকে, সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে, মির্জা ফখরুল এক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে বেশ আবেগপ্রবণ বক্তব্য দেন। এই প্রশ্নে দলটিতে ভিন্ন ভিন্ন মত আছে বলে মনে হচ্ছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক।

তবে দলটির অন্য একাধিক সিনিয়র নেতা মনে করেন, এতদিন শপথ না নেয়ার কঠোর অবস্থান তুলে ধরার পর দল একেবারে উল্টোদিকে ঘুরেছে, যা মাঠ পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে একটা প্রভাব ফেলবে।

বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের অনেকের মতে, হঠাৎ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণে মানুষের মধ্যেও তাদের দল ভাবমূর্তির একটা সংকটে পড়বে।

শেষমুহুর্তে যেহেতু বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত এসেছে, ফলে দলে ভিন্নমত থাকলেও এ নিয়ে উচ্চবাচ্য করার কিছু নেই বলেও মনে করছেন ভিন্নমত পোষণকারী নেতাদের অনেকেই।

বিএনপির সিনিয়র নেতারা বলছেন, সাংসদদের জোরালো অবস্থান নিতে হবে এবং সেই বার্তাই তাদের দেয়া হয়েছে।
বিএনপির একজন সিনিয়রর নেতা বলেছেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব হলে তখন দলে আবার স্থিতিশীল একটা পরিস্থিতি ফিরে আসতে পারে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কবে শপথ নেবেন?  আলমগীর নিজে এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।

তবে বিএনপিতে তার ঘনিষ্ঠ একজন নেতা জানিয়েছেন, নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একাই নির্বাচিত হওয়ায়, স্থায়ী কমিটির অনেকে তার ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন।

বিএনপির ওই নেতা জানিয়েছেন, সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব তারেক রহমানের হলেও মির্জা আলমগীর তাদের দু’একজন নেতাকে জানিয়েছেন শপথ নেয়ার বিষয়ে। তার ব্যক্তিগতভাবেও সিদ্ধান্ত নেয়ার একটা বিষয় আছে। আর সে কারণেই এখনও স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত