প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্যাংকখাতে অনিয়ম রোধে কমিশন গঠনের বিষয়ে জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

এস এম নূর মোহাম্মদ : ব্যাংক খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে কমিশন গঠনের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। সেইসঙ্গে খেলাপি ঋণ ও অর্থ পাচারকারীদের তালিকা প্রণয়নের বিষয়েও অগ্রগতি জানাতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত সম্পূরক আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্টদেরকে এ বিষয়ে অগ্রগতি জানাতে বলা হয়েছে।

খেলাপি ঋণ আদায় না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে মঙ্গলবার শুনানিতে আদালত বলেন, দেশে বড় বড় রাঘব বোয়াল আছেন যারা ব্যাংক লুট করে ফেলল, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। আমরা দেখছি ব্যবস্থা না নিয়ে আরো বেশি করে ঋণ দেয়ার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হলেও বেসরকারি ব্যাংকগুলো তা কার্যকর করছে না।

ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা রোধে কমিশন গঠন এবং অর্থ পাঁচারকারী ও ঋণ খেলাপিদের তালিকা এক মাসের মধ্যে আদালতে দাখিলের জন্য গত ১৩ ফেব্রæয়ারি নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। কিন্তু ওই তালিকা দাখিল ও কমিশন গঠন না করে খেলাপি মুক্ত থাকার সময় তিন মাসের পরিবর্তে ছয় মাস বৃদ্ধি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে উল্লেখ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি বলেন, এ ধরনের সময়সীমা বাড়ানোর ফলে ঋণ খেলাপিরা পার পেয়ে যাচ্ছেন।

এসময় বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে আদালত বলে, সিআইবি রিপোর্টে যখন নাম আসছে না তখন ঋণ খেলাপিরা অন্য ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন। ঋণ খেলাপিদের তালিকা চেয়েছি সেটা যাতে দাখিল করতে না হয় সেজন্য কি এই সময়সীমা বাড়ানো? মনজিল মোরসেদ বলেন, ঋণ খেলাপিদের তালিকা যাতে ছোট থাকে সেজন্যই এই পদক্ষেপ। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী বলেন, এটা সত্য নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সকল ব্যাংকের কাছে ঋণ খেলাপিদের তালিকা চেয়েছেন।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকের আর্থিক দুর্নীতি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা রোধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তাকে বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং আর্থিক খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা বন্ধে কমিশন গঠন করে সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। এছাড়া গত ২০ বছরে ব্যাংকিং খাতে ১ কোটি টাকার ওপরে খেলাপি ঋণ, ঋণের সুদ মওকুফ ও অর্থ পাচারকারীদের বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত