প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

" ভয়াবহ দূষণ রোধে দ্রুত পদক্ষেপ"
 হাটহাজারীতে ট্রেন দুর্ঘটনায় ছড়িয়ে পড়া ফার্নেস অয়েল থেকে ১০ হাজার লিটার অয়েল উদ্ধার ! “ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন”

মো.আলাউদ্দীন : চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় রেলসেতু ভেঙে তেলবাহী ট্যাংকার খালে পড়ার পর এক লাখ ৫ হাজার লিটার ফার্নেস অয়েল ছড়াসহ আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তেল ছড়ানো বন্ধে দ্রুত তৎপরতা চালিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন।

দুর্ঘটনায় ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত তেল স্রোতে হালদা নদী দিকে এগুচ্ছিল। এ সময় হালদা নদীকে বিষাক্ত ফার্নেস অয়েলের দূষণ থেকে রক্ষা করতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে মাত্র ৪ ঘণ্টায় মরা ছড়ার উপর দশটি সাময়িক বাঁধ নির্মাণ করেন উপজেলা প্রশাসন। যার কারনে ভয়াবহ দূষণ থেকে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী রক্ষা পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

এ প্রসঙ্গে ইউএনও মো. রুহুল আমিন বলেন, টানা ৪ ঘন্টা অক্লান্ত পরিশ্রম এবং চেষ্টায় বিভিন্ন পয়েন্টে ১০ টি বাধ দিয়ে তেলের প্রবাহ ২ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে আটকে ফেলা হয় এবং ছড়িয়ে পড়া ফার্নেস অয়েল সংগ্রহ সারারাত ধরে সংগ্রহ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর সন্ধ্যার দিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইক দিয়ে ঘোষণা করা হয় যারা ছড়িয়ে পড়া তেল সংগ্রহ করে প্রশাসনের কাছে জমা দিবেন তাদের প্রতি লিটার ২২০ টাকা করে প্রদান করা হবে । এদিকে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পৌরসভা সহ মরা ছড়ার বিভিন্ন পয়েন্টে তেল সংগ্রহকারী প্রশাসনের হাতে সংগ্রহ করা তেল বুঝিয়ে দিতে কন্টেইনার, বোতলে ভরে জমা করতে গেছে।

উপজেলা সূত্রে জানা গেছে, এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকাল সাড়ে ৫টা) সবর্মোট আনুমানিক দশহাজার লিটার ফার্নেস ওয়েল সংগ্রহ করা হয়েছে। যদিও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলেছেন মাত্র ২০০ শত লিটার তেল সংগ্রহ করা গেছে। পৌরসভার কর্মী ও স্থাণীয়দের অক্লান্ত পরিশ্রমে হালদা নদীতে সামান্য পরিমান ফার্নেস অয়েলও যেতে না পারেনি বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

এ কাজে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোর্শেদ, পৌর প্রকৌশলী বেলাল আহমদ খাঁন, পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা সহযোগিতা করেছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে সোমবার সারারাত ব্যাপি শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া ফার্নেস অয়েল সংগ্রহ করেছেন এবং ইউএনও রুহুল আমিন নিজে উপস্থিত থেকে এ কাজ তদারকি করছেন।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের হাটহাজারীর এগার মাইলের ১০০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যাওয়ার পথে গতকাল সোমবার বিকাল ৩টার দিকে পৌরসভার হাটহাজারী রেল স্টেশনের আনুমানিক দেড় কি.মি. দক্ষিনে মধ্যম দেওয়াননগরস্থ আজিজিয়া মাবুদিয়া হোসাইনিয়া মাদ্রাসা হেফজ খানা ও এতিমখানার সামনে দুর্ঘটনায় ৩৩ হাজার ৬৪০ লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন তেলবাহী তিনটি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়ে একটি ওয়াগন সেতু ভেঙে মরা ছড়ায় পড়ে যায়। দুর্ঘটনা কবলিত ওয়াগনের রক্ষিত তেল নির্গত হয়ে তা মরা ছড়ার পানিতে মিশে যায়। ঘটনা তদন্তে ২ টি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত