প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাবির হলগুলোর প্রধান সমস্যা আবাসন ও নিম্নমানের খাবার

আসিফ হাসান কাজল : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ হলগুলোতে আবাসন সংকট ও ক্যান্টিনের খাবারের নিম্নমানকেই প্রধান সমস্যা হিসেবে মনে করেন আবাসিক হলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শিক্ষাবর্ষ শেষ হওয়ার পরও সিনিয়র ছাত্ররা হল কক্ষ ত্যাগ করেন না যার ফলে হল খালি হয় না। ক্রমাগত খাবারের মূল্য বৃদ্ধি ও ক্যান্টিনের নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

গণরুমে থাকা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা জানায়, ঢাকার বাইরের জেলা থেকে আসায় রাজধানীতে আমাদের আবাসন সংকটে পড়তে হয়। হলে উঠা ছাড়া কোন বিকল্প থাকে না। যে কারণে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতাদের দ্বারস্থ হয়ে হলের কক্ষে গাদাগাদি করে উঠে পড়ে শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মোহাম্মদ মহসীন ও মাস্টার দা সূর্যসেন হলে সরেজমীনে দেখা যায় সমস্যার নানা চিত্র।

মহসিন হলের হেলাল উদ্দিন নামের এক শির্ক্ষাথীরা বলেন, ক্যান্টিনের খাবারের নিম্নমান প্রতিটি হলের দীর্ঘদিনের সমস্যা। আগে হলের কিছু দোকানে সাদা ভাত রান্না করার ব্যাবস্থা থাকলেও ক্যান্টিন মালিকের অদৃশ্য ক্ষমতাবলে কিছুদিন আগে এসব দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। হৃদয় দেওয়ান নামের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, পূর্বে এক টুকরা মুরগীর মাংসের মূল্য ৩৫ টাকা ছিল কিছুদিন আগে মূল্য কমিয়ে ৩০ টাকা করা হয়েছে। ৫ টাকা দামে কমলেও আকারে মাংসের টুকরা অর্ধেক হয়েছে। মহসীন হলের শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিন ক্যান্টিন মালিক আব্দুল বাতেন ও ম্যানেজার আলমগীর হোসেন হলে রাজত্ব করায় ছাত্রনেতাদের অনেক প্রতিশ্রতির পরও আমাদের সমস্যা কাটেনি।

আবাসন সংকটের ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষার্থী জানান, প্রতিটি হলে অন্তত ৩০ ভাগ ছাত্র রয়েছেন যাদের পড়াশুনা অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে তারপরও হলে অবস্থান করছে। এছাড়াও হলে বহিরাগতদের অবস্থান আবাসন সংকট সৃষ্টির অন্যতম কারন।

মাস্টার দা সূর্যসেন হলে দেখতে পাওয়া যায় একটি কক্ষে গাদাগাদি করে ৩৩ জন ছাত্র বসবাস করছে যাদের সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র। এসময় তারা অভিযোগ করে বলেন, স্থানের সংকট তো প্রথম বর্ষের ছাত্রদের জন্য নতুন কিছুনা, আমাদের হলে অন্তত ১০জন হাউজ টিউটর রয়েছেন যারা কোনদিনই আমাদের অবস্থা দেখতে আসেননি। এছাড়াও একটি গণকক্ষে গত ২০ দিন ধরে কোন সিলিং ফ্যান না থাকায় প্রচন্ড গরমে কষ্টে আছেন শিক্ষার্থীরা। ইসলামিক স্টাডিস বিভাগের শিক্ষার্থী খালিদ হাসান বলেন, গোলাম রাব্বানী ভাই আমাদের এই অবস্থা নিজে এসে দেখেছেন ও হল প্রশাসনকে জানানোর পরও এখনো কোন ব্যাবস্থাই নেইনি প্রশাসন।

সূর্যসেন হলের সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব এই সব সমস্যা ও অভিযোগের ব্যাপারে বলেন, গত দুইদিন আগে টিউটরদেরকে নিয়ে হলে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসময় তিনি স্বীকার করেন শিক্ষাবর্ষ শেষ হওয়া ৫ ভাগ শিক্ষার্থী এখনো হলে বসবাস করছেন।

এই ব্যাপারে ডাকসু হল সংসদ সূর্যসেন হলের সাধারণ সম্পাদক মো: সিয়াম রহমান বলেন, খাবারের মান উন্নয়নে হলের ক্যান্টিন পরিচালনায় অচিরেই দরপত্রের মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তন করা হবে। এছাড়াও হলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে দ্রতগতির তারহীন ইন্টারনেট সেবা দেওয়া হবে। গরমে শিক্ষার্থীদের জন্য সুপেয় ঠান্ডা পানি পানের জন্য ওয়াটার প্লান্ট বসানো হচ্ছে। আবাসনের সংকট সমাধানে ছাত্রসংসদ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা হবে।

ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরু বলেন, আমার মতে কোন হলেই গণরুম থাকা উচিৎ না। কিন্তু ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে এই ব্যাপারে একাধিকবার আলোচনার হবার পরও সংগঠনটি গণরুমের ব্যাপারে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত পারিবর্তন করেননি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত