প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যানজট নিরসনে ঢাকায় ৮২ কিলোমিটার বৃত্তকায় রেলপথ নির্মাণ হচ্ছে, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে পরামর্শক নিয়োগ আজ

সংবাদ : রাজধানীর যানজট নিরসনে ঢাকার চারদিকে প্রায় ৮২ কিলোমিটার বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পে নির্মাণ সময় ধরা হয়েছে ৩ বছর। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জাইকা, বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ অন্য আরও কয়েকটি সংস্থার উন্নয়ন-সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে উন্নয়ন-সহযোগীদের কাছ থেকে সাড়া না পেলে নিজস্ব অর্থায়নেই প্রকল্পটির কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাবনা ও সম্ভাব্যতা অনুযায়ী বৃত্তাকার এই রেলপথের স্টেশন থাকবে ২০টি। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য চীনা একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। আজ রেল ভবনে পরামর্শ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে বলে রেলওয়ে সূত্র জানায়।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম ফিরোজী বলেন, যানজট নিরসনে ঢাকা শহরের চারদিকে বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এর প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান খোঁজা হচ্ছে। বৃত্তাকার এই রেলপথ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা অনেক আগের। ঢাকা সার্কুলার রেলওয়ে রুটের সঙ্গে মেট্রোরেলের রুট যুক্ত করা হবে। প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ পরমর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রস্তাবনা ও সম্ভাব্যতা অনুযায়ী বৃত্তাকার এই রেলপথের স্টেশন থাকবে ২০টি। গাজীপুরের টঙ্গী থেকে শুরু হয়ে আবার টঙ্গী স্টেশনে এসে শেষ হবে এই বৃত্তকার রেলপথ। এর মধ্যে টঙ্গী, দৌর, উত্তরা, বেরুলিয়া, মিরপুর চিড়িয়াখানা, গাবতলী, শংকর, নবাবগঞ্জ, বাবুবাজার, সদরঘাট, শ্যামপুর, ফতুল্লা, চাষাঢ়া, চৌধুরীবাড়ী, সিদ্ধিরগঞ্জ, ডেমরা, কায়েতপাড়া, বেরায়েত, পূর্বাচল ও তেরমুখ হয়ে পুনরায় টঙ্গী গিয়ে শেষ হবে। বৃত্তাকার এই রেল নেটওয়ার্ক হবে উচ্চতর বিদ্যুৎ এবং ডাবল লাইন স্ট্যান্ডার্ড গেজসম্পন্ন। বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণের এই প্রকল্পের প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হয়েছিল ২০১৪ সালে। গত বছরের জানুয়ারিতে ২৭ কোটি টাকার ‘সমীক্ষা প্রকল্প’ অনুমোদন দিয়েছিল পরিকল্পনা কমিশন। গত বছর ২৩ মে আহ্বান করা হয় পরামর্শক নিয়োগের জন্য দরপত্র। সাড়া দেয় ১৪টি প্রতিষ্ঠান। তার মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়। ছয় প্রতিষ্ঠান পরে তাদের প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেয় রেলপথ মন্ত্রণালয়ে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান কারিগরি ও অর্থসংক্রান্ত প্রস্তাব তৈরি করে। তার মধ্য থেকে মনোনীত যোগ্য ও উপযোগী প্রস্তাব বিবেচনায় চীনের একটি প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্রেনগুলো উভয় পাশে ক্রমাগতভাবে চলবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যাত্রীরা খুব কম সময়ের মধ্যে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৃহৎ এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ৩২ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। তবে ভবিষ্যতে এ ব্যয় আরও বাড়তে পারে। এজন্য বিদেশি কোন বিনিয়োগকারী পেলে সরকার তা সানন্দে গ্রহণ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানায়।

প্রকল্প সূত্র জানায়, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাইকা। এ নিয়ে জাইকার সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি ও ডিটেইল ডিজাইনের জন্য প্রস্তুতি চলছে। এরপর প্রকল্পের ডিপিপি প্রস্তুত করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা ও আশপাশের জেলার মানুষ সহজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করতে পারবে। কেউ যদি নারায়ণগঞ্জ থেকে উত্তরা যেতে চায় তাহলে রাজধানীর ভেতরে প্রবেশ না করেই বৃত্তাকার এই রেলপথ ব্যবহার করে সহজেই যাতায়াত করতে পারবে। এছাড়া বৃত্তাকার এই রেলপথটি ১০টি পয়েন্টে মেট্রোরেলের সঙ্গে যুক্ত হবে। এগুলো হলো- গাজীপুরের টঙ্গী স্টেশন, আশুলিয়া বেড়িবাঁধে ধউর ব্রিজের কাছে, গাবতলী, বাবুবাজার, শ্যামপুর, চাষাঢ়া, কায়েতপাড়া, বিরায়েত, পূর্বাচল ও তেরমুখ স্টেশনে মেট্রোরেলের সঙ্গে যুক্ত হবে এই বৃত্তকার রেলপথটি। ফলে ঢাকার আশপাশের জেলার যাত্রীরা রেলপথ ব্যবহার করে সহজেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে পারবে।

এ বিষেয় রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, রাজধানী ঢাকা শহরের চার দিকে বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ১৯ শতাংশ। এরই মধ্যে প্রকল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা বা জাইকা। জাইকা আগ্রহ দেখালেও বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ অন্য আরও কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সহযোগিতা চেয়েছে সরকার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত