প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জামায়াত কি বদলাচ্ছে?

বিভুরঞ্জন সরকার : জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত নেতা মজিবুর রহমান মঞ্জু একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়ায় কারো কারো মধ্যে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে, জামায়াত বুঝি ভাঙছে অথবা জামায়াত বুঝি বদলাচ্ছে। জামায়াত খোলস বদল করে রাজনীতিতে আসছে বলে গণমাধ্যমে খবরও বের হয়েছে। তবে জামায়াত সম্পর্কে যাদের ন্যূনতম ধারণা আছে, তারা জানেন যে বহিষ্কৃত একজন নেতার পক্ষে জামায়াতকে ভাঙা সহজ বা সম্ভব কোনোটাই নয়। জামায়াত একটি সুশৃঙ্খল ও সুগঠিত এবং ক্যাডারভিত্তিক দল। ধর্মভিত্তিক আরো অনেক দল ও সংগঠন আমাদের দেশে আছে কিন্তু তার কোনোটিই জামায়াতের মতো ‘রেজিমেন্টেড’ নয়। জামায়াত প্রতিকূল অবস্থায় কাজ করতে অভ্যস্ত একটি দল। প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য দুই ধরনের কাজেই জামায়াতের অভিজ্ঞতা আছে। সরকার যদি আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে জামায়াতের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তাহলে জামায়াত কি করবে সেটা তারা ভেতরে ভেতরে ঠিক করে রেখেছে। তাই সেটা নিয়ে জামায়াতের মধ্যে বড় ধরনের কোনো উদ্বেগ আছে বলেও শোনা যায় না। গত প্রায় দশ বছর ধরেই বিরুদ্ধ পরিবেশে কাজ করতে হচ্ছে জামায়াতকে। দলের শীর্ষ নেতাদের বেশ কয়েকজনকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। কয়েক জন জেলে আছেন। অবাধে কাজ করার সুযোগ দলটির নেই। তারপরও জামায়াতের সাংগঠনিক তৎপরতা বন্ধ নেই। বরং অন্য যে কোনো রাজনৈতিক দলের চেয়ে জামায়াত এখনও বেশি সক্রিয়।

এই অবস্থায় দলের একজন মধ্যম সারির নেতা বহিষ্কৃত হওয়ার পর নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ নিলে জামায়াতের ওপর তার খুব বেশি প্রভাব পড়ার কথা নয়। রাজনৈতিক নীতিকৌশলের প্রশ্নে জামায়াতের মধ্যে মতবিরোধ বা মতভিন্নতা একটু থাকলেও সেটাকে বড় করে দেখে না জামায়াত নেতৃত্ব। গণহারে দল বদলের ঘটনা জামায়াতে ঘটবে না এই কারণে যে, জামায়াতে যোগদান প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠিন। অনেক যাচাই-বাছাই করেই কাউকে জামায়াতের সদস্য পদ দেওয়া হয়। তাই হুটহাট দল বদলের ঘটনা জামায়াতের নেই।

তবে জামায়াতের মধ্যে একটি ক্ষুদ্র গ্রুপ তৈরি হয়েছে যারা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ভূমিকার জন্য লজ্জিত। তারা জামায়াতের অতীত ভূমিকা বদল করে নতুন নামে দল করার পক্ষে। নতুন নামে দলগঠনের প্রক্রিয়ায় যারা যুক্ত তারা দলের মধ্যে একেবারেই সংখ্যায় কম। জামায়াত বিলুপ্ত করে একাত্তরে স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য ক্ষমা চেয়ে নতুন নামে দল গঠনের কথা বলে হালে পানি না পেয়ে শেষ পর্যন্ত জামায়াত ছেড়েছেন সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তার পদত্যাগের পর জামায়াতের ভেতরে কিছুটা নড়াচড়া লক্ষ করা গেলেও এখন আবার সব ঠা-া। সরকার জামায়াত নিষিদ্ধ করতে পারে- এমন একটি আশঙ্কা থেকে নতুন নামে দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েও জামায়াত আর অগ্রসর হয়নি। আসলে তারা আগ বাড়িয়ে কিছু করতে চায় না। উদ্ভূত পরিস্থিতির আলোকেই তারা সিদ্ধান্ত নিতে চায়।

ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু ‘জনআকাক্সক্ষার বাংলাদেশ’ নামের যে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করেছেন সেটা না জামায়াতের বিকল্প নতুন জামায়াত, না এটা জামায়াতের জন্য কোনো চ্যালেঞ্জ। যেহেতু নতুন ওই রাজনৈতিক দলটি ধর্মভিত্তিক হবে না বলে বলা হচ্ছে, সেহেতু জামায়াত থেকে উল্লেখযোগ্য কেউ ওই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবেন বলেও মনে হয় না। হেভিওয়েট বা স্টার পলিটিশিয়ান কেউ না থাকলে মঞ্জুর আহ্বান সাড়া দিয়ে কারা তার নতুন প্রক্রিয়ায় যোগ দেবেন তা বলা মুশকিল।

রাজনীতিতে কোন বিশেষ ধারার প্রতিনিধিত্ব করবে ‘জনআকাক্সক্ষার বাংলাদেশ’ তা এখনও পরিষ্কার নয়। মজিবুর রহমান মঞ্জু তার দল গঠনের ঘোষণা দেয়ার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীসহ বিদ্যমান কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি আরো বলেছেন, আমরা কোনো ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল গঠন করবো না। আমরা যে রাজনৈতিক দল গঠন করতে যাচ্ছি -তা হবে ধর্ম, জাতি, লিঙ্গ, নির্বিশেষে সকলের জন্য গ্রহণযোগ্য, উন্মুক্ত একটি প্লাটফর্ম।

দেখা যাক। পরিস্থিতি মঞ্জুকে কোন জনআকাক্সক্ষা পূরণের দিকে নিয়ে যায়। তবে জামায়াত যে আপাতত বদলাচ্ছে না, তা বলা যায় নির্দ্বিধায়।

লেখক: গ্রুপ যুগ্ম সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত