প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এমপিদের শপথ নিয়ে বিএনপিতে তালগোল

বিভুরঞ্জন সরকার : আবার সরকারের জয় হলো। পরাজয় হলো বিএনপির। অনেক কায়দা-কৌশল করেও বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ ঠেকাতে ব্যর্থ হলো। বিএনপির নীতিনির্ধাকরা সংসদে না যাওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দলের পাঁচ এমপি শপথ নিয়ে বিএনপির রাজনীতির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। বিএনপি নেতারা দলের সিদ্ধান্ত অমান্যকারী এমপিদের যতো গালিগালাজই করুন না কেন, তাতে দলের সংকট কমবে না। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ফলাফলকে তাৎক্ষণিকভাবে এক কথায় নাকচ করাটা সঠিক ছিলো না। নির্বাচনের ত্রুটি দুর্বলতা সীমাবদ্ধতার কথা বলেও নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিলেই রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দেয়া হতো। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলো আন্দোলনের অংশ হিসেবে। ফলাফলও মেনে নেয়া উচিত ছিলো একই যুক্তিতে ।

কিন্তু নির্বাচনে গোহারা হেরে রাগে ক্ষোভে দিশেহারা বিএনপি প্রথমেই হাতের অস্ত্র তুলে দিয়েছে সরকারের হাতে। নির্বাচন নিয়ে দেশের মানুষের প্রতিক্রিয়াও বিএনপি বিবেচনায় নেয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি। নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে না পারলেও ভোটের ফলাফলের বিরুদ্ধে কোথাও সংঘটিত প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি। মানুষ ধরেই নিয়েছিলো যে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করবে এবং প্রধানমন্ত্রী হবেন শেখ হাসিনা। বিএনপি আরো কিছু বেশি আসন পেলে ভালো হতো। সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্যও সেটা মঙ্গলজনক হতো। কিন্তু যা হয়নি তা নিয়ে বিলাপ করাটা কোনো কাজের কাজ নয়। বিএনপি বিলাপের কৌশল নিয়ে ভুল করেছে। এখন দুই দফায় বিএনপির পাঁচ এমপি শপথ নেয়ার পর প্রশ্ন আসবে, এরপর কি করবে বিএনপি? দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের সিদ্ধান্ত মেনে শপথ গ্রহণ থেকে বিরত রয়েছেন। তার এমপি পদ বহাল রাখার চেষ্টা করা হবে, নাকি তার বলিদানের মধ্য দিয়ে নেতৃত্বের ক্রোধ প্রশমিত হবে? মির্জা ফখরুলের অবস্থান যদি সঠিক হয় তাহলে বাকি পাঁচজনের অবস্থান ভুল হওয়ার কথা।

এখন কি ব্যাখ্যা দেবেন বিএনপির বাক্যবাগীশ নেতারা? ঠাকুরগাঁও থেকে নির্বাচিত এমপি জাহিদুর রহমান শপথ নেয়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। অন্যদের শপথ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু সব নাটকীয়তা শেষে ২৯ এপ্রিল বিকেলে অন্য চার এমপি শপথ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন, দলীয় সিদ্ধান্তেই তারা শপথ নিয়েছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্মতি পাওয়ার কথাও তারা বলেছেন। তাহলে মির্জা ফখরুল কি দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করলেন? শপথ গ্রহণকারী পাঁচ এমপি কি এখন মির্জা ফখরুলকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেবেন? কার সিদ্ধান্ত কে নেয়? বিএনপির মতো একটি বড়ো দল এভাবে চললে কি হবে পরিণতি?

সব মিলিয়ে কি দাঁড়ালো ব্যাপারটা? বিএনপি-রাজনীতির তালগোল অবস্থাটাই কি প্রকাশ হয়ে পড়লো না? বিএনপি যে তার রাজনৈতিক নীতিকৌশলে দৃঢ় নয় সেটা প্রকাশ হওয়ার পর দলটির ভাবমূর্তি মানুষের সামনে আরো মলিন হয়ে পড়লো নাকি?

লেখক: গ্রুপ যুগ্ম সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত