প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ড. মীজানুর রহমান বললেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে

আমিরুল ইসলাম : সাম্প্রতিক সময়ে পুরো বিশ্বে জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস তাদের এক বার্তায় বাংলাদেশে জঙ্গি হামলা চালানোর কথা বলেছে। রোহিঙ্গারা আমাদের দেশে অবস্থান করায় আমরা এমনিতেই জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় রয়েছি। এ অবস্থায় আমাদের দেশে জঙ্গি তৎপরতা দমনের জন্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সামর্থ্য রয়েছে কিনা, না থাকলে কী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেছেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সাথে সাথে আমাদের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে ও গোয়েন্দাবাহিনীকে অত্যন্ত তৎপর হতে হবে। যাতে কোনো রকমের হামলার সুযোগ জঙ্গিরা তৈরি করতে না পারে।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে আমাদের যে পুলিশি ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর যে ব্যবস্থা, গোয়েন্দা বাহিনীর ব্যবস্থাকে সবাই প্রশংসা করে। কারণ আমাদের এখানে সঠিকভাবেই তারা জঙ্গি তৎপরতাকে অবদমিত করে রাখছে। কোনো জায়গায় জঙ্গিরা সংগঠিত হওয়ার আগেই র‌্যাব, সোয়াত বাহিনী তাদের ওপর আক্রমণ করতে পারছে, এটা একদিক দিয়ে আমাদের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর দক্ষতা। জঙ্গি হামলা যারা করে বা যারা আত্মঘাতি হামলা চালায় তাদেরকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর তৎপরতা দিয়ে ঠেকানো যায় না। আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে আইএস যারা ছিলো সেখান থেকে আস্তে আস্তে তারা উচ্ছেদ হয়ে গেছে। উচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই তারা বিভিন্ন দেশে প্রবেশ করার চেষ্টা করছে। আমাদের দেশ থেকেও অনেকে আইএসে যোগ দিয়েছিলো। এখন যেহেতু তারা উচ্ছেদ হয়ে গেছে তারা দেশে ঢোকার চেষ্টা করবে। ঢোকার পর তাদের যে ট্রেনিং আছে তার দ্বারা আমাদের এখানে জঙ্গি তৎপরতা চালানোর আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে মিয়ানমারে থেকে যে রোহিঙ্গারা আসছে, তাদের মধ্যে বঞ্চনা আছে, ধর্মান্ধতা আছে। তাদেরকে নাগরিকত্ব দেয়া হয় নাই। তাদের ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে, হত্যা, লুণ্ঠন সবই তাদের ওপর দিয়ে গেছে এবং তারা দেশ ছাড়া হয়েছে। যারা জঙ্গি তৎপরতা সারা বিশে^ চালাচ্ছে। তাদের সাথে মিল রয়েছে এরকম লোকেরও অভাব নেই রোহিঙ্গাদের মধ্যে। আইএস যখন জঙ্গি সংগ্রহ করে তখন এরকম লোকই তারা খোঁজে। যারা একেবারে সবদিক থেকে বঞ্চিত ও বিক্ষুব্ধ। এটা একটা আশঙ্কার বিষয়। রোহিঙ্গা সমস্যা যদি দীর্ঘদিন টিকে থাকে তাহলে সেখান থেকে কিছু লোকের জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আইএস জঙ্গিরা বিতাড়িত হয়েছে, তারা আমাদের দেশে ফেরত আসছে এটা একটা আশঙ্কা। আরেকটা হচ্ছে আমাদের দেশে জঙ্গিবাদে জড়িত করার মতো লোক আগে থেকেই ছিলো। আমাদের দেশে ধর্মান্ধ ও মৌলবাদী যারা রয়েছে, এদের মধ্যে জঙ্গিবাদে বিশ্বাস করে এরকম লোকও আছে। সবাই মিলে এখন আলাদা আলাদাভাবে তারা তাদের দর্শন ও লক্ষ্য অর্জন করার জন্য বিভিন্ন তৎপরতা চালাতে পারে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী যারা আছে তাদেরকে আরো সতর্ক ও তৎপর হতে হবে। আরেকটি হচ্ছে সামাজিক ভাবে। সামাজিকভাবে নাগরিকদের দায়িত্ব হচ্ছে এ ধরনের অপতৎপরতার খবর থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। যে সব কারণে জঙ্গি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলোকে আমাদের সামাজিকভাবে মোকাবেলা করতে হবে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা, নির্যাতন, শোষণ এইগুলোর পরিবর্তন আনতে হবে। এগুলো আমরা ভালোভাবে সুরাহা করতে পারলে আমাদের দেশে জঙ্গিবাদের যে আশঙ্কা আছে সেটা দূর করা যাবে। আমাদের সাংস্কৃতিক কর্মকা- বাড়ানো হলে মানুষের মন যখন বিকশিত হবে ও উন্মুক্ত হবে তখন ধর্মান্ধতা, মৌলবাদ, ক্ষদ্রতা ও মানুষ হত্যা করার মতো যে অপকর্ম এগুলো থেকে আস্তে আস্তে তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা শক্তিশালী বলেই এখন প্রায়ই দেখা যায় কোনো জায়গায় যখন তারা সংগঠিত হয় আক্রমণ করার জন্য তখনই র‌্যাব, সোয়াত হানা দেয়। যেহেতু জঙ্গি তৎরতা এখন বৈশি^ক তাই আন্তর্জাতিক যতো এজেন্সি আছে তাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক আরো বাড়াতে হবে এবং তথ্য বিনিময় করতে হবে জঙ্গি তৎপরতার ব্যপারে। আমাদের জঙ্গিরাতো আমাদের দেশের কারো নির্দেশে চলে না। তাদেরকে বিদেশ থেকে নির্দেশ দেয়া হয়। অস্ত্র ও অর্থের যোগান বিদেশে থেকে আসে। সে জন্যই আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা আরো বাড়াতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত