প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ছেলের লাশের খোঁজে ঘুরছেন এক মা

ডেস্ক রিপোর্ট : ভোলার শাহাবুদ্দিন কামরাঙ্গীর চরে থেকে কখনো রিকশা কখনো ভ্যান চালাতেন। ঋণের টাকা শোধ করতে ১ বছর আগে ঢাকায় আসেন তিনি। প্রতিদিনের মতো ২০শে ফেব্রুয়ারি রাতে ভ্যানে করে পণ্য নিয়ে যাচ্ছিলেন। চকবাজারে আগুনের ঘটনার আগে স্ত্রী ছখিনা বেগমের সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়। বলেছিলেন ভ্যানের মালামাল নামিয়ে বাড়িতে টাকা পাঠাবেন। এরপর থেকে অপেক্ষায় ছখিনা বেগম। তিন ছেলেকে নিয়ে এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

এদিকে ছেলের খোঁজে ঘুরছেন শাহাবুদ্দিনের বৃদ্ধা মা ও বাবা।

মায়ের আকুতি, আমার বাবার লাশের খবরটা দেন। শাহাবুদ্দিনের মা লাইলি বেগম বলেন, ‘পুতেরে হারিয়ে আমি পাগলের মতো হয়ে গেছি। সারাক্ষণ শুধু পুতের জন্য কাঁদছি। পুতের কোনো খোঁজ পেলাম না। পুতের একটু কথা শুনলাম না। ছেলের জন্য আজ এর কাছে কাল ওর কাছে যাই। ওর লাশটা খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু কেউ তার সন্ধান দিতে পারছে না। আমার ছেলের লাশটা কি পাওয়া যাবে?’

শাহাবুদ্দিনের তিন ছেলে। বড় ছেলে শান্ত’র বয়স ১৩ বছর। সে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। মেজো ছেলে সাগর তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ছোট ছেলে রাব্বির বয়স মাত্র ৯মাস। শাহাবুদ্দিনের আয়ে চলতো তাদের পাঁচ সদস্যের সংসার। তিন ছেলেকে নিয়ে ছখিনা এখন ধার কর্জ করে দিন পার করছেন। শাহাবুদ্দিনের অন্য ভাইয়েরা খুব একটা সচ্ছল না। তারাও দিন মজুরি করে জীবন চালান।

ঢাকা আসার আগে গ্রামের বাড়িতে রিকশা চালাতেন শাহাবুদ্দিন। কিস্তিতে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে বানিয়েছিলেন নতুন টিনের বাড়ি। সঙ্গে কিনেছিলেন একটি গরু।

মা লাইলি বেগম বলেন, ঢাকা আসার আগে বারবার বলেছি, তুমি ঢাকা যেওনা। ছোট ভাই তাকে বলেছে, ভাইয়া তুমি ঢাকা যেওনা। তোমাকে একটি রিকশা কিনে দেই। এলাকায় রিকশা চালাও। এসময় সে ছোট ভাই স্বপনকে বলে, ভাই আমি দুই মাস ঢাকায় থাকবো। দেনার টাকা শোধ করার পর চলে আসবো। ঢাকায় এসে আমাকে ফোনে জানায়, মা আমার দেনার টাকা যদি শোধ করতে পারি তাহলে আমি ১ মাসের জন্য চিল্লায় যাবো। আমার বাবা সারা জনমের জন্য বুঝি চিল্লায় চলে গেছে।
সূত্র : মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত