প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফ্লোর পেয়েই খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইলেন এমপি হারুন

বাশার নূরু : সংসদে অধিবেশনে যোগ দিয়ে ফ্লোর পেয়েই দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানালেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ।

তিনি বলেন, সংসদ নেতাকে (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) বলব, অবিলম্বে বিষয়টি (খালেদা জিয়ার মুক্তি) কার্যকরের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। আমরা আশা করি, আদালত যদি স্বাধীনভাবে চলতে পারে, ওখানে যারা আছেন, তারা যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন, তাহলে আমাদের প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কালই জামিন পাবেন। আপনি (শেখ হাসিনা) দ্রুত ব্যবস্থা করুন।

সোমবার রাতে একাদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের চতুর্থ কার্যদিবসে কার্যপ্রণালীবিধির ১৪৭ বিধির আওতায় প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। আলোচনার একপর্যায়ে বিএনপি এই সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘আমার নেত্রী’ বলেও সম্বোধন করেন।

খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে হারুনুর রশিদ বলেন, নেত্রী দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে কারাগারে বন্দি। তিনি হুইল চেয়ারে চলাফেরা করছেন। তার তো জেলে থাকার কথা নয়। অন্তত জামিন হওয়া উচিত। উচ্চ আদালতকে যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেন, ওখানে অ্যাটর্নি জেনারেলসহ সরকারি কর্মকর্তা যারা আছেন, তারা যদি সত্যিকার অর্থে বাধা না দেন, আমি বিশ্বাস করি তিনি কালকেই জামিন পাবেন। তিনি কালকেই জামিন পাবেন, এটিই আমরা প্রত্যাশা করব।

এসময় তিনি সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলেন, মাননীয় সংসদ নেতা, আপনি পারেন। আপনি যে পারবেন, সেটি প্রমাণ করেছেন। এজন্য বলব, এখন বিষয়গুলোর জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। আমাদের নেত্রীকে মুক্তি দেবেন, এটিও বলবেন যে হ্যাঁ, তাদের সংসদ সদস্যরা সংসদে প্রবেশ করেছেন, আমিও মুক্তি দিয়েছি। তাহলে দেশের মানুষের কাছে বলতে পারব, আমরা সংসদে গেছি। তার ফলে প্রধানমন্ত্রী আমাদের নেত্রীকে মুক্তি করেছেন।

বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে নিয়ে আনতে হবে। বিএনপিকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে বিএনপি এভাবে দেশে সত্যিকার অর্থে শান্তি ফিরে আসবে না। আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিতে হবে। দেশে অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হচ্ছে। কিন্তু দেশে ভয়াবহ লুটপাটও হচ্ছে। সেগুলো বিরুদ্ধে যদি সঠিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, তাহলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। আমরা কয়েকজন সদস্য। আমরা সংসদে এসেছি সত্যিকারের কথাগুলো বলার জন্য। দেশের সংগঠিত ঘটনাগুলো বলব। সঠিক তথ্য বলার চেষ্টা করব। সুযোগ দিলে আপনারাই উপকৃত হবেন। সংসদকে কার্যকর করতে চান, তাহলে সংখ্যালঘুদের সুযোগ দেবেন। এই জায়গা তোষামদি করার জন্য নয়। আমরা সত্যিকার কথাগুলো বলতে এসেছি।

হারুনুর রশিদ বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে নিঃসন্দেহে সারাদেশে বির্তক রয়েছে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করা হয়েছে। যেভাবেই বলি না কেন, ৩০ তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। আমরা পাঁচ জন সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণ করে এখানে এসেছি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে এসেছেন আরও দুইজন। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনে প্রথম সংসদ অধিবেশন বসার ৯০ দিন শেষ হওয়ার ঠিক আগে আগে আমরা সংসদে এসেছি। এজন্য দলকে সম্মত করাতে আমাদের অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত