প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কুমিল্লায় কুড়ি কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন

মাহফুজ নান্টু : কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার গোমতীনদী সংলগ্ন ২০ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী। এ অভিযানে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর লোকজনসহ উপস্থিত জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আইনশৃংখলাবাহিনীকে গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন করতে উপজেলা আওয়ামীলীগনেতা বিল্লাল হোসেন বাধা প্রদন করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

কুমিল্লা বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর ডিজিএম (সিকিউরিটি) মোঃ হেলাল উদ্দিন শিকদার জানান, আমরা অবৈধ গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন করতে বুড়িচং উপজেলার আমতলী এলাকা গোমতীনদী সংলগ্ন বালীখাড়া ব্রীজ হয়ে নদীর ওপাড়ে প্রায় বিশ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন করতে যাই। এ অভিযানে আমাদের সাথে বুড়িচং উপজেলার ভূমি কর্মকর্তা ফাহমিদা খানম, র‌্যাব ও পুলিশের দুটি টিমসহ বাখরাবাদ গ্যাস ডিসট্রিবিউশন কোম্পানীর উর্ধ্বতণ কর্মকতা এবং মেকানিকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই।

এ সময় উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ষোলনল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন তার সহযোগী সোলায়মানসহ আরো বেশ কয়েকজন লোকজন আমাদেরকে বাধা প্রদান করে। এ সময় তারা স্থানীয় সাংসদ ও সাবেক আইনমন্ত্রী এড.আবদুল মতিন খসরুর অনুমতি নিয়ে আসছি কিনা জানতে চায় এবং বুড়িচং উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার(ভূমি) ফাহমিদা খানমকে হুমকি ধমকি প্রদান করতে থাকে। বিল্লাল হোসেন অভিযানে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্য বলেন এ লাইন অবৈধ নয়। সে কিছু কাগজপত্র দেখায়। যা আসলে জাল বলে প্রমানিত হয়।পরে আইনশৃংখলা বাহিনীর তৎপরতায় ওই আওয়ামীলীগ নেতা বেশীক্ষন থাকেন নি।

জানা যায়, গত তিন বছর ধরে কুড়ি কিলোমিটার এ লাইনের মাধ্যমে ৩৩’শ টি চুলোয় গত তিন বছর ধরে গ্যাস সঞ্চালন করা হয়। এতে সরকারের কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
এদিকে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর কাজে বাধাদানের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামীলীগ নেতা বিল্লাল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করেন। আওয়ামীলীগ নেতা বিল্লাল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে যা বলার তা আমাদের এমপি সাব ( আবদুল মতিন খসরু) বলবেন। আমি কোন কথা বলবো না। আমরা বৈধভাবে লানি সংযোগ দিছি।

এদিকে গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন হওয়া ৩৩’শ চুলার মালিকগণের মধ্যে অন্তত ৫০ জন জানান, তারা বিল পরিশোধের বইয়ের মাধ্যমে প্রতিমাসে নিয়মিত গ্যাস বিল পরিশোধ করে আসছে। এছাড়াও গ্যাস সংযোগ পেতে তারা অনেকেই প্রতিটি রাইজারের জন্য ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম পরিশোধ করেছেন বলে অভিযোগ করেন। এখন তাদের প্রশ্ন আমাদের থেকে এভাবে অবৈধ উপায়ে এত টাকার বিনিময়ে কেন গ্যাস সঞ্চালন লাইন প্রদান করা হলো। তারা বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠ তদন্তের দাবী জানান।

খরাবাদ গ্যাস ডিসট্রিবিউশন লি: এর কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত না থাকলে কিভাবে এই কুড়ি কিলোমিটার অবৈধ লাইন সংযোগ দেয়া হলো এমন প্রশ্নের জবাবে ডিজিএম (সিকিউরিটি) মোঃ হেলাল উদ্দিন শিকদার জানান, নিশ্চয়ই এখানে কেউ না কেউ জড়িত রয়েছে। নয়তো কিভাবে কুড়ি কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস সঞ্চালন লাইন সংযোগ দেয়া হয়েছে।এখন মেকানিকরা এতটা স্মার্ট হয়ে গেছে যে গ্যাস সংযোগ দিতে আর ইঞ্জিনিয়ার লাগে না। তারা নিজেরাই এ কাজ করতে পারে। তাই আমরা আভ্যন্তরিনভাবে তদন্ত করছি। দায়ীদের বিষয়ে অবশ্যই বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতণ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড এর উদ্যাগে ও বুড়িচং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ভ্রামমান আদালতের মাধ্যমে সদর উপজেলার আমতলী থেকে বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সময় নেতৃত্ব দেন বুড়িচং উপজেলার সহকারী কমিশনার ভুমি ফাহমিদা খানম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড এর প্রকৌশলী বিভাগের ডিজিএম মর্তুজ রহমান খান, ডিজিএম সেলস্ সাইফুল আলম ভুইয়া, ডিজিএম ভিজিল্যান্স রবিউল হক ও ডিজিএম সিকিউরিটি মোঃ হেলাল উদ্দিন শিকদারসহ র‌্যাব,পুলিশ ও অন্যান্য কর্মকর্তারা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত