প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ছিনতাইয়ের পর ট্রেন থেকে ফেলে ২জনকে হত্যা, গ্রেফতার ৪

সুজন কৈরী : ছিনতাইয়ের পর ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে দুইজনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করেছে রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি)। নিহতরা হলেন- সাইফুল মোল্লা (৩৮) ও হারুন মিয়া (৩০)। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. মোশারফ হোসেন (২৫), মো. রিংকন আকন্দ ওরফে রানা আকন্দ (২৮), মো. রবিন (১৮) ও মো. নয়ন মিয়া (২০)।

সোমবার বিমানবন্দর রেলস্টেশন ও টঙ্গীসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

রেলওয়ে থানা পুলিশ (কমলাপুর) জানায়, গত ২৩ রাতে ও ২৪ এপ্রিল সকালে ধীরাশ্রম রেলষ্টেশনের দক্ষিনপার্শ্বের মোল্লাপাড়া রেলক্রসিংয়ের সামনে থেকে দুইজন অজ্ঞাতনামা পুরুষের লাশ দেখতে পেয়ে ষ্টেশন মাষ্টারকে জানান স্থানীয়রা। ষ্টেশন মাষ্টার জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সুব্রত দাসকে লিখিত মেমোর মাধ্যমে জানান। এরপর এসআই ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইজনের মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠান।

এরপর পিবিআইয়ের বনশ্রী কার্যালয়ের মাধ্যমে অজ্ঞাতনামা দুইজনের মৃতদেহের আঙ্গুলে ছাপ পরীক্ষা করে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয় এবং উভয়ের পরিবারের কাছে মৃতদেহ ময়নাতদন্ত শেষে হস্তান্তর করা হয়। পরে নিহত সাইফুল মোল্লার ভাই মো. মফিজুল মোল্লা এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে রোববার রেলওয়ে থানায় হত্যা মামলা (নম্বর-২২) করেন। মামলাটি তদন্তকালে পুলিশ সন্ধেহভাজন হিসেবে মোশারফ হোসেনকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় ঘটনার সঙ্গে নিজের জড়িত থাকা ও তার সহযোগীদের বিষয়ে স্বীকারোক্তী দেয়। পরে তাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর তিনজকে আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ঢাকা রেলওয়ে থানা পুলিশ জানায়, গত ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় টঙ্গী রেলওয়ে ষ্টেশনে মামলার আসামি রানা, নয়ন, শাহীন, মোশারফ, পাবনার সাগর, সাইফুল, রবিন, চিকু, হৃদয় একত্রিত হয়। সন্ধ্যা ৭টায় সবাই বিমানবন্দর রেলওয়ে ষ্টেশনে যায় এবং ১নম্বর লাইনের প্লাটফর্মে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করে। রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া চিত্রা ট্রেন ষ্টেশনের ১নম্বর প্লাটফর্মে দাড়ালে সবাই ট্রেনে উঠে পড়ে। ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার সময় চলন্ত ট্রেনের পিছনের বগির ছাদে উঠে। টঙ্গী ষ্টেশন পার হওয়ার পর তারা ছাদের অন্য বগিতে ৪জন যাত্রীকে দেখতে পায়। তারা সবাই ওই চার যাত্রীদের নাম-ঠিকানা জিজ্ঞাসা করে এবং মারধর করে। শাহিন ও পাবনার সাগরের কাছে থাকা ছোরা দেখিয়ে যাত্রীদের কাছে থাকা টাকাসহ মূল্যবান সামগ্রী দ্রুত দিয়ে দিতে বলে। কিন্তু চার যাত্রীর মধ্যে দুইজন দৌড়ে পালিয়ে অন্য বগির ছাদের দিকে চলে যায়। বাকী ২জনকে মোবাইল টাকা পয়সা দেয়ার জন্য বারবার বলার পরও না দেয়ায় তারা মারধর করে ও শাহিন, সাগর ছোরা দিয়ে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ২জন যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়। পরে রানা, শাহিন, সাগর শোর চিৎকার করে তাদের ২জনকে পিছনে যাওয়ার জন্য বলে তারা ছাদের অন্য বগিতে যাওয়ার সময় ধাক্কা মেরে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে দেয়। দুই যাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া টাকা ও ৩টি মোবাইল ফোনসেটের মধ্যে রানা রবিনকে ১টি নোকিয়া বাটন মোবাইল ও ভাত খাওয়ার জন্য ১শ’ টাকা দেয় এবং নয়নকে ৩শ’ টাকা দেয়। পরে ট্রেনটি জয়দেবপুর রেলওয়ে ষ্টেশনে থামানোর আগে আউটারে মামলার আসামিরা চলন্ত ট্রেন থেকে নেমে পড়ে। এরপর ঢাকামুখি লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে বিমানবন্দর রেলওয়ে ষ্টেশনে যায়।

রেলওয়ে থানার ওসি ইয়াসির ফারুক মজুমদার বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ৮জনের মধ্যে চারজনকে সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি চারজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত