প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঘিওরে বহিস্কৃত যুবলীগ নেতার জমজমাট মাটির ব্যবসা

জাহিদুল হক চন্দন : মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের ধূলন্ডী এলাকায় ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধা হচ্ছে না। এতে ঘিওর উপজেলায় ক্রমেই কমে যাচ্ছে তিন ফসলি আবাদি জমির পরিমান। অন্য দিকে পিচঢালা পাকা রাস্তারও ক্ষতি হচ্ছে বলে জানায় এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন যুবলীগের বহিস্কৃত সহ-সভাপতি লিটন রানা ধূলন্ডী এলাকায় ফসলি জমির মাটি কেটে ব্যবসা করছে। ওই এলাকার সালাম নামের এক ব্যক্তির কাছ ৪৬ শতাংশ ফসলি জমির মাটি খননযন্ত্র(ভেকু) দিয়ে মাটি কেটে এলাকার বিভিন্ন বসতবাড়ি জায়গা ভরাটে মাটি বিক্রি করছে।

এসব মাটিবহন করা ট্রাক চলাচলের কারণে শুধু কৃষি জমির ক্ষতিই নয় পাকা রাস্তারও অনেক ক্ষতি হচ্ছে । এ ছাড়া পাশেই ধূলন্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। স্কুলে চলাকালীন সময়েও এসব মাটিবোঝাই করা ট্রাক রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরা। তবে, মাটির ব্যবসায়ী সরকার দলীয় যুবলীগের নেতা হওয়ায় এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে এই কাজ করছে। ফলে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায় না বলে জানায় এলাকাসাবী।

ধূলন্ডী গ্রামের কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ফসলি জমি কেটে পুকুর করার কথা বলে জমির মাটি কেটে এলাকার বিভিন্ন স্থানে বসতবাড়ি ভরাটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। রাস্তা দিয়ে সবসময়ই ট্রাকগুলো অনেক গতিতে চলাচল করে। ট্রাকগুলো চলাচলের কারণে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা অনায়ানে চলাচল করতে পারে না। আর শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা সবসময়ই দুশ্চিন্তায় থাকে কোনো দুর্ঘটনা হলো কি না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন যুবলীগের এক নেতা বলেন, গত বছর লিটন রানার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারী ও ধষর্ণের অভিযোগে দলীয়ভাবে তাকে বহিস্কার করা হয়। ওই ঘটনা নিয়ে অনেক জাতীয় দৈনিক পত্রিকায়ও সংবাদ প্রকাশিত হয়।

তিনি আরো বলেন, এলাকায় তিন ফসলি কৃষি জমির মাটি কিনে বিক্রি করে। জমির মালিকের কাছ জমির মাটি কিনে তারপরে বিভিন্ন স্থানে মাটি বিক্রি করে। এতে কৃষি জমির পরিমান যেমন কমে যাচ্ছে আবার যে জমির মাটি কাটা হয় তার পাশের জমির ভারি বৃষ্টি হলেই পার ভেঙে পরে ফসলের ক্ষতি হয়।

কৃষি জমির মাটি কাটার ব্যাপারে জানতে চাইলে বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা লিটন রানা বলেন, আমি আমার নিজের জমি কেটে পুকুর করছি। তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কিংবা উপজেলা মৎস কর্মকর্তার নিকট থেকে ফসলি জমি রদবদল করার ব্যাপারে তিনি কোনো কাজগপত্র নেননি। তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলেই মাটি কাটছি। মুঠোফোনে তার পুরো নাম জানতে চাইলে প্রতিবেদককে বলেন, আপনি আমার এলাকায় এসে সব দেখে শুনে নিয়ে যান তবুও এতো ফোনটোন দিয়েন না আর আপনাগো যা দেয়ার দিয়ে দেন বলে ফোনটি কেটে দেন তিনি।

এ ব্যাপারে ঘিওর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী সরকার রাখী জানান, ইতিপূর্বে যারাই ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ধূলন্ডী এলাকায় খোঁজখবর নিয়ে আইনহত ব্যবস্থা নেয়া হবে ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত