প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শেষ বয়সে স্বস্তিতে নেই এরশাদ

ইউসুফ আলী বাচ্চু : শেষ বয়সে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। কাউকে আর বিশ্বাস করতে পারছেন না তিনি। আর এ কারণে অনেকটা নির্জীব বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসা।

বাসায়ও নিরাপদ বোধ করছেন না এরশাদ। আর এজন্য স্বাস্থ্যের অজুহাতে হলেও প্রায়ই রাত কাটান সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ( সিএমএইচ)। নিজ গঠিত ট্রাষ্টে সম্পদ দান করার পর থেকে আতঙ্ক আরো বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত ২৪ এপ্রিল স্বাক্ষর জাল ও সম্পদের নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এরশাদ। জিডিতে অভিযোগ করা হয়েছে, তার বর্তমান ও অবর্তমানে স্বাক্ষর নকল করে পার্টির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, দলের বিভিন্ন পদ-পদবি ভাগিয়ে নেয়া, ব্যাংক হিসাব জালিয়াতি এবং পারিবারিক সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য হাতিয়ে নেয়া ও আত্মীয়-স্বজনদের জানমাল হুমকির মুখে রয়েছে। এ কারণে তিনি মনে করেন অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে কেউ যেন এমন অপরাধ করতে না পারে, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দরকার।

এ বিষয় জানতে চাইলে জিএম কাদের বলেন, আমি তো নিয়মিত খোঁজ খবর রাখছি তবে অনেক সময় রাখতে পারি না, নিজের কাজ থাকে। আর বয়স হওয়ার কারণে প্রত্যেক মানুষের মধ্যে তো একটু হতাশা কাজ করে।

এরশাদেও এক সহকারী ছাত্তার জানান, স্যার শরীর একটু খারাপ অনুভব করলেই হাসপাতালে যান এটা তার নিয়মিত কাজ। সব সময় স্যার আতঙ্কে থাকেন। দিন দিন আতঙ্ক বাড়ছে। গত দুই-তিন সপ্তাহ হলো স্যার বাড়িতেই থাকছেন না, বিশেষ করে রাতে। বাসভবনের চেয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালেই তার সময় কাটছে বেশি। হাসপাতালকেই বেশি নিরাপদ মনে করছেন তিনি। এমনকি গতকাল এই প্রতিবেদকের সঙ্গে রাতে কথার বলায় সময় ওই ঘনিষ্ঠজন এরশাদের সঙ্গে হাসপাতালে বলেও জানান।

এরশাদের ঘনিষ্ঠজনরা বলেন, বিদিশার সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর থেকেই প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসভবনে এরশাদের এক প্রকার নিঃসঙ্গ সময় কাটছে। বিদিশার সন্তান এরিক ও কয়েকজন কর্মচারী এবং গৃহপরিচারক ও পরিচারিকা থাকেন ওই বাসাতে। এরাই মূলত এরশাদের দেখভাল করেন। বিদিশাকে বিয়ে করার পর থেকে রওশন এরশাদ গুলশানের পৃথক বাড়িতে ওঠেন। এরপর তিনি কখনোই প্রেসিডেন্ট পার্কে যাননি।

এরশাদের এক কর্মচারী বলেন, স্যারের শরীরটাও ভালো নেই। হাঁটতে পারেন না। হুইল চেয়ারে করে নড়াচড়া করেন। বাসায় থাকতে ভয় পান। কেউ আসেন না দেখতে। ভাই জিএম কাদের আসেন। মশিউর রহমান রাঙ্গাসহ পার্টির কিছু লোকজন আসেন। কিন্তু তার দুই স্ত্রীর একজনও আসেন না। স্যার এখনো হাসপাতালে। আমি হাসপাতাল থেকেই কথা বলছি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, একেবারে জীবনের শেষ দিকে এসে স্যারের যে এমন পরিণতি হবে, তা ভাবতেও পারিনি। যে লোকটা এত মানুষের জন্য এত কিছু করেছেন, এখন তাদেরই তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না। ভয়ে ভয়ে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কারও সঙ্গে দেখা করছেন না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত