প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাল কারবারিদের নজর হাজার টাকার নোটে

ডেস্ক রিপোর্ট : জাল কারবারিরা সাধারণত এক হাজার টাকার নোট বেশি জাল করে থাকে। কারণ এতে বেশি মুনাফা পাওয়া যায়। এর পরেই রয়েছে ৫০০ ও ১০০ টাকার নোট। আর কম মূল্যমানের নোট সাধারণত তারা জাল করে না।

জাল নোট সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, সাধারণত কোনো উৎসব বা কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে নগদ লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে গেলে নোট জালকারীরা তৎপর হয়ে ওঠে।

ওই সময়ে মানুষ দ্রুত লেনদেন করে। একটু অসতর্কও থাকে। ফলে চক্রটি বাজারে জাল নোটের প্রচলন ঘটাতে সক্ষম হয়। তাই আসছে রোজা ও ঈদকে ঘিরে নোট জাল কারবারিচক্রের তৎপরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদের তৎপরতা ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট থেকেও এ বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ বিষয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকেও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে এক হাজার টাকার মূল্যমানের ২ হাজার ৩৪৭টি জাল নোট (২৩ লাখ ৪৭ হাজার টাকা)। একই সময়ে ৫০০ টাকা মূল্যমানের ৫৬৪টি এবং ১০০ টাকা মূল্যমানের ৫৯১টি জাল নোট ধরা পড়ে। অর্থাৎ ৫০০ ও ১০০ টাকার নোট জাল হয়েছে যথাক্রমে ২ লাখ ৮২ হাজার এবং ৫৯ হাজার ১০০ টাকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত এক হাজার টাকার মূল্যমানের ৬৮২টি জাল নোট ধরা পড়ে। অর্থাৎ ৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা জাল করা হয়েছে।

একই সময়ে ৫০০ টাকা মূল্যমানের ১২৩টি এবং ১০০ টাকা মূল্যমানের ১২টি জাল নোট ধরা পড়ে। অর্থাৎ ৫০০ ও ১০০ টাকার নোট জাল হয়েছে যথাক্রমে ৬১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১ হাজার ২০০ টাকার।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, জাল নোট কারবারিদের দমনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুনির্দিষ্ট কোনো আইন নেই।

সে কারণে এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নে অর্থ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। সে আলোকে এরই মধ্যে একটি খসড়া আইন তৈরি করেছে মন্ত্রণালয়। এটি চূড়ান্ত অনুমোদন হলে জাল নোট কারবারিরা সহজেই জামিন পাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। একই সঙ্গে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হবে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, জাল নোট সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও সতর্কতামূলক প্রচার চালাচ্ছে। গ্রাহকরা আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। এ কারণে জাল নোটের দৌরাত্ম্য কমেছে।

যে হারে নোট জাল হচ্ছে, তার বড় অংশই আইন প্রয়োগকারী ও ব্যাংকারদের হাতে ধরা পড়ছে। এর বাইরে জাল নোটের বিস্তার থাকছে খুবই নগণ্য। তাই গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। গ্রাহকরা সন্দেহ হলে যে কোনো নোট নিজেরাও পরীক্ষা করতে পারেন।

আবার নিকটবর্তী ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিতে পারেন। কেননা এখন ব্যাংকের পাশাপাশি অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানেও জাল নোট শনাক্ত করার মেশিন রয়েছে। এছাড়াও আছে প্রশিক্ষিত জনশক্তি। প্রচলিত আইনে যার হাতে জাল নোট পাওয়া যাবে, তাকেই আইনের আওতায় আনার বিধান রয়েছে।

কোনো গ্রাহকের হাতে জাল নোট থাকলে তিনিও আইনের আওতায় আসবেন। এ কারণে জাল নোট প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরালো হচ্ছে না। এছাড়া গ্রাহক পর্যায়ে যেসব জাল নোট শনাক্ত করা হয়, সেগুলোর বিষয়ে দায়ের করা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করাও সম্ভব হচ্ছে না। কারন সাক্ষী পাওয়া যায় না। তাই মামলার জট লেগে আছে। এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে জাল মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ আইন নামে একটি নতুন আইন করা হচ্ছে।

২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে এ আইনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এতে বলা হয়, পরপর তিনবার কোনো ব্যক্তির কাছে ৫শ’ পিসের বেশি যে কোনো মূল্যমানের জাল নোট পাওয়া গেলে তাকে সর্বোচ্চ ‘যাবজ্জীবন’ কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

তবে প্রথমবার একই সংখ্যক জাল মুদ্রা পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। দ্বিতীয়বার একই ব্যক্তির কাছ থেকে তা পাওয়া গেলে তাকে সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড বা আর্থিক জরিমানা প্রথমবারের তুলনায় দ্বিগুণ অথবা উভয় দণ্ড দেয়া হবে। জানা গেছে, আইনটি পাস হলে এটি হবে দেশে জাল মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে প্রথম আইন।

আইনটি বাস্তবায়নে ‘জাতীয় এবং জেলা’ পর্যায়ে কমিটি থাকবে। কমিটির সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে আইনের আওতায় গঠন করা হবে ‘জাল মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সেল’। জাল নোট সংক্রান্ত খবর দেয়া হলে পুরস্কার দেয়া হবে সংবাদদাতাকে- এ বিধানও থাকছে আইনে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, আইনের দুর্বলতা নিয়ে দেশে জাল নোটের বিস্তার ঘটছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত জাল নোট সংক্রান্ত মামলা হয় ৮৫টি। এর আগে ২০১৭ সালে ২৮৭টি, ২০১৬ সালে ৩৪৪টি, ২০১৫ সালে ৪১০টি এবং ২০১৪ সালে ৩৬৮টি মামলা হয়।
সূত্র : যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত