প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আগামী ১০ বছর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সংকটের সময়, সমৃদ্ধি অর্জনে রোহিঙ্গা সংকট বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করেন, মোহাম্মদ আলী শিকদার

সৌরভ নূর : ব্রাসেলসভিত্তিক আন্তর্দেশীয় সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি) এমিয়া বিষয়ক এক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গার অদূর ভবিষ্যতে মিয়ানমারে ফেরার সম্ভাবনা নেই। একইসাথে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এ প্রসঙ্গে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মে. জে. (অব) মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, এতো আশাবাদের পরও ২০১৭ সালের পরবর্তী সময় থেকে আজ পর্যন্ত রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে যা ঘটে চলেছে, তাতে শঙ্কা আরো বেড়েই চলেছে, না জানি সামনে কোনো মহাসংকটে পড়তে হয়। আগেও বলেছি রোহিঙ্গা সংকটকে এখন আর ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।

তিনি আরো বলেন, কক্সবাজার হচ্ছে বাংলাদেশের লাইফ লাইন এবং স্ট্র্যাটেজিক্যালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূখ-। টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলায় স্থানীয় বাংলাদেশি নাগরিকের যে সংখ্যা তার থেকে প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি রোহিঙ্গা এখন সেখানে অবস্থান করছে। তাদের ব্যবহার করে স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত ক্ষমতাশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তি। মানবপাচার, মাদকপাচার এবং অস্ত্র চোরাচালানের মতো কাজ করে চলেছে। এটা রাষ্ট্রের জন্য কত বড় ক্ষতিকর কাজ, সেটি হয়তো ওই দুর্বৃত্তরা বুঝতে চাইবে না।

এছাড়া এতো বিশাল রোহিঙ্গা জনসংখ্যার চাপ কমানোর জন্য ভাসাণচরের মতো দেশের অন্যান্য জেলায়ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক ক্যাম্প তৈরি করে দ্রুত সেসব স্থানে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেওয়া উচিত। অন্যদিকে দেশি-বিদেশি কিছু সুবিধাবাদী এনজিও এবং ধর্মীয় কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী-সংস্থা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতর অপপ্রচার চালাচ্ছে, যাতে তারা অন্যত্র স্থাপিত নতুন ক্যাম্পে না যায়। আগামী ১০ বছর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ক্রুশিয়াল টাইম, সমৃদ্ধি অর্জনের এই সময়ে যদি এখন থেকে চার-পাঁচ বছরের মাথায় কয়েক লাখ রোহিঙ্গা কিশোর ও যুবকের একটি অংশও যদি ধর্মান্ধ উগ্র জঙ্গিবাদের খপ্পরে পড়ে, তাহলে তখন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কতোখানি হুমকির মধ্যে পড়তে পারে, সেটি সময় থাকতে ভাবা দরকার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত