প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঝগড়া বেশি মানে ভালোবাসাও বেশি!

আকতার বানু আলপনা : আমার দুই মেয়ে আধাঘণ্টা পর পর ঝগড়া করে। ঝগড়া না করলে তাদের পেটের ভাত হজম হয় না। বড়টা ছোটটাকে প্রতিনিয়ত উপদেশ কপচায়Ñ এই জামা কেন পরলে? এভাবে বলতে হয় না, চুলে এই ব্যান্ড কেন পরেছ? এসব কাজের মেয়েরা পরে ইত্যাদি । আর তাই শুনে ছোট মরিচ লুচির মতো ফুলতে ফুলতে এসে বড়টার বিরুদ্ধে আমার কাছে নালিশ করে, ‘তুমি ওই মেয়েটাকে কেন নিয়েছ? ওকে না নিলে কতো মজা হতো! আমি একা থাকতাম। কেউ আমাকে বিরক্ত করতে পারতো না। সব তোমার দোষ, সব’! ইত্যাদি।

ইদানীং বড় মরিচের খুব সাজগোজের বাতিক হয়েছে। প্রায়ই নতুন জামা, জুতা, মেকাপ কিটস কেনাকাটা চলছে। সাজুগুজু করে বান্ধবীদের সাথে ঘোরা আর ছবি। তবে বড় মরিচ নিজে নিজে সাজতে পারে না। তাকে সাজিয়ে দিতে হয়। আর সাজিয়ে দেয় ছোট মরিচ। তার হাত আবার খুব পাকা। সে নিখুঁতভাবে চুল স্ট্রেট করে দিতে পারে, চোখে আইলাইনার টেনে দিতে পারে।

সেদিন রাতে যথারীতি ঝগড়া হয়েছে। পরের দিন সকাল নয়টায় বড় মেয়ে যাবে ঘুরতে। সকালে ছোটটার স্কুল। তার উপর সে রেগে আছে। সে সাফ জানিয়ে দিলো, সাজিয়ে দিতে পারবে না। বড় মরিচ নাছোড়বান্দা। সে বললো, ‘সকালে না পারলে এখনই দাও। চকলেট দেবো’। আমি অপেক্ষা করছিলাম দেখার জন্য, ছোটজনা কী করে!

সত্যি সত্যি সাজিয়ে দিলো, রাতেই! মুখের যাবতীয় মেকআপ। আজব কথা! সকালে নির্ঘাত মুখ ধোবে না। হায়রে সাজগোজ! আমি হাসলাম। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাগডের কথা মনে পড়লো। সকালে পার্লারে যেতে পারবে না জন্য অনেক মেয়ে সন্ধ্যাবেলা সেজে এসে হলে ঢোকে। খোপা নষ্ট হয়ে যাবে বলে সারারাত শোয়না। মুখের মেকআপ ধুয়ে যাবে বলে সকালে মুখ ধোয়না! সে একটা সময় ছিলো বটে!
দুই মরিচের ঝগড়া দেখে আমার মনে হলোÑ ছোটবেলায় যাদের সাথে আমাদের ঝগড়া বেশি হয়, বড় হলে আমরা তাদেরকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি, মিস করি, তাদের যতœ করি। একই কথা প্রেম বা দাম্পত্যের বেলায়ও খাটে। যে প্রেমে ঝগড়া, মান-অভিমান বেশি, সেখানে ভালোবাসাও অনেক অনেক বেশি গভীর। যে স্বামী-স্ত্রী ঝগড়ার উপরেই থাকে, ধরে নেবেন, তাদের কোনোদিন ডিভোর্স হবে না। মর‌্যাল অব দ্য স্টোরি : সব মন্দের মধ্যেও কিছু ভালো নিশ্চয়ই আছে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত