প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শপথ নেয়ারা লাভবান হলেও বিএনপির লোকসান অনিবার্য, বললেন সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দিন

নাঈম কামাল : এখন পর্যন্ত অনুমিত হচ্ছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া দলের বাদ বাকি নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ৩০ এপ্রিলের মধ্যে এমপি হিসেবে শপথ নেবেন এবং সংসদে যাবেন। এদিকে বিএনপির নির্বাচিত ৫ নেতাকে নিয়ে দলে যেমন বহুমুখী সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে তেমনি তৃণমূলেও নানান প্রশ্ন, দ্বিধা দন্ধ ও অভিমত সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি শংশ্লিষ্ট ৫ নেতাও শপথ নিলে তাদের পরিণতি কী হবে এ নিয়ে ভাবছেন। এদিকে বিএনপি উল্লেখিত ৫ নেতার ব্যাপারে দলীয় আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে কী কী পদক্ষেপ নেয়া যায় সেটাই এজেন্ডা। বিবিসি বাংলা

মির্জা ফখরুল বিবিসিকে রোববার রাতে বলেছেন, দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকে শপথ না নিতে সিদ্ধান্ত দেয়া আছে। সেই সিদ্ধান্তের কোন ব্যত্যয় হয়নি। কেউ শপথ নিলে আমরা ব্যবস্থা নেব।তাছাড়া বিএনপি ৩০ ডিসেম্বরের ফল প্রত্যাখ্যান করেছে।এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি মাঝখানে চাউর হয়েছিলো।কিন্তু সরকার মুক্তির কোন ব্যবস্থা নেয়নি কিংবা সাড়া দেয়নি। বিএনপি নেত্রী শামা ওবায়েদ

বিবিসিকে বলেন, যদি কেউ শপথ নেন তিনি তা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে নেবেন।

এদিকে চট্টগ্রাম বিএনপি নেত্রী নার্গিস চৌধুরী বিবিসিকে বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে বিপদগ্রস্ত। নেতারা যদি শপথ নেন তা দলকে নতুন করে ঘোরতর বিপদে ফেলবে।

বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক বিবিসিকে বলেন, দল বদল দলের বিরুদ্ধে ভোট প্রদান, দলের বিরুদ্ধাচরন প্রভৃতি নিয়ে দ্যর্থবোধক আইন বিদ্যমান।আবার অনেক কিছু সুনির্দিষ্ট করেও বলা নেই। তবে সদস্যপদ বাতির হওয়ার মত ধারাও রয়েছে।

তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে বিএনপির দু’জন সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগে যোগদান করে মন্ত্রী হয়েছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে বিএনপি মামলা করেছিলো। কিন্তু মামলার রায় আসতে না আসতেই সংসদ ভেঙ্গে যায়।

বিশিষ্ট সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দিনের সঙ্গে রোববার বিবিসি কথা বলে। রিয়াজ উদ্দিন বলেন, আমাদের দেশটা বিচিত্র, রাজনীতি আরো বড় বিচিত্র। কেন অর্থবহ নির্বাচন হয় না, কেন নির্বাচিত হয়ে সংসদে যাননা। কেন দলে নেয়ার চেষ্টা হয় এসব প্রশ্নের উদ্রেক করে। যারা দল ছেড়ে যাবেন তারা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হলেও দলের যে কোন লাভ হবে না তা বলাই বাহুল্য। যারা দল ছেড়ে শপথ নিতে যাচ্ছেন তারা ভবিষ্যতে অবশ্যই লাভবান হবেন। আপাতত তাদের যে কোন ভবিষ্যত নেই সেতো স্পষ্ট।

রিয়জ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দলচ্যুতদের সেই দল কোনভাবেই ক্ষমা করতে পারে না। দল তাদের বহিস্কার করবে এটাই স্বাভাবিক। দলের পক্ষে এটা মেনে নেয়া কঠিন। কেননা এই ঘটনায় দলের ক্ষতি ছাড়া লাভ হবে না।

বিবিসির আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, মির্জা ফখরুলের পক্ষে শপথ নেয়া সম্ভব নয়। তিনি শপথ নিলেতো দলই থাকে না। তিনি রয়েছেন সবচেয়ে কঠিন অবস্থায়। তবে বিএনপির এখন মহা ক্রান্তিকাল চলছে। মাঠে নেই, দু’বার ধরে সংসদে নেই। বিএনপিকে সংসদে অথবা রাস্তায় যেকোন এক জায়গায় থাকতে হবে।

রিয়াজ উদ্দিন বলেন, বিএনপির তৃণমূল দলের সঙ্গে বেইমানীকে ভাল চোখে দেখছে না। এদিকে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে খালেদা জিয়ার মুক্তি হচ্ছে না একথা নিশ্চিত।

আওয়ামী লীগের কী লাভ হবে বিএনপির এমপিদের শপথে মদদ দিয়ে বিবিসির এ প্রশ্নে সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, বিরোধী দল বলে আসছে নির্বাচন হয়নি। কিন্তু সরকার এখন বলতে পারবে নির্বাচন ছিলো অংশগ্রহণমূলক এবং বিএনপিও পার্লামেন্টে রয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপি বিএনপির অভিযোগ নাজুক হবে। আগে বলা হত সংসদে হায়ার্ড বিরোধী দল রয়েছে। সেই অভিযোগ এখন হয়তো তীব্রভাবে অনুমিত নাও হতে পারে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত