প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আগামী ৩০ এপ্রিল নতুন নাটক আমরা তিনজন মঞ্চায়ন

ইউসুফ আলী বাচ্চু : বুদ্ধদেব বসু’র গল্প অবলম্বনে লোক নাট্যদল মঞ্চে নিয়ে আসছে লিয়াকত আলী লাকী’র নির্দেশনায় নতুন নাটক আমরা তিনজন। আগামী ৩০ এপ্রিল ২০১৯ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন।

নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন বিকাশ (প্রবীণ)-লিয়াকত আলী লাকী, বিকাশ (তরুণ)-মাস্উদ সুমন, অসিত- ফজলুলহক, হিতাংশু-আজিজুররহমানসুজন, অন্তরা-অনন্যা নীশি, দে সাহেব-স্বদেশ রঞ্জন দাস গুপ্ত, সুমি-সোনিয়া আক্তার, হীরেন বাবু-জিয়াউদ্দিনশিপন, ভৃত্য- শিশির কুমার রায়, গাড়োয়ান-আলীআজম।

নেপথ্যে: মঞ্চব্যবস্থাপনা-আজিজুর রহমান সুজন, সহকারী-শিশির কুমার রায়, আবু ইসলাম মোহাম্মদ ইতিহাস, আলোকপরিকল্পনা-নাসির”লহক খোকন, সহযোগী-সুজন মাহাবুব, শাহারিয়ার কামাল, সেট-সুজন মাহাবুব, পোষাক পরিকল্পনা-মেহেজাবীন মুমু, যন্ত্র সংগীত-জিনিয়া জাফরিন, নূর-এ-জান্নাত, আবহসংগীত-ইমামুর রশীদ, পোষ্টার ডিজাইন-আনিসুজ্জামান সোহেল, সঙ্গীত পরিকল্পনা-লিয়াকত আলী লাকী।

কাহিনিসংক্ষেপ:
বুদ্ধদেব বসু’র এই গল্পটি মূলত রচিত হয়েছে ১৯২৭ সালের ঢাকার পুরানা পল্টনকে ঘিরে। বিকাশ, অসিত এবং হিতাংশু তিনবন্ধু। দিনের বেশির ভাগ সময় তিনবন্ধু একসঙ্গে থাকে, যতটা এবং যতক্ষণ থাকা সম্ভব। তিন বন্ধুর একে অপরের প্রেমে পড়ল আবার তিনবন্ধু একসঙ্গে অন্য একজনের প্রেমে পড়ল। নাম তার অন্তরা, বাড়ির সবাই ডাকে তর” বলে। এই মেয়েটিকে ঘিরেই সারাক্ষণ তিন বন্ধুর নানা রকম জল্পনা-কল্পনা, কথাবার্তা, ভাবনা, ইত্যাদি। মূলত বর্তমান সময়ে বসে বিকাশ ১৯২৭ সালের গল্পটা স্মৃতিচারণ করছে। তিন বন্ধু’র কথা বলাবলির এক পর্যায়ে বিকাশ বলে, মেয়েটি দেখতে অনেকটা মোনালিসার মত, তিন বন্ধুর মধ্যে এ নিয়ে অনেক কথা কাটাকাটি হয় কিন্তু সেদিন থেকে একটা সুবিধা হয় এই যে, তাদের কাছে মেয়েটির নাম হয়ে যায়‘মোনালিসা’।

একদিন কাকতালীয়ভাবে রাস্তায় তাদের সাথে দেখা হয় মোনালিসা ও তার বাবা-মা’র। মোনালিসার বাবা দে-সাহেব তাদেরকে একদিন বাসায় আসতে বলে। এই কথাটির সূত্র ধরেই মেয়েটির বাড়িতে যাবার জন্য তিন বন্ধুর মধ্যে ঠেলাঠেলি ফিসফিসানি হতে থাকে। আকাশে মেঘ টিপ টিপ বৃষ্টিমুখর একটি দিনে তারা মোনালিসার বাড়ি যায় কিন্তু মোনালিসার সাথে তেমন কোন কথা বলতে পারেনা। এর মধ্যে একদিন জানতে পারে মোনালিসা টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছে, একথা শুনে তিন বন্ধুর ভীষণ মন খারাপ। এমন সময় মোনালিসার বাবা-মা তাদের সাহায্য প্রার্থনা করে। সারা দিন সারা রাত মোনালিসা মূর্ছিতের মতো পড়ে থাকে। ভুলবকে মাঝে মাঝে। আর সারা রাত পালা করে কখনো একসঙ্গে দুজন, ক্বচিৎ তিনজনই, বেশিরভাগ একলা একজন মোনালিসার সেবা করে। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত, সেই জ্বরে, ঝড়ে, থম থমে অন্ধকারে, ছম ছমে ছায়ায় দেড় মাস মোনালিসা শুয়েছিল, দেড় মাস সে তাদের ছিল। যে ক’টি কথা তারা শোনে তাই যতœ করে তুলে রাখে মনে। একের কথা অন্য দু’জনকে বলাই চাই। কখনো হঠাৎ একটু অবসর হলে তিনজন বসে সেই কথা ক’টি নিয়ে নাড়া চাড়া করে। যেন তিনজন কৃপণ সারা পৃথিবীকে লুকিয়ে তাদের মনি-মুক্তো ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখে। সারা দিন সারা রাত প্রায় এক মাস পরিশ্রম করে তারা মেয়েটিকে সুস্থ করে তোলে এবং এই সময়ে মেয়েটির সাথে তাদের একটি আত্মিক সম্পর্ক তৈরী হয়।

তারপর একদিন মোনালিসা ভালো হলো এবং শরীরটা ভালো করে সারাতে ওঁরা চলে গেল রাঁচি। তখন তিন বন্ধুর খুবই মন খারাপ হয় এই জন্য যে, তারা তাদের ঠিকানা রাখেনি। তাদের ভীষন মন খারাপ তারা চিঠি দিতে পারছেনা। তারপর যেদিন ওরা ফিরল, সেদিন স্টেশনে কচি কলা পাতা রঙের শাড়ী পরনে, লাল পাড়, লালচে মুখের রং এর মোনালিসাকে দেখে তিন বন্ধু মুগ্ধ। ট্রেনের মধ্যে মোনালিসা’র সেকি গল্প, দেখতে দেখতে তিন বন্ধু চারজন হয়ে উঠলো।

তার পর হঠাৎ একদিন মোনালিসার মা তাদেরকে ডেকে বলল, একবার তোমরা ওর জন্য অনেক খেটেছ, আরেক বার খাটতে হবে, আগামি ২৯ অঘ্রাণ ওর বিয়ে। খবরটি শুনে তিন বন্ধু হতম্ভব হয়ে গেল। শানাইয়ের সুরে চোখ ভরে গেলো জলে। বিয়ের পর মোনালিসা চলে গেল কলকাতা। মাসিমার কাছ থেকে সব খবরই পেত ওরা তিনজন। মোনালিসা ভালো আছে, হিরেন বাবু গাড়ী কিনেছেন। কলকাতায় কথা বলা সিনেমা দেখাচ্ছে, গরম পড়লেই ওরা দার্জিলিং বেড়াতে যাবে। একদিন হঠাৎ মাসিমা বললো মোনালিসা ঢাকায় আসছে এবং সে অন্তসত্তা। অন্তসত্তা মোনালিসাকে ঢাকায় রেখে কলকাতা ফিরে গেলেন হিরেন বাবু। তিনবন্ধু মোনালিসাকে ঘিরে রইলো সব সময়। ও যাতে ভালো থাকে, কখনো মন খারাপ না করে, সেই চেষ্টাতেই দিন কাটে তিন বন্ধুর। এক অমাবশ্যার রাতেএলো সেই মূহুর্ত। প্রসব বেদনায় ছটফট করছে মোনালিসা, একটা চাপা কান্না, তিন বন্ধুর পিট ফুঁড়ে বুকের মধ্যে ঢুকলো। যেন পৃথিবীর প্রাণে আঘাত দিয়েছে কেউ। তিন বন্ধু রুদ্ধশ্বাসে প্রতীক্ষা করছিলো শীতের রাতে, মাঠের মধ্যে, না খেয়ে, না ঘুমিয়ে, অদৃষ্টের মুখোমুখি। ভোরের প্রথম ছাই রঙা আলোয় ওরা দেখলো দে সাহেবের বেদনার্ত নির্বাক মুখ।

রাশি রাশি ফুল আরো কত কিছু, শুধু সাজাল, শুধু সাজাল। তার পর অন্তিম যাত্রায় নিয়ে যাওয়ার সময় সকলের আগে রইল অসিত আর হিতাংশু। বিকাশ পিছনে হেঁটে চলল একা একা।

দেখতে দেখতে বহুদিন চলে গেল, দে সাহেব চলে গেলেন বদলি হয়ে। অসিত স্কুল পাশ করে চাকরি নিয়ে চলে গেল তিন সুকিয়ায়। কি যেন এক অজানা রোগে মারা গেলো সেখানেই। হিতাংশু এম.এস.সি পাশ করে জার্মানিতে চলে গেলো, আর ফিরে এলোনা। ‘আর আমি- আমি এখনো আছি, ঢাকায় নয়, পুরানা পল্টনে নয়, ঊনিশশো সাতাশ কি আটাশে নয়, সেসব আজ মনে হয় স্বপ্নের মতো, কাজের ফাঁকে ফাঁকে একটু স্বপ্ন, ব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে একটু হাওয়া- সেই মেঘে ঢাকা সকাল, মেঘে ঢাকা দুপুর, সেই বৃষ্টি, সেই রাত্রি, সেই- তুমি! মোনালিসা, আমি ছাড়া আর কে তোমাকে মনে রেখেছে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত