প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অনিয়মের বেড়াজালে কুমিল্লা নাঙ্গলকোটের পুজকরা উচ্চ বিদ্যালয়

মাহফুজ নান্টু : ঐতিহ্যবাহী পুজকরা উচ্চ বিদ্যালয়টি অনিয়মের বেড়াজলে আটকে রয়েছে। বিদ্যালয় ম্যানেজিং-ও শিক্ষকদের অনিয়মের কারনে ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা নাঙ্গলকোট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়টি এখন শিক্ষার্থী শূন্য হয়েছে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ একটি মহল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যবহার করে নিজেরা বিত্তবৈভের মালিক হয়ে বিদ্যালয়টিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। এ কারনে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের সন্তান-সন্ততির লেখাপড়া নিয়ে চরম দু:চিন্তায় রয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দা বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অনিয়ম দূর্নীতির কারনে বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাচ্ছে। সেই সাথে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একঘেয়েমি আচরণে বিদ্যালয়ের বার্ষিক ফলাফল এবং জেএসসি ও এসএসসি ফলাফলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয়টিতে এমন অবস্থা সৃষ্টির নেপথ্য খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মো:হাসানুজ্জামানসহ অন্যান্য দাতা সদস্যদের বাদ গোপনে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনে অভিভাবকদের নিয়ে উন্মুক্ত নির্বাচন করার নিয়ম থাকলেও একটি মহল গোপনে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠন করে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা,পর্যাপ্ত শিক্ষক ও অবকাঠামোগত সকল সুবিধা থাকা সত্বেও অনিয়ম দূর্নীতির কারনে ঐতিহ্যবাহী পুজকরা বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষাসহ জেএসএসি-এসএসি পরীক্ষার গড় ফলাফল বেশ খারাপ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি বেগম স্বীকার করেন হ্যাঁ আমাদের পুজকরা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষাসহ জেএসসি-এসএসসি পরীক্ষার গড় ফলাফল শতকরা ১৫-১৬ ভাগ। সকল সুবিধা বিদ্যমান থাকা স্বত্বেও গড় ফলাফল এমন কেন এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি বেগম জানান, আসলে ইংরেজী ও গণিত বিষয়ে শিক্ষার্থীরা ফেল করে বেশী। যে কারনে বিদ্যালয়ের গড় ফলাফল এমন। তাহলে ইংরেজী ও গণিত বিষয়ের শিক্ষকদের সাথে ইংরেজী ও গণিত বিষয়ে মানোন্নয়নে কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন চাইলেই সব কিছু করা সম্ভব না।
পরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে এখানে আমার কিছু করার নেই। প্রতিষ্ঠাতাকে বাদ দিয়ে কেন কমিটি করা হচ্ছে এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি বেগম জানান, এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আভ্যন্তরীন কোন্দল রয়েছে। যে কারনে আমি চাইলেও এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। কমিটির বিষয়ে শিক্ষাবোর্ডে অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। শেষ হলে জানা যাবে।

এদিকে নাম না প্রকাশ করার শর্তে স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে অন্তত অর্ধশত লোকজন নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার এমন ভঙ্গুর বিষয়ের জন্য গনিত বিষয়ের শিক্ষক মো:শহীদুল ইসলাম দায়ী। স্কুলের জেএসসি-এসএসসিসহ বার্ষিক পরীক্ষায় পাশের গড় ফলাফল ১৫-১৬ ভাগ হওয়ার জন্য দায়ী গনিতের শিক্ষক মো:শহীদুল ইসলাম। কারণ বার্ষিক পরীক্ষা,জেএসসি-এসএসসি পরীক্ষায় বেশিরভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয় গণিতে।গণিতের শিক্ষক ক্লাশে গণিত শিখানোর চেয়ে প্রাইভেট পড়াতেই বেশী মনোযোগী। তিনি স্কুলে ও নিজের বাড়ীতে ব্যাচে শিক্ষার্থীদের পড়াতে বেশি ব্যস্ত থাকেন। স্কুলের শিক্ষার্থীরা জানান, স্যার ক্লাশে পড়ানোর চেয়ে প্রাইভেট পড়ানোর জন্য বেশী চাপ দেন। এ কারনে সবার সামর্থ্য না থাকার কারনে প্রাইভেট পড়তে পারে না। তাই গণিত বিষয়ে বেশী অকৃতকার্য হয় শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে কুমিল্লা আঞ্চলিক শিক্ষাবোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক মো:আজহারুল ইসলাম জানান, একজন শিক্ষক এমনটা করতে পারে না। যদি অভিযোগের সত্যতা মিলে তাহলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন, ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোট গ্রহণসহ সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হবে এটাই নিয়ম। এখন যদি কোন বিদ্যালয়ে যদি গোপনে কেউ পরিচালনা কমিটি গঠন করে কিংবা উপজেলা শিক্ষা অফিসারও যদি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায় তবে তা অন্যায় হবে। আর যদি পুজকরা উচ্চ বিদ্যালয়ে এভাবে কমিটি গঠনে এমন তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায় তাহলে আমরা অবশ্যই শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান স্যারকে নিয়ে সভা করে এ বিষয়ের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এদিকে স্কুলে গত ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের জন্মদিন পালনের জন্য রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা থাকা সত্বেও তা অমান্য করে বিদ্যালয়ে কোন কর্মসূচী নেয়া হয় নি। আওয়ামীলীগ ও অংগসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে সরকারের উচ্চ মহলের কাছে বিষয়টির সুষ্ঠ তদন্ত দাবী করে দায়ীদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানান।

পুজকরা উচ্চ বিদ্যালয়ের এমন অনিয়ম দূর্নীতি অব্যবস্থানা ও বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী-গড় ফলাফল কমে যাওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরলে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর রহুল আমিন জানান, এ বিষয়ে আমি শুনেছি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে পুজকরা স্কুলে সরকারী কর্মসূচি পালনে অনিহা এবং শিক্ষকদের ক্লাশে পাঠদান না করে প্রাইভেট পড়ানোর বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোঃআবুল ফজল মীর জানান, অবশ্যই অভিযোগুলো খতিয়ে দেখবো।তারপর বিদ্যালয়টির মানোন্নয়নে যা করার তাই করবো।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত