প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বরিশালে মাদক মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা কারাগারে

খোকন আহম্মেদ হীরা : মাদক মামলায় বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুর রহমান মনির মোল্লাকে জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রবিবার দুপুরে মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।

মাদকের পৃথক দুটি মামলায় মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুর রহমান মনির মোল্লাসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) জসিম উদ্দিন ২০১৮ সালের ২১ ডিসেম্বর কোতয়ালি মডেল থানার সংশ্লিষ্ট জিআরও শাখায় এ চার্জশীট জমা দিয়েছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে দায়ের হওয়া দুটি মামলার চার্জশীটভূক্ত অভিযুক্ত আসামিরা হলো-বাকেরগঞ্জের নিয়ামতি ইউনিয়নের মহেষপুর গ্রামের মৃত শাহজাহান মুন্সির পুত্র জাহিদুল ইসলাম, একই ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের বাসিন্দা কামরুজ্জামান তালুকদারের পুত্র কামরুল ইসলাম তালুকদার, মেট্রোপলিটন পুলিশের এসএএফ শাখার কনস্টেবল ও বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের হলতা গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান সিরাজের পুত্র সাইফুল ইসলাম সানি।
এছাড়া তদন্তে পাওয়া আসামিরা হলো-নগরীর ২৫নং ওয়ার্ডের মোল্লাবাড়ির বাসিন্দা মৃত ইছাহাক মোল্লার পুত্র মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুর রহমান মনির মোল্লা, ঝালকাঠি জেলার আখরপাড়া গ্রামের আব্দুল বারেক চৌধুরীর পুত্র শামীম চৌধুরী, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় শ্রেণি স্টাফ কোয়ার্টাসের বাসিন্দা মাঈনুদ্দিনের পুত্র নাসির উদ্দিন, বাকেরগঞ্জের কালিদাসিয়া গ্রামের রশিদ খানের পুত্র রূপাতলী ২৩নং ওয়ার্ডের নাসির উদ্দিনের ভাড়াটিয়া নাসির খান, পশ্চিম চরকাউয়া ২ নং ওয়ার্ডের আব্দুল হক হাওলাদারের পুত্র মিলন, কক্সবাজারের টেকনাফের বাসিন্দা আব্দুর রহমানের পুত্র সৈয়দ মোর্শেদুর রহমান, একই এলাকার দ্বীপশ্রীকুল গ্রামের সশাংক বড়ুয়ার কন্যা রত্না বড়ুয়া, বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের রুনশী গ্রামের চেরাগ আলী হাওলাদারের পুত্র আজিজুল হক, ঝালকাঠি সদরের বাসিন্দা জামাল হাওলাদারের স্ত্রী রেকসোনা বেগম, দিনাজপুরের মাছপাড়া ভাবকি গ্রামের আতিকুর রহমানের পুত্র আব্দুস ছালাম, টেকনাফের দরগাহছড়া গ্রামের আলী আন্তরের পুত্র জাহেদ হোসাইন ও ময়মনসিংহের গারাজান মধ্যপাড়ার বাসিন্দা হোসেন মুন্সির পুত্র সোহেল।

সূত্রমতে, ২০১৭ সালের ২২ সেপ্টেম্বর নগরীর রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকার ওজোপাডিকো গেটের সামনে থেকে জাহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে ৫২পিচ ইয়াবাসহ আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ওজোপাডিকোর রেষ্ট হাউসে তারই কক্ষ থেকে দুইশ’ পিচ ইয়াবাসহ কামরুল ইসলাম ও এক’শ পিচ ইয়াবাসহ পুলিশ কনস্টেবল সাইফুল ইসলামকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়া জাহিদের বিছানার নিচ থেকে আরও একশ’ পিচ মিলিয়ে মোট ৪৫২পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এসআই দেলোয়ার হোসেন বাদি হয়ে কোতয়ালি মডেল থানায় পুলিশ কনস্টেবলসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে। তবে ঘটনার সময় মনির মোল্লা ওইস্থানে থাকলেও ডিবি পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠে। পরবর্তীতে ইয়াবাসহ আটক জাহিদুল ইসলাম আদালতের কাছে ১৬৪ ধরায় জবানবন্দিতে জানায়, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুর রহমান মনির মোল্লা তাকে ওজোপাডিকো রেষ্ট হাউসে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। কয়েকটি ইয়াবার চালান এনেছেন মনির মোল্লা। এরমধ্যে ইয়াবা বিক্রিতে ২০ হাজার টাকা লাভ হলে ১০ হাজার টাকা তাকে দিতে হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, মনির মোল্লার সাথে মাদক ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলামের সার্বক্ষনিক যোগাযোগ ছিলো। গত ২০ জুলাই থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারা দু’জন মোবাইল ফোনে এক হাজার ৮৩৫ বার কথা বলেছে। একই সময় ৬৬৯টি ক্ষুদেবার্তা (এসএমএস) আদান প্রদান করেছেন। তাছাড়া শুধুমাত্র ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মনির ও জাহিদের ২৪২ বার এবং ২২ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা হতে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত মোট ২২ বার কথা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে আদান প্রদান হয় ১১৮টি এসএমএস। যার বেশিরভাগই ইয়াবা ক্রয়-বিক্রয় ও লাভের টাকার বিষয়ে কথোপকথন হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত