প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিদ্যুৎ সংযোগের নামে অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ গ্রাহকদের মানব বন্ধন

আজহারুল হক : বিদ্যুৎ সংযোগের নামে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চরকামারিয়া, উজানপাড়া, পূর্বপাড়া, মধ্যেরটেক, নতুনচর ও চরমছলন্দ উত্তর নয়াপাড়া এলাকার ১১০০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ৫৫ লাখ ১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার দুপুর দুইটার দিকে গ্রাহকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন। পরে ওই গ্রাহকেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মাহবুব উর রহমান বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এলাকার বেশ কয়েকজন বিদ্যুৎ গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চরকামারিয়া, উজানপাড়া, পূর্বপাড়া, মধ্যেরটেক, নতুনচর এলাকার ১১০০টি বাড়িতে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চরকামারিয়া মধ্যপাড়া গ্রামের মাসুদ, রোস্তম আলী ও চরকামারিয়া মধ্যেরটেক এলাকার আনোয়ার হোসেন, উত্তর নয়াপাড়া গ্রামের রুনু ফরাজি, মিরাজ, জামিল মন্ডল এবং কিনার আলগী চরের এমদাদ ৫৫ লাখ ১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। ওই প্রতারকরা প্রতিটি বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য প্রত্যেক গ্রাহকের কাছ থেকে ৫ হাজার ৩০০ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা করে উত্তোলন করেছেন। টাকা নেওয়ার পর সাত-আট মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো বিদ্যুৎ-সংযোগ পায়নি ওই সব পরিবার।

ভুক্তভোগী বিদ্যুৎ সংযোগ প্রত্যাশী চরকামারিয়া গ্রামের শামীম, মুইনুদ্দিন আল হাবীব, রফিকুল ইসলাম, মফিজ উদ্দিন, রিয়াদ মিয়া, দুলাল উদ্দিন, মফাজ্জল হোসেন, ছাইদুল ইসলাম, হানিছ, রাশিদ, এনামুল, হালিম, জামিল ও স্বপনহ অর্ধশতাধিক গ্রাহক বলেন, তাঁদের এক মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ এনে দেওয়ার নাম করে উক্ত প্রতারকরা দু-তিন দফায় জনপ্রতি ৫ হাজার ৩০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকা করে নিয়েছেন। অথচ এখন শুনতে পাচ্ছেন, সংযোগপ্রতি নাকি সরকারি খরচ মাত্র ৪৫০টাকা। অথচ এতগুলো টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরেও তাঁদের গ্রামে বিদ্যুৎ আসার কোনো খবর নেই।

বিল্লাল ও জলিল নামে দুই গ্রাহক বলেন, ‘ বাড়িতে কারেন্ট আনার জন্য আমাদের ছাগল ও হাঁস, মুরগি বিক্রি করেছি। তার পরেও কারেন্টের আলো দেখতে পাই নাই। কারেন্ট পেলেওতো একটু সান্তনা পেতাম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ গফরগাঁও কার্যালয়ের ডিজিএম শামীম আলম বলেন, বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য অফিস খরচ মাত্র ৪৫০ টাকা। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ নিয়ে কিছু লোকজন এসেছিলেন। বিদ্যুৎ সংযোগের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ে আমার অফিসের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত নয়। গ্রাহকরা যাতে দালালদের খপ্পরে না পড়েন সে জন্য আমরা মাইকিং ও পোষ্টারিং করেছে। তারপরেও গ্রাহকরা দালালদের কাছে টাকা দিয়ে প্রতারিত হলে সেখানে আমার বা আমাদের কি করার আছে।

এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মাহবুব উর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত