প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কুড়িগ্রামের ‘মরিয়ম বুবু’ বেকার তরুণী ও বিধবাদের ভরসার নাম

মো.আল-আমিন: সকলের কাছে তিনি মরিয়ম বুবু নামেই পরিচিত। সংসারের অভাব মোচনে দজির্র কাজ শেখেন। দক্ষতা এবং সৃজনশীলতা দিয়ে তিনি নিজের অভাব মোচনের পাশাপাশি কুড়িগ্রামের বেকার যুবতী ও বিধবা মহিলাদের ভরসার নাম হয়ে উঠেছেন। বাসস

দূর-দূরান্ত থেকে পুরুষরাও ছুটে আসছেন এই বুবু’র কাছে। যদি কাজ শিখে দু’পয়সা বাড়তি উপার্জন করা যায়। নিজ উদ্যোগে খুলেছেন মহিলা উন্নয়ন সমিতি। সদস্য তিনশ।

মাত্র ১৫ বছরে বয়সে দর্জি দেলোয়ার হোসেনের সাথে তার বিয়ে হয়। দরিদ্র স্বামীর সংসারে সন্তান আসার পর টানাটানিটা যেন বেড়েই চলছিল। স্বামীর কাছ থেকে দর্জির কাজ শিখে নেন উদ্যমী মরিয়ম বেগম। এরপর প্রশিক্ষণ নেন আধুনিক পোশাক তৈরীর কলা কৌশলের। হয়ে ওঠেন দক্ষ প্রশিক্ষক। চারদিকে ছড়িয়ে পরে তার নাম।

তিনি ২০০৬ সালে গড়ে তোলেন ‘আস্করনগর বাণিয়াটারী মহিলা উন্নয়ন সমিতি’। এলাকার গরীব ও বিধবা মহিলাদের ডেকে এনে তিনি সেলাই প্রশিক্ষণসহ ১৬ ধরণের কুটির শিল্পের প্রশিক্ষণ দেন। এসময় তিনি তিনশ নারীকে সমিতির মাধ্যমে সেলাই প্রশিক্ষণসহ টেইলারিংয়ের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন। গোটা জেলায় তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।

তার এই কর্মকান্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৪ সালে নাগেশ্বরী উপজেলা প্রশাসন থেকে জয়িতা সম্মাননা পান। ২০১৫ সালে ডায়বেটিকসে আক্রান্ত স্বামী মারা যাওয়ার পর নারীদের আর্থিক উন্নয়নে সহযোগিতার লক্ষ্যে ঘরের বাইরে বেরিয়ে পরেন তিনি। এই জয়িতা ও উদ্যমী নারী মরিয়ম বেগম বর্তমানে লালমনিরহাট, দিনাজপুর, রাজশাহী, নোয়াখালী ও কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং ও লিফলেট প্রচারণার মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে হাজার হাজার তরুণী ও যুবতী মহিলাদেরকে সেলাই প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।

মরিয়ম বেগম জানান, আর্থিক অনুদান পেলে তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় মিনি গার্মেন্ট দিয়ে এলাকার হতদরিদ্র যুব-যুবতীদের কর্মসংস্থার সুযোগ সৃষ্টি করবেন। এজন্য সরকারের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা চান তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত