প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জঙ্গি হামলার শঙ্কা, তৎপর র‌্যাব-পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : শ্রীলংকায় সন্ত্রাসবাদী হামলার পর শনিবার একটি ভারতীয় গণমাধ্যমে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বাংলাদেশে হামলার হুমকির খবর প্রচারের পর বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে সরকার। ব্রুনাই সফর শেষে দেশে ফিরে গত বৃহস্পতিবার রাতে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন বাহিনীর প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

ওই বৈঠকের আগে একই দিন পুলিশ সদর দপ্তরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবারও আইজিপির বাসভবনে এক অনুষ্ঠানে পুলিশ ও র‌্যাব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ সময় শ্রীলংকার সন্ত্রাসী হামলার ধরনও পর্যালোচনা করা হয়।

ভারতীয় গণমাধ্যমে ‘আইএস আসছে বাংলায়’ এবং ‘বাংলাদেশে হুমকির আশঙ্কা’ এই খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশ আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি মসজিদ, মন্দিরসহ দেশের সব উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে আইএসের ওই বাংলা পোস্টারের খবর ভুয়া বলে দাবি করেছেন সুইডেনে অবস্থানরত বাংলাদেশি সাংবাদিক তাসনিম খলিল। ইনডিপেনডেন্ট ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের সম্পাদক তাসনিম খলিল শনিবার বিকেলে তার ফেইসবুক পেইজে স্ট্যাটাস দিয়ে বলেন, ‘আইএসের নতুন একটা অনুবাদ বিভাগ আছে আল মুরসালাত। এদেরই বাংলা বিভাগ নতুন একটা নাশীদ (ধর্মীয় গান) রিলিজ করার আগে তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দিছিল : ‘শীঘ্রই আসছে ইনশাল্লাহ’।’

শনিবার ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরের পর প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, তারা নয়াদিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কারণ শ্রীলঙ্কায় হামলার আগেও ভারত দেশটিকে সতর্ক করেছিল। তাই কোনো আশঙ্কা না থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ নিরাপত্তা জোরদার করছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, আমরা জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে সব সময়েই সতর্ক। বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ যেভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তা মোকাবিলা করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘বাংলাদেশ এই জঙ্গি সন্ত্রাসের ঝুঁকিতে রয়েছে, তবে হামলার আশঙ্কা নেই। তারপরও আমরা সতর্ক।’

এদিকে র‌্যাব ও পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা কয়েক ধাপ বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের সব রেঞ্জের ডিআইজি ও ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারদের আরও কঠোর হতে সদর দপ্তর থেকে নতুন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ঢাকাসহ সারা দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নতুন করে আরও জোরালো অভিযান চালাতেও বলেছে পুলিশের হাইকমান্ড। তা ছাড়া দেশের সব বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনসহ ২৯টি সংস্থাকে সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘দেশে কোনো জঙ্গি হামলার আশঙ্কা নেই। তারপরও আমরা বেশ সতর্ক আছি। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থানে কঠোর নিরাপত্তা আছে। বাংলাদেশে কোনো আইএস নেই, এর অস্তিত্বও নেই। একটি মহল আইএসের নামে নানা প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমাদের নজরদারি আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। সামনে আরও জোরালো অভিযান চালানো হবে।’

শনিবার ঢাকার কয়েকটি স্থানে সরেজমিনে দেখা গেছে, অন্য দিনের তুলনায় পুলিশ ও vর‌্যাবের টহল বেশি। শাহজালাল বিমানবন্দরেও আগের চেয়ে বেড়েছে নিরাপত্তার কড়াকড়ি। হোটেল সোনারগাঁও ও ইন্টারকন্টিনেন্টালেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। মহাখালী বাসস্ট্যান্ড ও কমলাপুর রেলস্টেশনেও দেখা গেছে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনের উপস্থিতি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ শনিবার আইজিপির বাসভবনে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান হয়। সেখানে পুলিশ ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসেন। সবাই শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলার ধরন নিয়ে কথা বলেছেন। আইএসের হুমকি নিয়েও কথা হয়েছে। আইজিপি স্যারও কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। মসজিদ-মাদ্রাসায় যাতে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে বলেছেন।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তথ্য এসেছে, সিরিয়া, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে আত্মগোপনে থাকা বাংলাদেশি জঙ্গিরা ফিরে আসার চেষ্টা চালাচ্ছে। সম্প্রতি সিরিয়ায় আইএসের পতনের পর বেকায়দায় পড়েছে জঙ্গিরা। ওইসব দেশের পুলিশের তাড়া খেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করছে। তাদের প্রবেশ ঠেকাতে দেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সীমান্তে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।’

হযরত শাজহালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত এপিবিএনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে আত্মগোপনে থাকা জঙ্গিরা যাতে আসতে না পারে সেজন্য আমাদের সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ করে আইএস জঙ্গিদের ব্যাপারে আমরা বেশি সতর্ক। পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপি থেকে নিরাপত্তার বিষয়ে বেশকিছু নির্দেশনা এসেছে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত