প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আইএস হুমকির সত্যতা যাচাই করছে সিটিটিসি

ডেস্ক রিপোর্ট : আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হামলার ছক তৈরি করছে- আশঙ্কাজনক এমন একটি বার্তা সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি শ্রীলংকায় ভয়াবহ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আইএসের কথিত এই হামলার হুমকি উদ্বেগের মাত্রা বাড়িয়েছে। তবে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত সংস্থা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) সূত্র জানিয়েছে, এ হুমকির সত্যাসত্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে। এটি আসলেই হুমকি নাকি আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কোনো পক্ষ এটি করছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সমকাল।

গত বৃহস্পতিবার আইএসপন্থি একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত একটি পোস্টারের সূত্রের বরাত দিয়ে হামলার হুমকি সম্পর্কে শনিবার প্রথম খবর প্রকাশ করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া। খবরে বলা হয়েছে, ওই পোস্টারে বাংলায় লেখা আছে, ‘শীঘ্রই আসছি, ইনশাআল্লাহ’। শ্রীলংকায় একাধিক গির্জা ও হোটেলে ভয়াবহ হামলার এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই এমন হুমকি মুহূর্তের মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশের সব গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, গোয়েন্দাদের হাতে আসা পোস্টারটি তারা আরও পর্যালোচনা করে দেখছেন।

পোস্টারে ‘শীঘ্রই আসছি, ইনশাআল্লাহ’ লেখার পাশাপাশি আল মুসারাত নামে একটি গোষ্ঠীর লোগো যুক্ত করা হয়েছে। এ থেকেই ভারতীয় গোয়েন্দারা ধারণা করছেন, এটি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে হামলার ইঙ্গিত। তবে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে পোস্টারটির ছবি দেয়া হয়নি। প্রতিবেদনে আইএসের পতাকা ব্যবহার করা হয়েছে। আইএসের সহায়তায় স্থানীয় ন্যাশনাল তাওহিদ জামাতের (এনটিজে) মাধ্যমে শ্রীলংকায় ভয়াবহ হামলার পর গোয়েন্দারা পোস্টারটি যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে দেখছেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, স্থানীয় জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীনের (নব্য জেএমবি) মাধ্যমে বাংলাদেশে এরই মধ্যে অবস্থান পাকা করেছে আইএস। জেএমবি পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাসহ কয়েকটি স্থানে এবং প্রতিবেশী কিছু রাজ্যে সদস্য নিয়োগ করেছে এবং আস্তানা গেড়েছে। এ ছাড়া নতুন সদস্য নিয়োগ ও সদস্য সংগ্রহের জন্য তাদের দুই বাংলায় যাতায়াত রয়েছে। নতুন সদস্য সংগ্রহের জন্য তিন বছর আগে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে অনুরূপ পোস্টার প্রকাশ ও বিতরণ করেছিল আইএস।

শ্রীলংকায় ইস্টার সানডের অনুষ্ঠান চলাকালে সিরিজ বোমা হামলার পর একটি ভিডিও প্রকাশ করে এর দায় স্বীকার করে আইএস। ওই ভিডিওতে হামলাকারীদের আইএস নেতা আবু বকর আল বাগদাদীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে দেখা যায়। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ভারতীয় গোয়েন্দারা আইএসের নতুন হামলার ছক সম্পর্কে তথ্য দিলেন। শ্রীলংকায় হামলার আগেও কয়েক দফায় ভারতীয় গোয়েন্দারা দেশটিকে সতর্ক করেছিলেন। ফলে নতুন এই হুমকিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকায় হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় ২০ জন নিহত হওয়ার পর এর দায় স্বীকার করেছিল আইএস। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তা প্রত্যাখ্যান করে বলা হয়েছিল, দেশে আইএস নেই।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে কলকাতার বাবুঘাট এলাকা থেকে আরিফুল ইসলাম নামে এক জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। ২০১৮ সালে বুদ্ধগয়ায় বিস্ম্ফোরণের জন্য অন্যতম অভিযুক্ত তিনি। ওই বিস্ম্ফোরণের দায়ে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা ভারতের আসামের চিরাঙ জেলায় একটি জঙ্গি ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ নেয়ার কথা স্বীকার করেছিল।

পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান রেলস্টেশন থেকে গত জুলাইয়ে পশ্চিমবঙ্গ সিআইডির হাতে গ্রেফতার জেএমবির সদস্য মোহাম্মদ মুসিরুদ্দিন ওরফে মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই)। তামিলনাড়ুর তিরুপুর জেলায় বহুদিন লুকিয়ে ছিলেন মুসা। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ২০১৪ সালের খাগড়াগড়ে জোড়া বোমা হামলার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া জেএমবির অন্যতম নেতা আমজাদ শেখের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত